- শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
- সিএনজি শ্রমিক নেতা তিতাসকে অপহরণ ও সাজানো মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে শাহী ঈদগাহ উপ-পরিষদের মানববন্ধন
- চেম্বার নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম তুলে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের কার্যক্রম শুরু
- দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র জিয়ার সৈনিকদের রুখে দিতে হবে : এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী
- কোন চক্রান্তই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না : খন্দকার মুক্তাদির
- সিলেট বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন
- সারি ঘাট লালাখাল চা বাগানে গীতা কোর্সের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ
- শাহ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে “স্মরণে বাউল করিম” অনুষ্ঠিত
- কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট অঞ্চলের বাতিঘর : ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান
- রাজকীয় সৌদি দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সিলেট বিভাগীয় বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত
» শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
সিলেটকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের সিলেটি কর্মকর্তাদের আরও কাজ করতে হবে : সিসিক প্রশাসক
নিউজ ডেস্কঃ
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সিলেট বিভাগের পিছিয়ে পড়ার কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, সিলেটের মানুষের মেধা ও সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই; প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব, শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুণগত শিক্ষার প্রসার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। শহর ও গ্রামীণ জনপদ—উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় গড়ের তুলনায় সিলেটের অবস্থান নিচে। বিদ্যালয়ের সংখ্যা, পাসের হার, প্রাথমিক শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতার ক্ষেত্রেও এই পিছিয়ে থাকা দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সক্ষমতার কোনো অভাব নেই। এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ ইংল্যান্ড, উত্তর আমেরিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
শিক্ষা, রাজনীতি ও বিভিন্ন পেশায় তারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। তাই সিলেটের পিছিয়ে থাকার কারণ মেধার ঘাটতি নয়; অবকাঠামোগত সমস্যা এবং নেতৃত্বের দুর্বলতাসহ কাঠামোগত কিছু সমস্যা এর সঙ্গে জড়িত।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের রিডিং, নিউমেরেসি এবং মৌলিক বিষয়গুলোর প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। সে অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক আছেন কি না, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাঠামোগত বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটের কারণে পর্যাপ্ত খাবার না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিলের প্রয়োজন রয়েছে।
বর্তমান সরকার এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে এবং সরকারের প্রধান নির্বাচনী ইশতেহারে মিডডে মিলের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতা বাড়াতেও সরকার একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করছে।
সিলেটে কারিগরি শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি সরাসরি যুক্ত। এ অঞ্চলে নতুনভাবে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে বিদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে সিলেটে একটি এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সিলেটে অনেক ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। কেউ মাসে কয়েকশ ডলার, কেউ কয়েক হাজার ডলার এবং বাংলাদেশে কেউ কেউ আরও বেশি আয় করছেন। অর্থাৎ সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো।
সিলেটের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সমস্যার সঙ্গে সামাজিক সমস্যারও যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কিছু পরিবার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়। এই ধরনের সামাজিক সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।
সিলেটকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো ও শিক্ষা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রশাসনে যেসব সিলেটি কর্মকর্তা রয়েছেন তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তার বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর সিলেটের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব।
