- পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : রুহুল কবির রিজভী
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরামের স্মারকলিপি
- কেবল পাশের হার বৃদ্ধি নয়, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য : এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী
- জন্মদিনে স্মরণ পালিত হয়নি বাউলসম্রাট দুর্বিন শাহ; মরমি গানের জগতে এক অনন্য সাধক
- উচ্চতর উশু প্রশিক্ষণ শেষে চীন থেকে দেশে ফেরায় আনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান
- তৃণমূলের কর্মীরা সরকারের অংশীদার, আচরণে আরও বিনয়ী হতে হবে : রুহুল কবির রিজভী
- শান্তিগঞ্জে যুবদল নেতা সাজলের মৃত্যুতে কয়ছর এমপির শোক
- সমাজসেবী সাজলের মৃত্যুতে শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেটের শোক
- ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে সিলেটে এসবিএসি ব্যাংকের বাংলা কিউআর সচেতনতামূলক কর্মসূচি
- প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি সিসিকের ২৪১ কর্মচারীর, ৭ দিনের আল্টিমেটামে আন্দোলনের হুশিয়ারি
» পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : রুহুল কবির রিজভী
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি কঠিন সংকটের মধ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের কলকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব পড়ে।
রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে নানা ধরনের উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। সেই লড়াইয়ের চেতনা থেকেই সরকার গণতান্ত্রিক সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের নীতিতে সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের বিকাশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ পথে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, শ্রমিকদের নানা ধরনের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যও সামনে এসেছে।
এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে-এটি এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট।
রিজভী বলেন, দেশের রাজনৈতিক বিষয়গুলো সংসদে বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
কিন্তু সে পথে না গিয়ে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’-এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস।
এরই মধ্যে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে।
দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয়কে উপেক্ষা করে অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যারা ‘বিপ্লবের’ কথা বলছেন, তাদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্র ও একটি নীতি-আদর্শের জন্য ১৭ বছর আন্দোলন করেছে। এই আন্দোলনে অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, রক্ত ঝরেছে।
রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড ও উসকানি দিচ্ছে। তাঁদের প্ররোচনায় কেউ কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা তাদের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলে চোরাপথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের কোন সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।
রিজভী বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই বিএনপি ও তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য এমএ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী সহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
» প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরামের স্মারকলিপি
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী সিলেট নগরীসহ গোটা সিলেট বিভাগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, বৈষম্য নিরসন এবং দীর্ঘদিনের লালিত অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে, সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরাম।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে নগরীর দরগা গেইটস্থ একটি অভিজাত হোটেলে সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভীর কাছে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
এসময় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম সহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সহ দেশের সার্বিক অর্থনীতি, প্রবাসী আয় ও জাতীয় উন্নয়নে সিলেট বিভাগ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
তা সত্ত্বেও সিলেট বিভাগ ক্রমাগত উন্নয়ন বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছে।
এ অঞ্চলের প্রবাসী, পর্যটক ও সাধারণ জনগণের সুবিধা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে স্মারকলিপিতে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়।
