- জৈন্তাপুরে কৃষক-শ্রমিকের জনপদে পৌরসভা নয়, ইউনিয়ন পরিষদই চান নাগরিকরা
- সড়ক নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক
- বাংলাদেশ ইকুয়ালিটি সোসাইটি সিলেটের উদ্যোগে ইলেকট্রিকসেলাই মেশিন ও ঘর মেরামতের জন্য চেক বিতরণ
- লামাকাজী ব্রিজে টোল আদায় বন্ধ সহ ৫ দফা দাবি
- নৃশংস খুনের শিকার সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির বাসায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
- বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগরীর উদ্যোগে দাখিল ও এসএসসি কৃতী সংবর্ধনা
- চা শ্রমিকদের ৮ দফা দাবি; বিশেষ তদন্ত টিম গঠনের কথা জানালেন শ্রমমন্ত্রী
- পিডিবি বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
- আগুনে সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ীদের পাশে এমপি এমরান চৌধুরী
- সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে : খন্দকার মুক্তাদির
» জৈন্তাপুরে কৃষক-শ্রমিকের জনপদে পৌরসভা নয়, ইউনিয়ন পরিষদই চান নাগরিকরা
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
জৈন্তাপুরে প্রস্তাবিত পৌরসভা নিয়ে আপত্তি, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
জৈন্তাপুর প্রতিনিধিঃ
সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সচেতন নাগরিক ফোরাম।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য উপস্থাপন ও সীমানা নির্ধারণে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পুনরায় নিরপেক্ষভাবে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন।
এ সময় সংগঠনের যুগ্ন আহবায়ক বুরহান আহমেদ, সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম সরকার, সদস্য কামাল হোসেন, উপজেলা শ্রমীকদলের সভাপতি আব্দুর রব, বিশিষ্ট মুরব্বি হোসাই আহমেদ ও মাওলানা এবাদুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই তারিখে জৈন্তাপুর উপজেলার ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়ন ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজা নিয়ে প্রস্তাবিত জৈন্তাপুর পৌরসভার গেজেট প্রকাশ করে সরকার।
তবে সচেতন নাগরিক ফোরামের দাবি, পৌরসভা বাস্তবায়নের জন্য এ অঞ্চল এখনো উপযুক্ত নয় এবং পৌরসভা গঠনের প্রস্তাব তৈরির ক্ষেত্রে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অধিকাংশ তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় প্রস্তাবিত পৌরসভার সীমানা নির্ধারণেও নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর থেকেই এলাকার অধিকাংশ মানুষ ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবিতে মৌজাভিত্তিক লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত ১২ আগস্ট ১ নম্বর নিজপাট ও ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের প্রস্তাবিত পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন মৌজার হাজার হাজার মানুষের গণস্বাক্ষরিত আপত্তিপত্র জেলা প্রশাসক, সিলেট বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯-এর বিধান এবং বাস্তব তথ্যের সঙ্গে প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের প্রজ্ঞাপনের অসঙ্গতি রয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভৌগলিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠনের যৌক্তিকতা নেই।
তাঁরা বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থাতেই সন্তুষ্ট এবং পৌরসভা গঠনের আগে সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, প্রস্তাবিত পৌরসভা এলাকার ১২টি মৌজার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত।
এছাড়া একটি বড় অংশ শ্রমিক ও দিনমজুর হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করেন।
এলাকায় উল্লেখযোগ্য শিল্প-কারখানা নেই এবং উপজেলা সদরের একটি বাজার ছাড়া অন্যান্য এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণও সীমিত বলে দাবি করা হয়।
নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী শ্রমিক, ধান ও শাক-সবজি উৎপাদনকারী কৃষকদের ওপর পৌরসভা ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হলে তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
অকৃষি জমির হিসাব তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিজপাট ইউনিয়নে মোট জমির পরিমাণ ৮ হাজার ৪২৪ দশমিক ৫৭ একর।
এর মধ্যে অকৃষি জমি ৭৫৪ দশমিক ৬০ একর, যা মোট জমির ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
অন্যদিকে ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নে মোট জমির পরিমাণ ১১ হাজার ৪৪৮ একর এবং অকৃষি জমির পরিমাণ ৩ হাজার ১৩৬ একর, যা ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
দুই ইউনিয়নের ৪৮টি মৌজার মধ্যে ১২টি মৌজা নিয়ে পৌরসভা গঠনের প্রস্তাব করা হলেও সামগ্রিক বাস্তবতায় অকৃষি জমির হার প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় কম বলে দাবি করা হয়।
জনসংখ্যার হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী ১ নম্বর নিজপাট ইউনিয়নের জনসংখ্যা ৩৭ হাজার ১৮০ এবং ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা ৩৩ হাজার ৮৫০ জন। দুই ইউনিয়ন মিলিয়ে মোট জনসংখ্যা ৭১ হাজার ৩০ জন।
অথচ প্রস্তাবিত পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত ১২টি মৌজার জনসংখ্যা ২৬ হাজার ৮৫১ জন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ অবস্থায় পৌরসভা গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসংখ্যার শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সচেতন নাগরিক ফোরাম।
সংগঠনটির বক্তব্য, দুই ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৭১ হাজার ৩০ জনের মধ্যে প্রস্তাবিত ১২টি মৌজায় যদি ৫০ হাজার জনসংখ্যা দেখানো হয়, তাহলে অবশিষ্ট ৩৬টি মৌজায় মাত্র ২১ হাজার ৩০ জন জনসংখ্যা থাকার কথা।
এ হিসাব বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়।