সিলেটের শিক্ষার ইতিহাস তুলে ধরে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, একসময় সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সিলেটের মানুষের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল।
১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২ জনের মধ্যে ছয়জনই সিলেটের ছিলেন। পরবর্তী সময়েও সিলেটের অনেকে সিভিল সার্ভিস সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তবে বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের মেধা বিকাশে কাজ করছে। অতীতে তারা সিভিল সার্ভিস, ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য কোচিংয়ের আয়োজন করত। এ ধরনের কার্যক্রম আবারও জোরদার করা প্রয়োজন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশন এবং সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে সিলেটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
সিলেটের মেধা বিকাশে জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশন আগামী দিনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা অজন্তা শুক্লার সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন,, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. দিদার চৌধুরী।
মূল প্রবন্ধে সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। এতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূচকে সিলেটের পিছিয়ে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। উত্তরণের নানা সুপারিশও রয়েছে প্রবন্ধে।
সেমিনারে বক্তব্য দেন, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশন সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, দি এইডেড হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশ্মীর রেজা এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্ষা দে এনি।
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য দেন, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা।
অনুষ্ঠানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ এবং সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ১২০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও সনদ প্রদান করা হয়।
» সিএনজি শ্রমিক নেতা তিতাসকে অপহরণ ও সাজানো মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে শাহী ঈদগাহ উপ-পরিষদের মানববন্ধন
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত শাহী ঈদগাহ উপ-পরিষদের সাবেক মেম্বার ও আম্বরখানা পয়েন্টের লাইনম্যান মো. তিতাস খানকে অন্যায়ভাবে অপহরণ, নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশে দেওয়ার প্রতিবাদে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শাহী ঈদগাহ উপ-পরিষদের উদ্যোগে শাহী ঈদগাহ পয়েন্টে সর্বস্তরের শ্রমজীবী পরিবহন শ্রমিকদের অংশগ্রহণে এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
শাহী ঈদগাহ উপ পরিষদের আহবায়ক ও সাবেক সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে ও ৭০৭-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, মহানগর উপ কমিটির সহ-সভাপতি ও শাহীঈদগাহ উপ পরিষদের সাবেক সম্পাদক এম বরকত আলীর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক চালক জোট-২০৯৭ এর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবুল হুসেন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, ৭০৭-এর কেন্দ্রীয় কমিটির কল্যাণ সম্পাদক ও আম্বরখানা-সালুটিকর উপ পরিষদের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, ৭০৭-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, চালক জোট-২০৯৭ এর দরগা উপ কমিটির সভাপতি রইমুল ইসলাম, বালুচর উপ পরিষদের সভাপতি শ্রমিক দল নেতা আলী হুসেন, মুক্তিযোদ্ধা উপ পরিষদের সম্পাদক মোঃ রাসেল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জগলু আহমেদ, বিপ্লব আহমেদ, ৭০৭-এর শাহী ঈদগাহ উপ পরিষদের সাবেক সভাপতি শাহা আলম, সুরজ মিয়া, হানিফ আহমেদ, তিতাসের ছোট ভাই লিমন আহমদ, সাবেক সাংগঠনিক শোখ বাবুল মিয়া, আব্দুর রহীম, জাহিদ হোসেন মুল্লা, শাহীন আহমদ, অহিদ মিয়া, মুসলিম সরকার, সোহেল আহমেদ, বর্তমান ঈদগাহ কমিটির আনামত হোসেন ফগু, শাহা আলম, রুকন আহমদ হুমায়ুন আহমেদ, জাকির, বাবুল মিয়া রিপন মিয়া কাদির, সহ বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠন রাজনৈতিক সংগঠন সামজিক সংগঠন নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, লাইনম্যান মো. তিতাস খান আম্বরখানা পয়েন্টে দায়িত্ব পালনরত (ডিউটি) অবস্থায় ছিলেন। সেখান থেকে টিলাগড় উপ-পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একদল লোক তাঁকে অন্যায়ভাবে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে তাঁর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিকল্পিতভাবে মাদক ও চাকু দিয়ে মিথ্যা সাজানো মামলা ফাঁসিয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁরা নিরীহ শ্রমিক তিতাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