দাবি সমূহ হলো বাংলাদেশের অন্যতম পরবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের অধিবাসী, প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরকে প্রথম শ্রেণীর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তর এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হইতে সকল আন্তর্জাতিক রুটে দেশী বিদেশী সকল যাত্রীবাহী ও কর্গো বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
পুন্যভূমি সিলেট বিভাগের রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সকল প্রকার ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্পের উন্নয়নকল্পে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের সিলেট হইতে আখাউড়া পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথ থকে ব্রডগ্রেজ ডাবল লাইনে রুপান্তর করে উক্ত রেলপথের বিদ্যমান সকল ষ্টেশন উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কার্য্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা।
সিলেট বিভাগের অধিবাসী প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়তের সুবিধার্থে অভিলম্বে পুন্যভূমি সিলেট হইতে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য একটি বিরতীহীন আধুনিক ট্রেইন ও পুন্যভূমি সিলেট থেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম হয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়তের জন্য একটি বিরতীহীন আধুনিক ট্রেইন চালু করা এবং চলমান সকল আন্তনগর ট্রেইনে বগি ও যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
তামাবিল স্থলবন্দর হইতে পর্যটন নগরী সিলেট হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ছয় লেন বিশিষ্ট জাতীয় মহাসড়কে রূপান্তর ও সম্প্রসারনের যাবতীয় উন্নয়ন কার্য্য অতি দ্রুত সম্পূর্ণ করে যান-বাহন চলাচলের উপর্যুক্ত করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
পুন্যভূমি সিলেট বিভাগের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সকল প্রকার শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নকল্পে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সাবাজপুর হইতে-জুড়ী-কুলাউড়া-রবিরবাজার-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার শমশের নগর বিমান বন্দর হইতে জাতীয় ও আন্তজার্তীক রুটে ফ্ল্যাইট চালু করা এবং সেখানে ‘‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পুর্ণাঙ্গ ঘাটি’’ স্থাপন এবং একটি আধুনিক ‘‘এ্যারোনেটিক্যাল সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
পাহাড় নদী হাওড় ও জলাভূমি পরিবেষ্টিত সিলেট বিভাগ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেট কৃতিসন্তান বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়াল এডমিরেল মাহবুব আলী খান সাহেবের নামে সিলেট জেলার সুরমা অথবা কুশিয়ারা নদীর নিকটবর্তী সুবিধা জনক স্থানে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাটি স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
অবহেলিত সিলেট বিভাগের শিক্ষার উন্নয়নে পুণ্যভূমি সিলেটে একটি ‘‘প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
পরবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত প্রাকৃতিক সম্পদ ও চা শিল্পে সমৃদ্ধ অবহেলিত মৌলভীবাজার শিক্ষার উন্নয়ন ও চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির স্বার্থে হিতার্থে মৌলভীবাজার জেলা সদরে একটি আধুনিক ‘‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’’ ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
জালালাবাদ সেনা নিবাস সিলেটে একটি ‘‘আর্মস ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
অবহেলিত সিলেট বিভাগের শিক্ষার উন্নয়নে পুণ্যভূমি সিলেটে একটি ‘‘গার্লস ক্যাডেট কলেজ’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করা।
সিলেট বিভাগের অধিবাসী প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুলাউড়া-বড়লেখা-সাবাজপুর রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালু করার ঘোষনা প্রদান করা।
হাওর ও জলাভুমি úরিবেষ্টিত ঐতিহ্যবাহী সুনামগঞ্জ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কল্পে সিলেট-সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণা-কিশো
সিলেট বিভাগের বিচার প্রার্থী ভুক্তভোগী জনগণের দুঃখ ও দুর্দশা লাঘবের জন্য পূণ্যভুমি সিলেটে অবিলম্বে ‘‘হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ’’ পুনঃস্থাúন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করা।
বাংলাদেশের শিল্পের বিকাশ ও জালানী সংকট নিরসন কল্পে সিলেট বিভাগে আবিস্কৃত সকল গ্যাস ও তৈল ক্ষেত্র/কোপ হইতে গ্যাস ও তৈল আহরন উত্তোলন ও বিতরনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা এবং গ্যাস সংযোগ প্রদান কার্য্যক্রমের উপর হইতে সকল বিধি নিষেধ প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সদর সহ সর্বত্র আবাসিক ও বাণিজিক গ্যাস সংযোগ প্রদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
