শিরোনামঃ-

» কুরবানী সংক্রান্ত কিছু জরুরী মাসায়েল

প্রকাশিত: ২১. মে. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

Manual3 Ad Code

মাওলানা হারুনুর রশীদঃ
কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করেনা তার ব্যাপারে হাদিস শরীফে এসেছে, যার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করেনা সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।
মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস ৩৫১৯

❖ কার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব:
মাসআলাঃ প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী যে ১০ জিলহজ্জ ফজর থেকে ১২ জিলহজ্জ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা সোনা-রূপা, অলংকার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসেনা এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ী, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানী নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাব যোগ্য।

আর নেসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নেসাব হল-এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা পয়সা এগুলোর কোন একটি যদি পৃথক ভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
আলমুহিতুল বুরহানী ৮/৪৫৫ পৃ:

❖ কুরবানী করতে না পারলে
মাসআলাঃ কেউ যদি কুরবানী দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপরে কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করেছিল কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদক্কা করে দিবে।
ফত্ওয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৫

Manual3 Ad Code

❖ কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে
মাসআলাঃ উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিন, বন্য গরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।
ফত্ওয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮ পৃ;

❖ কুরবানীর পশুর বয়সসীমা:
মাসআলাঃ উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কম হয় কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে এক বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাস বয়সের হতে হবে। উল্লেখ্য ছাগলের বয়স এক বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েজ হবেনা।
ফত্ওয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮ পৃ;

মাসআলাঃ উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যে কোনো সংখ্যা যেমন দুই তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। অর্থাৎ কুরবানীর পশুতে এক সপ্তমাংশ বা এর অধিক যে কোনো অংশে অংশীদার হওয়া জায়েজ।

Manual4 Ad Code

এক্ষেত্রে ভগ্নাংশ যেমন দেড় ভাগ, আড়াই ভাগ, সাড়ে তিন ভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই।
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩১৮

Manual4 Ad Code

❖ কোরবানীর পশুতে আকিকার অংশ:
মাসআলাঃ কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে শরিক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকিকা দুটোই সহিহ হবে।
রদ্দুল মুখতার ৬/৩৬২

মাসআলাঃ শরিকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী সহিহ হবেনা।

মাসআলাঃ যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে একা কুরবানী করা ভালো। শরীক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম।
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০ পৃ:

❖ রুগ্ন ও দুর্বল পশু কুরবানী:
মাসআলাঃ এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারেনা তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।
জামে তিরমিজ ১/২৭৫ পৃ:

❖ দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী
মাসআলাঃ গরু ছাগলের অধিকাংশ দাঁত না থাকলেও যে কয়টি দাঁত আছে তা দ্বারা যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে তবে সেটি দ্বারা কুরবানী সহিহ। কিন্তু দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারে তবে ঐ পশু কুরবানী করা যাবেনা।
ফতওয়ায়ে আলমগিরী ৫/২৯৮ পৃ:

❖ যে পশুর শিং ভেঙে বা ফেটে গেছে
মাসআলাঃ যে পশুর শিং একবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশু দ্বারা কুরবানী জায়েয নয়। কিন্তু শিং ভাঙ্গার কারণে মস্তিষ্কে যদি আঘাত না পৌঁছে তাহলে সেই পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয।

আর যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে বা শিং একবারেহী উঠেনি সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ।
জামে তিরমিজি ১/২৭৬ পৃ:

❖ কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী
মাসআলাঃ যে পশুর লেজ বা কোন কান অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশী কাঁটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের কম হয় তাহলে কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগত ভাবে যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই।
জামে তিরমিজি ১/২৭৬ পৃ:

❖ মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী
মাসআলাঃ মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েজ। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসাবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবেনা গরিব মিসকিনদের মাঝে-সদকা করে দিতে হবে।

❖ কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো
মাসআলাঃ কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। অবশ্যই এ সময় ঘরের ও অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদের কেও গোশত খাওয়ানো যাবে।
ইমদাদুল মুফতিন ৮০২ পৃ:

Manual7 Ad Code

❖ জবাইকারী কে পারিশ্রমিক দেওয়া
মাসআলাঃ কুরবানীর পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া নেওয়া জায়েজ। তবে কুরবানীর পশুর কোন কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না।
কিফায়াতুল মুফতি/২৬৫ পৃ:

লেখকঃ
মাওলানা হারুনুর রশীদ
ইমাম ও খতিব, বড়শলা, নয়াবাজার জামে মসজিদ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২ বার

Share Button

Callender

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031