একইসাথে, অপহরণ ও মিথ্যা নাটক সাজানোর ঘটনার সাথে জড়িত টিলাগড় উপ-পরিষদের সভাপতিসহ কমিটির চিহ্নিত আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান বক্তারা।
অন্যথায় সিলেটের সর্বস্তরের পরিবহন শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে শাহী ঈদগাহ উপ-পরিষদের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের সিএনজি চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।
» চেম্বার নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম তুলে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের কার্যক্রম শুরু
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
আসন্ন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম (ঝইঋ)।
এর মাধ্যমে প্যানেলের সদস্যরা আসন্ন চেম্বার নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় ফোরামের নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ, ঐক্য ও উন্নয়নকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করার পাশাপাশি চেম্বারের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ব্যবসায়ী সমাজের সার্বিক কল্যাণে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম কাজ করতে চায়। এ লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচনে চেম্বারের সদস্যদের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রয়োজন।
এসময় সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সকল সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন, সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
» দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র জিয়ার সৈনিকদের রুখে দিতে হবে : এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
গ্রামীণ পর্যায়ে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সড়ক সংস্কারের কাজ আগামী মাস থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হবে
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিলেট-৬ আসনের (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সচিত্র সিলেটের প্রকাশক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন- সারা দেশে কিছুসংখ্যক সন্ত্রানী চোরাগুপ্তা হামলা করতে শুরু করেছে। ককটেল নিক্ষেপ করছে, বাসে অগ্নিসংযোগ করছে। দেশি-বিদেশি চক্রান্ত আজ আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে। কিন্তু আমাদের জিয়ার সৈনিক তরুণ প্রজন্ম এসব চক্রান্ত রুখে দিবে ইনশা আল্লাহ। এছাড়া সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যারা ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করে, এদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। ধর্ম নিয়ে কোনো রাজনীতি করা চলবে না। আমরা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আমরা দেব না ইনশাআল্লাহ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে গোলাপগঞ্জ পৌর ও উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে পরিকল্পিত নাশকতা ও দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিল পরবর্তী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি আরও বলেন- এই গোলাপগঞ্জের মাটিতেই আমাদের ৭ জন ভাই শহিদ হয়েছে। তাদের রক্তের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই, রুহের মাগফিরাত কামনা করি। তারা অকাতরে জীবন বিসর্জন দিয়েছে গণতন্ত্রের জন্য। যে গণতন্ত্রের মাধ্যমে আমরা একটা গণতান্ত্রিক সংসদ পেয়েছি। আমাদের প্রিয় নেতা, বাংলাদেশের সর্বস্তরের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি।
নিজ নির্বাচনি এলাকার মানুষকে আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়ে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন- আপনারা দুই-তিনটি বছর আমাকে সময় দিন, আমি এই দুই উপজেলাকে উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে দেবো। গোলাপগঞ্জ বাজারের সাথে সংযোগ সেতু, শরীফগঞ্জের সাথে সংযোগ সেতু, বাঘা গ্রামের সাথে সংযোগ সেতু- আমাদের মেয়াদেই শেষ করবো ইনশাআল্লাহ। এছাড়া গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের ভাঙাচুরা রাস্তাঘাটের কাজ ইনশাআল্লাহ আগামী মাস থেকে শুরু হবে। শুধু রাস্তাঘাট নয়- স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ভবনগুলো, জরাজীর্ণ অবকাঠামোর উন্নয়ন পর্যায়ক্রমে আমরা করবো।
বক্তব্যের শেষে আগামী স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানান গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সাংসদ অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