ওলিকুল শিরমণি হযরত শাহজালাল (রহঃ) ও হযরত শাহপরাণ (রহঃ) সহ অসংখ্য পীর আউলিয়া ও গুণীজনের স্মৃতি বিজড়িত পর্যটন নগরী পুণ্যভুমি সিলেট মহানগরীকে বাংলাদেশের ‘‘আধ্যাত্বিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’’ ঘোষনা করে গ্যাজেট প্রকাশের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত ভান্ডার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি পুণ্যভূমি সিলেট বিভাগকে বাংলাদেশের ‘‘পর্যটন অঞ্চল’’ ঘোষনা করে গ্যাজেট প্রকাশের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ উন্নয়ন ও দেশে বিদেশে পর্যটন শিল্পে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সরবরাহ ও গড়ে তোলার লক্ষ্যে পর্যটনের আকর্ষনীয় স্থান ও প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে বিভাগে আন্তর্জাতিক মান সম্পূর্ণ একটি ‘‘পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয়’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষনা প্রদান করা।
প্রবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়ন এবং প্রবাসী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুবিধার্থে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে চারটি পৃথক ‘‘ইপি জেড, চারটি শিল্পপার্ক ও চারটি ট্যুরিজম পার্ক’’ স্থাúন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষনা প্রদান করা।
সিলেট বিভাগের সকল গ্যাস ও তৈল ক্ষেত্র হইতে উত্তোলনকৃত অপরিশোধিত তৈল সংরক্ষন ও পরিশোধনের সুবিধার্থে সিলেটে একটি ‘‘আধুনিক তৈল সংরক্ষন ও শোধানাগার’’ এবং একটি আধুনিক ‘‘গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ’’ কারখানা স্থাúন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষনা প্রদান করা।
সিলেট বিভাগের কৃষি, মৎস্য, পানি সম্পদ, জলúথের উন্নয়ন ও অকাল বন্যা প্রতিরোধকল্পে সুরমা নদী, কুশিয়ার নদী, মনু নদী, খোয়াই নদী, জুড়ী নদী, কালনী নদী, চেঙ্গের খাল নদী, পিয়াইন নদী সহ সিলেট বিভাগের ছোট বড় সকল নদী রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানির নাব্যতা বৃদ্ধি করে যাত্রীবাহী ও মালবাহী সকল প্রকার জলযান চলাচল ও যাতায়াতের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন অঞ্চল সিলেট বিভাগের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কল্পে সিলেট বিভাগের সকল জেলা সদর হইতে থানা ও উপজেলা সদরের সংযোগ সড়ক, সকল পর্যটন ষ্পর্ট ও কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক সহ সকল রাস্তার মেরামত সংস্কার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের ঘোষণা প্রদান।
সিলেটি নাগরী অক্ষরকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষালিúি ও নাগরী ভাষাকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে ঘোসনা করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্থরে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভূক্তির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত “পরিবেশ পুলিশ বাহিনী”, বন বিভাগ সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত “বন পুলিশ বাহিনী বা বনরক্ষী বাহিনী” এবং সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত “ডিজাষ্টার প্রতিরক্ষা বাহিনী” গঠনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।
বাংলাদেশের সকল সরকারী আধাসরকারী স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ননগ্যাজেটেড কর্মকর্তা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগ কালে স্থানীয় অধিবাসী বা নিজ নিজ জেলার অধিবাসীগণকে নিয়োগর বাধ্যবাধ্যকতা আরোপের বিধি বিধান প্রনয়ন ও বাস্থবায়নের ঘোষনা প্রদান করা।
স্মারকলিপিতে গণদাবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার অবহেলিত পূণ্যভূমি সিলেটের প্রতি ইনসাফ কায়েম করে এসব যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
» কেবল পাশের হার বৃদ্ধি নয়, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য : এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সিলেট-৬ আসনের সাংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন, কেবল পাশের হার বৃদ্ধি নয়, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
পাশ করলাম, ভালো গ্রেড পেলাম, চাকরির ইন্টারভিউতে গিয়ে কিছুই পারলাম না, এটাতো কাম্য নয়।
এই শিক্ষা সরকার চায় না। এ সরকারের আমলে সব পরীক্ষার পেপার ভালো করে দেখা হয়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে তুলতে মেধাবী শিক্ষার্থী, প্রকৃত সুনাগরিক তৈরি করতে হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) গোলাপগঞ্জের পৌর এলাকায অবস্থিত জামেয়া ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী আরও বলেন- এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শিক্ষা খাতে। সরকার শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য ১ লক্ষ ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