এদিকে, জনসভার আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল গোলাপগঞ্জ পৌরশহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
যুবদলের এই কর্মসূচিতে জেলা, উপজেলা ও পৌরসহ স্থানীয় সব ইউনিটের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
» কোন চক্রান্তই দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারবে না : খন্দকার মুক্তাদির
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
সিলেট মহানগর বিএনপির মিছিল সমাবেশ
» সিলেট বিভাগীয় মুফাসসির সম্মেলন ও কাউন্সিল সম্পন্ন
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
মুফাসসিরগণ পথহারা জাতির পথ প্রদর্শক : অ্যাডভোকেট জুবায়ের
বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, মুফাসসিরগণ হলেন পথহারা জাতির পথপ্রদর্শক।
তিনি বলেন, তাফসির মাহফিল থেকে জনগণ যে রূহানী খোরাক প্রত্যাশা করে, সে বিষয়ে তাফসিরকারীদের সচেতন থাকতে হবে।
তিনি শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীন সিলেট বিভাগ আয়োজিত মুফাসসির সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
কাউন্সিল অধিবেশন পরিচালনা করেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাসির উদ্দীন হেলালী। মুফাসসিরদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ারকে সিলেট বিভাগীয় সভাপতি এবং হাফিজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান জালালাবাদীকে বিভাগীয় সেক্রেটারি পুনর্র্নিবাচিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোমিন নাসেরী, মাওলানা কামরুল ইসলাম খান, মাওলানা আব্দুল মতীন চৌধুরী শাহবাগী, অধ্যাপক ড. ফয়জুল হক, ঢাকা মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আযহারী, ড. মাওলানা এ এইচ এম সোলায়মান ও মাওলানা আব্দুল হাই জিহাদী।
কাউন্সিল অধিবেশনে সিলেট বিভাগের সব জেলা ও মহানগর শাখার কমিটিও গঠন করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে ইকামতে দ্বীনের আন্দোলনকে বেগবান করতে ময়দানে দায়িত্ব পালনের জন্য কুরআনের খাদেম মুফাসসিরদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
» সারি ঘাট লালাখাল চা বাগানে গীতা কোর্সের শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
নিউজ ডেস্কঃ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারি ঘাট লালাখাল চা বাগানে ভগবদ্গীতা কোর্সের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোর্সে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা তুলে দেওয়া হয়। গীতা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এমন পুরস্কার আমরা আগে কখনো পাইনি। গীতা হাতে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখন আরও আগ্রহ নিয়ে গীতা পড়তে চাই।’
আয়োজকেরা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার প্রসারে ভগবদ্গীতা কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মিত গীতা পাঠ ও আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভক্ত কল্যাণ ও আদিবাসী উন্নয়ন বিভাগের সদস্য পরমেশ্বর কৃষ্ণ দাস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসকন সিলেট নামহট্টের অন্যতম প্রচারক প্রভু চৈতন্য দাস ব্রহ্মচারী এবং জৈন্তাপুর নামহট্টের সভাপতি নদীয়া গৌর হরি দাস অধিকারী।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইসকন সিলেট মন্দিরের কমান্ডার দেবেন্দ্র কেশব দাস ব্রহ্মচারী এবং যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস।
বক্তারা বলেন, ভগবদ্গীতা শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, এটি মানুষের জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। গীতা অধ্যয়নের মাধ্যমে এসব মূল্যবোধ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে গীতা তুলে দেন। পুরস্কার হিসেবে গীতা পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতেও নিয়মিত গীতা কোর্সে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সারি ঘাট লালাখাল চা বাগানের মনোরম পরিবেশে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আয়োজক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সবশেষে শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
» শাহ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে “স্মরণে বাউল করিম” অনুষ্ঠিত
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
নিউজ ডেস্কঃ
শাহ আব্দুল করিমের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে “স্মরণে বাউল করিম” এ আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় শারদা হল মহড়া কক্ষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সিলেট জেলা সভাপতি নাজিকুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মলয় চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বাসদ জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জান্নাত আরা খান, জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহ সভাপতি জহর সিংহ। প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন কবি মেঘদাদ মেঘ।
আলোচনা সভা শেষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ দুঃখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি শাহ আব্দুল করিমের গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরূদ্ধে।
বাউল শাহ আব্দুল করিম কেবল বাউল ছিলেন না।তিনি ছিলেন এক প্রতিবাদী গনসংঙ্গীত শিল্পী।যা অন্য বাউলদের ক্ষেত্রে তেমন দেখা যায় না।তাঁর রচনায় সেই প্রতিবাদী সমাজ সচেতন চিন্তা ফুটে উঠে।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটি চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আবহমানকালের বাংলার সংস্কৃতি ধ্বংস করে বিজাতীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
তৌহিদী জনতার নামে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, ভাস্কর্য, মাজার- মন্দিরে হামলা-ভাংচুর, ভিন্ন মতাবলম্বীদের হত্যা, মেয়েদের খেলা বন্ধ, বাউলমেলাসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে হামলা-বাধাসহ কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে।
এইসব অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনায় এরা দ্বিগুণ উৎসাহে এই ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছে। বক্তারা বলেন,সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বন্ধ রেখে সুস্থ সমাজ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।
» কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট অঞ্চলের বাতিঘর : ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
নিউজ ডেস্কঃ
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেছেন, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ এ অঞ্চলের বাতিঘর। এই সাহিত্য সংসদ আমাদেরকে আলোর সন্ধান দিয়েছে।
সিলেটে সাহিত্য সংস্কৃতির কর্মীদের আশ্রয়স্থল ছিলেন মুহম্মদ নূরুল হক এবং কে›ন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ।
আমাদের প্রজন্ম আলোকিত হয়েছে সাহিত্য সংসদের দ্বারা, পরবর্তী প্রজন্মও যাতে আলোকিত হয় আমাদেরকে সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট-এর ৯০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ মাসউদ খান আরো বলেন, পবিত্র কোরআনের প্রথম কথাই হচ্ছে ইকরা, অর্থাৎ পড়।
জ্ঞানচর্চা ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। মহৎ কর্মের মৃত্যু নেই, তেমনি জ্ঞানেরও বিনাশ নেই। আমাদেরকে সৎকর্ম ও জনকল্যাণমুলক কাজ করতে হবে। সৎ কর্ম করার জন্যে পবিত্র কোরআনে বার বার তাগিদ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সাহিত্য সংসদের সাথে ‘মুসলিম’ শব্দটি সংযুক্ত হয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে।
সংসদের সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন এখনো শেষ হয়নি। তাই সংসদকে সৃষ্টিশীল ও প্রাণবন্ত রাখার জন্যে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টায় কেমুসাস সাহিত্য আসর কক্ষে শুরু হয় স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা। পরে সন্ধ্যা ৭টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন দৈনিক সিলেটের ডাক-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের।
এনামুল হক জুবের বলেন, সিলেটের জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিদের নিয়ে ১৯৩৬ সালে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৩২ সালে মুহাম্মদ নুরুল হকের সম্পাদনায় ‘আল ইসলাহ’ সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের পর চারিদিকে সাড়া পড়ে যায়। এই সাময়িকী পিছিয়ে থাকা মুসলিম সমাজকে আলোকিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
যদি এই সাময়িকী এখন নিয়মিত প্রকাশিত হয়, তাহলে এই অঞ্চলের সাহিত্য জগতে আলোড়ন ফেলতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটি ২০২৫-২৬ এর আহবায়ক অধ্যাপক এম. আতাউর রহমান পীর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক ছড়াকার প্রভাষক কামরুল আলম।
কেমুসাসের পাঠাগার সম্পাদক নাজমুল আনসারী এর উপস্থাপনায় আলোচনায় অংশ নেন, কেমসাসের সহ-সভাপতি আফতাব চৌধুরী, সহ-সভাপতি রুহুল ফারুক, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আউয়াল, সাবেক সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি, আল ইসলাম সম্পাদক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, কেমুসাসের কার্যকরী পরিষদ সদস্য কামাল তৈয়ব, বিশ্ব বাংলা সম্পাদক মুহিত চৌধুরী, কবি বাছিত ইবনে হাবীব, কেমুসাসের সহ-লাইব্রেরি সম্পাদক ইশরাক জাহান জেলি, ভ্রমণ কাহিনী লেখক মোয়াজ আফসার, কবি শামসীর হারুনুর রশিদ প্রমুখ।
আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কারী জহুর মুনিম।