মিড ডে মিল-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুল ব্যাগ, জুতা, ইউনিফর্ম পাবে। মেয়েদের জন্য সরকার গ্রেজুয়েশন পরযন্ত ফ্রি পড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের শুধু বিদেশ গেলে চলবে না, ভালো করে লেখাপড়া করে দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অভিশাপ। অভিভাবকদের এ ব্যপারে সতর্ক হতে হবে।
সরকার পরিচালনার কথা উল্লেখ করে সাংসদ বলেন- সংসদে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। কিন্তু রাস্ট্রের প্রশ্নে আমরা সবাই এক।
কারণ- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্যতম স্লোগান- সবার আগে বাংলাদেশ। তাই সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল জিন্নুর আহমদ চৌধুরী।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজ আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মহিউসসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস, গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তস (ওসি) ছবেদ আলী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নোমান উদ্দিন মুরাদ।
আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল জিন্নুর আহমদ চৌধুরী, পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও বাদেপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রায়হান ও গোলাপগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন আহমদ, মো. আব্দুল কাদির ও মো. ইখতিয়ার উদ্দিন।
» জন্মদিনে স্মরণ পালিত হয়নি বাউলসম্রাট দুর্বিন শাহ; মরমি গানের জগতে এক অনন্য সাধক
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
ছাতক প্রতিনিধিঃ
সুর, সাধনা ও মানবতাবাদী দর্শনে সমৃদ্ধ তাঁর জীবন ও সংগীত ভুবন তার জন্মদিন ও স্মরণ-সভা পালিত হয়নি।
বাংলা লোকসংগীত ও মরমি সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম বাউল কবি দুর্বিন শাহ।
সুফিবাদ, মরমি দর্শন, মানবপ্রেম ও আধ্যাত্মিক সাধনার অপূর্ব সমন্বয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলার লোকসংগীতের ভান্ডার।
তাঁর রচিত অসংখ্য গান আজও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে দোলা দেয়।
সুর, শব্দ ও দর্শনের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের আত্মিক জগৎ, প্রেম, বিরহ, জীবনবোধ এবং স্রষ্টার সন্ধানকে তুলে ধরেছেন অনন্য শিল্পশৈলীতে।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) এই মরমি সাধকের জন্মদিন।
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অভাব দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো পর্যন্ত ফকির দুর্ব্বিন শাহ রাষ্ট্রীয় কোন বড় স্বীকৃতি পাননি।
অথচ তাঁর গান আজও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বেঁচে আছে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম শুধু বাংলার নয়, বিশ্বমানবতার ঐতিহ্যের অংশ।
জন্ম ও শৈশব ১৯২১ সালের ২ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন ফকির দুর্ব্বিন শাহ।
তাঁর প্রকৃত নাম দুর্ব্বিন শাহ, তবে পরবর্তীতে “দুর্ব্বিন শাহ” নামেই তিনি পরিচিত হন।
পিতা সফাত আলী শাহ ছিলেন এক সুফি সাধক এবং মাতা হাসিনা বানু ছিলেন ধার্মিক পীরানী। আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশ ঘটে।
পড়াশোনার দিক থেকে তিনি অগ্রসর হতে পারেননি—শুধু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলেন সুরমা নদী পার হয়ে বাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
তবে স্বল্পশিক্ষিত হলেও সঙ্গীতের জগতে তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডার ছিল বিশাল। শৈশবেই গান লেখা ও সুর করার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
কৈশোরে গ্রামের আখড়া ও আসরে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি জনমনে পরিচিতি লাভ করেন।
আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতচর্চার পারিবারিক পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে সেই তারামনি টিলা পরিচিতি লাভ করে ‘দুর্বিন টিলা’ নামে।
শৈশবেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। মাত্র সাত বছর বয়সে পিতাকে হারান দুর্বিন শাহ।
তবে পারিবারিক আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাধুসঙ্গ এবং নিজস্ব চিন্তা-চেতনা তাঁকে সংগীতের পথে এগিয়ে নেয়। ১৯৪৬ সালে সুরফা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
দুর্বিন শাহের অধিকাংশ গানে সুফিবাদ ও মরমিবাদের গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়। তবে তাঁর সৃষ্টির পরিধি কেবল আধ্যাত্মিক সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, সামাজিক বাস্তবতা, গ্রামীণ জীবন, মানবিক সম্পর্ক এবং দেশপ্রেমও তাঁর গানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তাঁর গানকে বিষয়বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাউল, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক, গণসংগীত, মালজোড়া, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, গোষ্ঠ, মিলন, রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি, হামদ-নাত, মারফতি, পির-মুর্শিদ স্মরণ, ওলি স্মরণ, ভক্তিগীতি, মনঃশিক্ষা, সুফিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, কামতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, পারঘাটাতত্ত্ব ও দেশের গানসহ বিভিন্ন ধারায় বিন্যস্ত করা যায়।
এ ছাড়া বিবিধ বিষয়েও তিনি অসংখ্য পদ রচনা করেছেন।
১৯৬৭ সালে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড সফর করেন দুর্বিন শাহ। তাঁর অন্যতম সফরসঙ্গী ছিলেন, আরেক কিংবদন্তি বাউলসাধক শাহ আবদুল করিম।
ইংল্যান্ডে তাঁর গানের কথা, সুর ও গভীর ভাবদর্শনে মুগ্ধ হন প্রবাসী বাঙালি ও সংগীতপ্রেমীরা।
তাঁর অসাধারণ জ্ঞান, সাধনা ও সংগীতপ্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘জ্ঞানের সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
দুর্বিন শাহের গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সহজ-সরল শব্দের ভেতরে গভীর জীবনদর্শন ও আধ্যাত্মিক তত্ত্বের প্রকাশ।
তাঁর গানে মানুষের অন্তর্জগৎ, আত্মার অনুসন্ধান, মুর্শিদের প্রতি ভালোবাসা এবং পরম সত্তার সন্ধান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে অবলম্বন করে তিনি যে মরমি সাহিত্য রচনা করেছেন, তা বাংলা লোকসংগীতকে দিয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা।
১৯৭৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৫৭ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি বাউল কবি। তাঁর শারীরিক মৃত্যু ঘটলেও সংগীত ও সাধনার জগতে তিনি আজও অমর।
ছাতকের নোয়ারাইয়ের তারামনি টিলা থেকে উঠে আসা এই সাধক শুধু একটি অঞ্চলের গর্ব নন, তিনি বাংলা লোকসংগীত ও মরমি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।
তাঁর জন্মদিনে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর গান, দর্শন ও জীবনসাধনা তুলে ধরা এবং তাঁর সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি।
স্মৃতিচারণায় উঠে আসা দুর্বিন শাহের জীবন ও সাধনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়-প্রকৃত শিল্পীর মৃত্যু হয় না; তাঁর সৃষ্টি ও দর্শনের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
» উচ্চতর উশু প্রশিক্ষণ শেষে চীন থেকে দেশে ফেরায় আনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
নিউজ ডেস্কঃ
চীনে ৫০ দিনের উচ্চতর প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করে দেশে ফেরায় জাতীয় উশু বিচারক ও আন্তর্জাতিক উশু কোচ এবং চাইনিজ উশু ফাইটার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রশিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে চাইনিজ উশু ফাইটার স্কুলের প্রশিক্ষণ মাঠে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ক্রীড়ানুরাগীদের উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোচ মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, চীন সরকারের আমন্ত্রণে ৫০ দিনের এই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ আমার জীবনের এক অমূল্য অভিজ্ঞতা।
উশুর জন্মভূমি চীনে গিয়ে তাওলুর আধুনিক কৌশল, ফিটনেস ও কোচিং পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত শিখেছি।
আমার এই অর্জন আমি বাংলাদেশের উশুর উন্নয়নে এবং বিশেষ করে সিলেটের ছেলেমেয়েদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করতে কাজে লাগাতে চাই।
তিনি আরও বলেন, চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অটুট থাকুক এবং এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন ও সকলের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে চাইনিজ উশু ফাইটার স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
চীন সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং হেনান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বাংলাদেশের জন্য তাওলু উশু ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণ কোর্স শীর্ষক ৫০ দিনব্যাপী (১০ সেপ্টেম্বর-২৯ অক্টোবর ২০২৬) এই উচ্চতর প্রশিক্ষণ কোর্সটি চীনের হেনান প্রদেশের ঝেংঝুতে অনুষ্ঠিত হয়।

» তৃণমূলের কর্মীরা সরকারের অংশীদার, আচরণে আরও বিনয়ী হতে হবে : রুহুল কবির রিজভী
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
সিলেটে মহানগর বিএনপির মতবিনিময় সভা