স্বরচিত কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন অমিত মামুন, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন আদিল আনোয়া এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন মোঃ আল ওয়ালিদ।
এছাড়া বিশেষ পুরস্কার অর্জন করেন কানিজ আমেনা ও আমির হোসেন সোহাগ।
» রাজকীয় সৌদি দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সিলেট বিভাগীয় বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
হাফেজরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন : আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
নিউজ ডেস্কঃ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানের এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের মধ্যে কোরআনের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি হবে এবং ইসলামি মূল্যবোধ চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে।
কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন শুধু ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস নয়, এটি মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের হাফেজদের মেধা ও দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান হাফেজরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন।
তাঁদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি সৌদি রাজকীয় দূতাবাস কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের হাফেজদের বিশ্ব দরবারে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলরুমে সৌদি রাজকীয় দূতাবাস আয়োজিত জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেট বিভাগীয় বাছাই পর্ব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
রাজকীয় সৌদি দূতাবাস ঢাকা বাংলাদেশ এর দা’ঈ, শায়েখ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানীর সভাপতিত্বে এবং এস এম সাইফুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ’র যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সৌদি দূতাবাসের দা’ঈ শায়েখ বদর বিন ইসহাক আল মাদানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, বাংলাদেশ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপ-পরিচালক মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, প্রফেসর মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সিলেট জেলার মহাসচিব ও সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন, হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো: আজিজুল করিম। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন হাফিজ রশিদ আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিয়াউল হক নাসেহ।
প্রতিযোগিতায় মোট ৬০ জন অংশগ্রহণ করেছে তার মধ্য থেকে তিনটি গ্রুপে যথাক্রমে ৩০ পারা ছেলে ৫ জন, ১৫ পারা ছেলে ৫ জন ও মেয়ে ১৫ পারা ৪ জন মোট ১৪ জনকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য বাছাই করা হয়েছে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের ৪টি জেলার মাদরাসা থেকে আগত ৬০ জন কৃতী হাফেজগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগীরা মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও নিখুঁত মুখস্থ শৈলী প্রদর্শন করেন।
অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত ক্বারী এবং আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী প্যানেলের মধ্যে ছিলেন, শায়েখ মামুনুর রশিদ আল মাদানী ও হাফিজ মাওলানা গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ বিজয়ী হাফেজদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
উত্তীর্ণ হাফেজগণ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
উক্ত বাছাই পর্বের অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসা শিক্ষক এবং আমন্ত্রিত অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
» সিলেট মিলেনিয়াম শপিং কমপ্লেক্স-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সম্মিলিত ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের নিরংকুশ বিজয়
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
নিউজ ডেস্কঃ