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর তৃণমূলের একজন সদস্যও বর্তমান সরকারের অংশীদার, তাই আমরা ক্ষমতায় আছি বলে আমাদের কথা ও আচরণে কোনো মানুষ যেন ন্যূনতম আঘাত না পায়।
দলের নেতাকর্মীদের আরও বিনয়ী হতে হবে এবং আপনারা বিনয়ী হলে সংগঠনের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কাজীরবাজার তোপখানাস্থ সিলেট মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রশংসা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, কিছুদিন আগের একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি এবং তাঁর চমৎকার আচরণ ও সময়োপযোগী কথাবার্তার ফলেই এই জনপ্রিয়তার অর্জন।
আমাদেরও সেই আদর্শ ধারণ করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে কোনো ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হলে আপনারা সরাসরি পুলিশকে ইনফর্ম করবেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলে দিয়েছেন যে, চাঁদাবাজি ও দখলদারির সাথে যারাই যুক্ত থাকুক না কেন, বিএনপি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে।
আমরা যদি এভাবে নিয়ম মেনে চলতে পারি, তবে আমাদের জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং আগামী পাঁচ বছর পর আবারও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনামলের মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম জিয়া এত জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো স্বৈরাচার হাসিনা ও শেখ মুজিব যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন, তারা ঠিক তার বিপরীত ধারায় দেশ পরিচালনা করে দেখিয়েছেন। আওয়ামী লীগ কেবল মানুষ হত্যা, গণতন্ত্র হত্যা আর রক্তের রাজনীতি করেছে, অন্যদিকে শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়া দেশের সংবাদপত্র, রাজনৈতিক দল এবং মানুষের কথা বলার স্বাধীনতাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন।
এটাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার মূল পার্থক্য এবং তারেক রহমানও আজ সেই পথেই হাঁটছেন, তাই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে জনগণ যেন আমাদের কোনো কাজকর্মে বিরক্ত না হয়।
বিগত ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে সিলেটের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিগত গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিলেটের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।
আপনাদের অসংখ্য ছাত্রনেতা গুম হয়েছেন এবং অসংখ্য নেতাকর্মী চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বিগত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও সাংবাদিকসহ এখানকার অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সিলেট শহর হচ্ছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শহর, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আজীবন লড়াইয়ের শহর, তাই যারা শহীদ জিয়া, বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের স্লোগান দেবেন, তারা যেন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার আসল প্রতিফলক ও বিশ্বস্তস্থল হয়ে ওঠেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, সিলেট মহানগর বিএনপির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমাদের নিজেদের পার্টি অফিসে দলের মহাসচিবকে আমরা পেয়েছি।
এমন এক নেতাকে পেয়ে আমরা ধন্য, যিনি তৃণমূল থেকে তিলে তিলে উঠে এসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে আঁকড়ে ধরেছেন এবং বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে গুলির মুখেও সবার সামনে থেকে সাহসিকতার সাথে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির দায়িত্ব পুনরায় পাওয়ার পর সাধারণ সম্পাদকসহ সকল নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আমরা মহানগরের অনেকগুলো ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মহানগরের প্রতিটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দল পরিচালনা করে আসছি।
আমরা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে আমরা কখনো বিমুখ করব না এবং সাংগঠনিকভাবে যখনই যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমরা তা পালন করেছি এবং আগামীতেও যে দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিষ্ঠার সাথে পালন করব, আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য কখনো কেউ দেখতে পাবেন না।
সভা সঞ্চালনা করতে গিয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, সিলেট মহানগর বিএনপি অতীতেও ঐক্যবদ্ধ ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
আমাদের দ্বারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে-এমন কোনো কাজ আপনারা কখনো দেখতে পাবেন না এবং আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ থেকেই সিলেট মহানগর বিএনপিকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করিয়েছি।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আশিক উদ্দিন আশু, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সৈয়দ মঈন উদ্দিন সোহেল, জিয়াউল হক জিয়া, সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, আমির হোসেন, সাদিকুর রহমান সাদিক, নুরুল মুমিন খোকন, ডা. আশরাফ আলী, আফজাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান ও আব্দুর রহিম মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, মুর্শেদ আহমদ মুকুল, শামীম মজুমদার, মির্জা বেলায়েত হাসান লিটন, মাহবুবুল হক চৌধুরী, শুয়াইব আহমদ শোয়েব, আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, রেজাউল করিম আলো, মতিউল বারী খুর্শেদ, ফাতেমা জামান রোজি, নাদির খান ও আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব, রফিকুল ইসলাম রফিক ও খসরুজ্জামান খসরু, সিলেট মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির শাহীন, কোতোয়ালি থানা বিএনপির আহ্বায়ক ওলিউর রহমান চৌধুরী সুহেল, জালালাবাদ থানা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদ আহমদ, শাহপরান থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মুনিম ও সদস্য সচিব খুর্শেদ আহমদ খুশু, দক্ষিণ সুরমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. এনামুল হক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সালাম টিপু, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আফসর খান, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান, শ্রমিক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম জীবন সহ সিলেট মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
» শান্তিগঞ্জে যুবদল নেতা সাজলের মৃত্যুতে কয়ছর এমপির শোক
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
» সমাজসেবী সাজলের মৃত্যুতে শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেটের শোক
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
শান্তিগঞ্জ উপজেলার বসিয়া খাউরী গ্রামের কৃতী সন্তান, জেবিবি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক বিদ্যুৎসাহী সদস্য ও সমাজসেবক শেখ সাজল আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন, শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেটের নেতৃবৃন্দ।
» ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়তে সিলেটে এসবিএসি ব্যাংকের বাংলা কিউআর সচেতনতামূলক কর্মসূচি
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে এসবিসি ব্যাংক পিএলসি-এর সিলেট অঞ্চলের উদ্যোগে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে বাংলা কিউআরের ব্যবহার ও সুবিধাবিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, এসবিসি ব্যাংক পিএলসি-এর এসইভিপি ও হেড অব রিটেইল ডিস্ট্রিবিউশন মোহাম্মদ রাশেদ আক্তার।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এসবিসি ব্যাংক পিএলসি-এর ইভিপি ও হেড অব ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিভিশন মোহাম্মদ শফিউল আজম এবং এসবিসি ব্যাংক পিএলসি-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিলেট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আব্দুল বাছিত।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, এসবিসি ব্যাংকের এসইভিপি ও চিফ টেকনোলজি অফিসার মোহাম্মদ মোফাজ্জল মামুন খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এসবিসি ব্যাংকের এফএভিপি মতিউল বারী চৌধুরী খুর্শেদ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, ভয়েস অব সিলেটের সম্পাদক ও পরিচালক মইন উদ্দিন মন্জু, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান সিদ্দিকীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি এবং ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বাংলা কিউআর কোডের সুবিধা, নিরাপত্তা ও ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে নির্বাচিত ব্যবসায়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা কিউআর কোড তুলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয় এবং এসবিসি ব্যাংকের বাংলা পে’ অ্যাপ ব্যবহার করে বাংলা কিউআর স্ক্যানের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য ক্রয় ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের সুফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে এসবিসি ব্যাংক পিএলসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আলোচনা সভাশেষে এসবিসি ব্যাংক পিএলসি সিলেট অঞ্চলের উদ্যোগে এক দেশ এক কিউআর, লেনদেনে বাংলা কিউআর শীর্ষক ব্যানারে একটি র্যালি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
» প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি সিসিকের ২৪১ কর্মচারীর, ৭ দিনের আল্টিমেটামে আন্দোলনের হুশিয়ারি