সিলেট মিলেনিয়াম শপিং কমপ্লেক্স-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন (২০২৬-২০২৮) সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উক্ত নির্বাচনে ‘সম্মিলিত ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ’ পূর্ণ প্যানেলে নিরংকুশ জয়লাভ করেছে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে মহান চৌধুরী তারেক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ফখরুল ইসলাম বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য বিজয়ীরা হলেন, সহ-সভাপতি মো. এনামুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহীন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান, অর্থ সম্পাদক রিপন সিংহ, দপ্তর সম্পাদক শাহ মো. কামরুজ্জামান কামরুল, কার্যনির্বাহী সদস্য হাফিজ তাছলিম উদ্দিন তালুকদার, মিজানুর রহমান, মো. জুবের আহমদ, মো. বকুল আহমদ।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলেনিয়াম শপিং কমপ্লেক্সের সর্বস্তরের ব্যবসায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা মার্কেটের সার্বিক উন্নয়ন, ব্যবসায়ী স্বার্থ রক্ষা এবং ক্রেতা সাধারণের সুবিধা বৃদ্ধিতে সুসংগঠিতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সিলেট সিলেট মিলেনিয়াম শপিং কমপ্লেক্স-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচন (২০২৬-২০২৮) সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
» সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে খন্দকার মুক্তাদির
Published: ২৬. সেপ্টে. ২০২৬ | শনিবার
দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সিলেট চেম্বার অব কমার্স গঠনের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর
নিউজ ডেস্কঃ
২০২৯ সালের মাঝামাঝি ঢাকা-সিলেট ৬ লেনের কাজ শেষ হবে
* ১৪ দিনে মিলবে ব্যবসার অনুমোদন
* দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একরে নতুন বিসিক
* অপরাধ দমনে ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা
* সিলেট-চট্টগ্রাম দ্রুতগতির কার্গো ট্রেন চালুর উদ্যোগ, হবে এআই ট্রেনিং সেন্টার’
আগামী ২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে এবং আগামী ১২ মাসের মধ্যেই এই মহাসড়কটির নতুন অবয়ব স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা চন্ডিপুলস্থ কুশিয়ারা কনভেনশন হলে ‘সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ’-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা সহজীকরণ এবং এ অঞ্চলের শিল্প উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে কেবল পরিকল্পনা হলেও বাস্তবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজের অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার এটি দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত পুরানো সড়কটিকে নতুন ৪ লেনের হাইওয়েতে রূপান্তর করা হবে।
রেল যোগাযোগে যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ইতিমধ্যে ডুয়েলগেজ লাইন রয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের জন্য মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দরকষাকষি শেষে দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।
এটি সম্পন্ন হলে সকালে সিলেটে থেকে ট্রেনে চেপে ঢাকায় দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সন্ধ্যায়ই সিলেটে ফিরে আসা সম্ভব হবে। একই সাথে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের বিদ্যমান গ্যাপ দূর করে একই মানের উন্নত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে সিলেটে উৎপাদিত পণ্য কার্গো ট্রেনের মাধ্যমে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স, আইআরসি ও মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলার পুরো প্রক্রিয়া আগের ৩৫৫ দিনের বদলে মাত্র ১৪ কর্মদিবসে (২ সপ্তাহ) নামিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে।
পাশাপাশি সিলেটের সিএমএসএমই শিল্পকে বেগবান করতে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর একটি নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, চলতি বছরই যার উন্নয়নকাজ শুরু হবে।
নগরীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে মাদক ও অনলাইন জুয়ার কোনো স্থান হবে না।
সিলেট শহরকে নিরাপদ রাখতে সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) যৌথ পরিচালনায় পুরো শহরকে ড্রোন, ফেস রিকগনিশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সেবার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি রোধে আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবায় ফেস রিকগনিশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফিকেশন চালুর কথা জানান তিনি।
এছাড়া সিলেটের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষ করে তুলতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘এআই ট্রেনিং সেন্টার’ (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) গড়ে তোলার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মনিম মল্লিক মুন্না এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাবেল এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, সিলেট ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য সচিব রেজাউল করিম নাচন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন, স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি পাবেল।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা আলহাজ্ব আতাউর রহমান, জহিরুল কবির চৌধুরী শিরু, এহতেশামুল হক চৌধুরী শিরু, হাজী মো. রইছ আলী, আতাউল্লাহ সাকের, মো. জহির হোসেন তুহিন, ফুয়াদ বিন রশীদ, মোহাম্মদ আনিছ, ছাউল্লাহ ফাহিম, সহ সভাপতি আব্দুল আজিজ, মো. আব্দুর রহমান দুদু, মো. আমির হোসেন, হুমায়ুন আহমেদ মাসুক, মো. আনোয়ার হোসেন, কিবরিয়া হোসেন নিঝুম, মো. আলী আকিক, মাছুম ইফতেখার রসুল শিহাব, আবুল কালাম, খালেদ আহমদ, ওলিউর রহমান, সাহেদ আহমদ, শাহ জাকের আহমদ, আতিকুর রেজা চৌধুরী, মদন মোহন কর্মকার, সহ সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, আমিনুল ইসলাম বেলাল, মঞ্জুর আহমদ, সৈয়দ জাহিদ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, মো. রূপন খান, জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম সাকির, সুলতান আহমদ খান, মো. শাহজাহান মিয়া, শহীদুল হক, আখতার চৌধুরী রুবেল, মো. ফরহাদুজ্জামান, সুয়েব আহমদ অভি, মো. নুরুজ্জামান সিদ্দিকী, শাহ ইমরান আহমদ, মীর মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ কাদির, মো. সাহিদুল হক সুহেল, রিয়াজ আহমদ, রাসেল আলী, জাকারিয়া আহমদ, আবু সাইদ তায়েফ, নিহার কুমার রায়, মো. মারুফ, মো. মতিয়ার রহমান, আলী হায়দার মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল আহমদ সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদুর রহমান, মো. সাবুল মিয়া, হাসান কবির চৌধুরী, কাওসার আহমদ রবি, রেজাউল হক রেজু, সৈয়দ রাজন আহমদ, মো. আব্দুল কাদির, মো. নাফিস জুবায়ের চৌধুরী, সুহিন আহমদ, মো. শফিক নুর, মো. শাহজাহান, সাহেদ বক্স, জিয়াউর রহমান খান চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক তাহমিদুল হাসান জাবেদ, সহ অর্থ সম্পাদক রিয়াদ রহমান, সাহিত্য সম্পাদক মামুনুর রশীদ, সহ সাহিত্য ইমদাদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আহমেদ সৌম নওশাদ, সহ দপ্তর সম্পাদক মারুফ আহমদ, সহ ক্রীড়া সম্পাদক আবু খালেদ চৌধুরী, সহ ক্রীড়া সাইদুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কামাল আহমদ, সহ সাংষ্কৃতিক সম্পাদক আহসান হাবিব, মিহির রঞ্জন দাস, সমাজ কল্যাণ মনোয়ার হোসেন মুন্না, দেলোয়ার হোসেন জয়, সহ আইন সম্পাদক হাজী শাহজাহান, মো. জাকির হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রঞ্জিত দেবনাথ ময়না, সহ তথ্য মাছুম আল মাহদি, যোগাযোগ সম্পাদক হুমায়ুন কবির লিটন, সহ যোগাযোগ সম্পাদক আব্দুল কাহির খছুরু, আপ্যায়ন সম্পাদক ইমাম উদ্দিন কামাল, সহ আপ্যায়ন সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আছমাউল হুসনা খান, ফেরদৌসী আব্দাল, চৌধুরী তাহমিনা নুর, ফারজানা আব্দাল খান, সদস্য আব্দুল বাছিত, মো. তাজুল ইসলাম, শেখ মো. জুনেদ আহমদ, মোহাম্মদ মাহবুব, মো. ওয়াজ্জদ খান সুয়েব, আবু ইকবাল খান, মো. মাহি উদ্দিন, বাহার চৌধুরী, আব্দুল খালিক খান রহিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কালামে পাক থেকে তেলাওয়াত করেন, সংগঠনের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ উদ্দিন এবং গীতা পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক রতন দে।
২য় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচিত একটি প্রতিনিধির মাধ্যমে সিলেট চেম্বার অব কমার্স গঠন করা হউক। যেভাবে আজকে মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ দেখিয়ে দিয়েছে, তারা সিলেট চেম্বার অব কমার্স থেকে কোনো অংশে কম নয়। মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ যদি পারে, তাহলে সিলেট চেম্বার অব কমার্স কেন পারবে না?
সিলেট একটি রাজনৈতিক সম্প্রীতির নগরী। সিলেট একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির নগরী। কাজেই এখানে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে কোন অসুবিধা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। কোন কোন সেক্টরে কীভাবে সহযোগিতা করলে আপনাদের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তা দেখা প্রয়োজন।
এখানে অসময়ে মেলা হয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। আমি মনে করি এটাও একটি শৃঙ্খলার ভেতরে নিয়ে আসা উচিত। এভাবে না হলে ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে উৎসাহ হারাবে।
২য় অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেডের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শ্যামা হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদ ইশতিয়াজ আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক আমিরুজ্জামান চৌধুরী দুলু, সিলেট চেম্বারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুস সামাদ তুহেল, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ।
এছাড়াও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সিলেটের মহানগরীর অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন মার্কেটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