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
নিউজ ডেস্কঃ
চাকরি স্থায়ী করনের নাটকীয়তা যেন কোনভাবেই শেষ হচ্ছে না সিসিকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে।
দীর্ঘদিন ধরে মাস্টাররোলে কাজ করলেও এখনো স্থায়ী নিয়োগের মুখ দেখেননি তাঁরা। এবার চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ৭ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিসিকের প্রশাসক বরাবর দেওয়া এক স্মারক লিপিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ দাবি জানান।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) মাধ্যমে দেওয়া ওই আবেদনে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণে দৃশ্যমান ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২৪১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ২০১৫ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং-৯১৪৩/২০১৫) করা হয়।
২০১৮ সালের ১৮ মার্চ হাইকোর্ট তাঁদের পক্ষে রায় দেন।
পরবর্তী সময়ে সিসিকের দায়ের করা লিভ টু আপিল (নং-১৩০৪/২০১৯) খারিজ করে ২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি স্থায়ীকরণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ইতিমধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক ও মানবিক সংকটে পড়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বা কার্যকর অগ্রগতি না হলে আগামী ১১ নভেম্বর থেকে সিটি করপোরেশনের সীমানার বাইরে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা।
তবে আদালতের রায়ে চাকুরী স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
» ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃবৃন্দকে পিপি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিনের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নবনির্বাচিত আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহীর কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহীর কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ দুই সদস্য কমিটির নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান।
পিপি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন আশা প্রকাশ করেন যে, তাদের এই নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আরও সুসংগঠিত হবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি নতুন নেতৃত্বের সর্বাঙ্গীন সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
» সিলেট বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হলেন মো. কামাল
Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার
নিউজ ডেস্কঃ
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সাহস, পরিশ্রম, দূরদর্শিতা ও মানুষের জন্য কাজ করার আন্তরিকতা।
এসব গুণকে পুঁজি করে একের পর এক উদ্যোগ গড়ে তুলে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন সিলেট বিভাগ তরুণ উদ্যোক্তা ও যুব সংগঠক মো. কামাল।
আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুবসমাজের উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় যুব দিবস-২৬-এ সফল যুব সংগঠক ক্যাটাগরিতে সিলেট বিভাগে মধ্যে তিনবার শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক পুরস্কার অর্জন করেছেন।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেট ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রোববার (১ নভেম্বর) সিলেট জেলা পরিষদে তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় তাঁকে পুরস্কার প্রদান করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মো. কামাল অভিনয়শিল্পী ও যুব সংগঠক, দেশ যুব সংগঠন, দেশ থিয়েটার সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেট ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম এবং সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক। এছাড়া জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, মো. কামাল ২০১২ সাল থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত দেশ যুব সংগঠন ও দেশ থিয়েটার সিলেট একাডেমির মাধ্যমে সেলাই, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে শত শত বেকার তরুণ-তরুণীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতা করেছেন।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সামাজিক উন্নয়ন, মানবকল্যাণ এবং যুবসমাজকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁর এ অবদান প্রশংসনীয়।
মো.কামাল তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক নির্বাচিত হয়ে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আর ভবিষ্যতে তিনি যেন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক নির্বাচিত হতে পারেন, সেজন্য সকলের সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