প্রস্তাবিত পৌরসভার ১২টি মৌজার মধ্যে তিনটি মৌজা সরকারি তপশিল অনুযায়ী হাওর এলাকা বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
এগুলো হলো, কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর ও বিরাইমারা হাওর। এসব এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত এবং ডিবির হাওরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মৎস্যজীবী বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ভুল তথ্য উপস্থাপন করে থাকলে তা পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির দাবি, কোন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিকাশের উদ্দেশ্যে নয়, বরং স্থানীয় মানুষের বাস্তব জীবন-জীবিকা, কৃষি, অর্থনীতি, ভৌগলিক অবস্থান ও সামাজিক কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
সচেতন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “আমরা ভুল তথ্যের মাধ্যমে নয়, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে নীতিমালা অনুযায়ী জৈন্তাপুরে পৌরসভা গঠনের উপযুক্ততা যাচাই চাই।
পুনরায় নিরপেক্ষভাবে সরেজমিন তদন্ত করে সঠিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অন্যথায় ভুল তথ্য ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের রূপরেখা পুনর্বিবেচনা, নিরপেক্ষ সরেজমিন তদন্ত এবং সঠিক তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।
» সড়ক নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
সম্প্রসারিত ওয়ার্ড সমূহে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছি
নিউজ ডেস্কঃ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কারণ নতুন ওয়ার্ডগুলো উন্নয়নের দিক থেকে পুরোনো ওয়ার্ডগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
পর্যায়ক্রমে এসব এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে মূল নগরের সমপর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিরচক এলাকায় সড়ক নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেন, পুরোনো ওয়ার্ডগুলোর মতো সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোতেও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই। এ লক্ষ্যেই নতুন সড়ক নির্মাণ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মুক্তিরচক এলাকায় সড়ক নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট করা হয়েছে।
এরপর সড়কে সিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর ওপর আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে।
যেসব স্থানে নতুন করে মাটি ভরাট করা হয়েছে, সেসব স্থানে সড়কের পাশে রিটেইনিং ওয়ালও নির্মাণ করা হয়েছে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২৫ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক, ড্রেনেজ সহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে।
নগরীর উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডের যেসব সড়কের উন্নয়নকাজ এখনো বাকি রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলোও বাস্তবায়ন করা হবে।
সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সড়কবাতি স্থাপনের কাজও করা হবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সম্প্রসারিত ওয়ার্ডগুলোকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব এলাকায় পরিণত করতে চাই।
এ জন্য সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।
উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে সিসিকের সাবেক কাউন্সিলর নাজমুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী খায়রুল ইসলাম অপু, শাহগলি ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শিহাব আহমদ, তরুণ সংগঠক ফরহাদ, নয়ন, ফাহিম, শাহনুর সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
» বাংলাদেশ ইকুয়ালিটি সোসাইটি সিলেটের উদ্যোগে ইলেকট্রিকসেলাই মেশিন ও ঘর মেরামতের জন্য চেক বিতরণ
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ ঈকোয়ালিটি সোসাইটি সিলেটের উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ও তাদের পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে দু’টি পরিবারের মাঝে ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন ও ঘর মেরামতের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) নগরীর আখালিয়ার লেকসিটিস্থ বেস অফিসে বাংলাদেশ ইকুয়ালিটি সোসাইটির উদ্যোগে ও এবং মুসলিম চ্যারিটি আইডিইএ এর সহযোগিতায় এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক।
বাংলাদেশ ঈকোয়ালিটি সোসাইটি সিলেটের নির্বাহী পরিচালক রুকসানা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর রায়।
সমাজসেবী এম এ জব্বার শাহ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিতি ছিলেন, মো. মনসুর আলম, মো. কবির উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, মো. আব্দুশ শুকুর, নাছিমা বেগম, রোকেয়া আক্তার, হাসিনা বেগম, লিপি খান, রওশন আরা মুকুল, তানিয়া আক্তার ইতি, শাবানা বেগম, নাছিমা বেগম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী পরিবারগুলোর টেকসই অর্থনৈতিক মুক্তি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যবসা স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য একজন মহিলাকে ১টি ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন ও একটি দরিদ্র পরিবারকে ঘর মেরামতের জন্য আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধান অতিথি-সহ অতিথিবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদের সমাজের কোন বোঝা নন, বরং সঠিক সুযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারাও দেশের সম্পদ হতে পারেন।
সরকার তাদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং সমাজের বিত্তবানদেরও তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।
আজ এখানে যে ইলেকট্রিক সেলাই মেশিন এবং ঘর মেরামতের চেক দেওয়া হলো, তা এই অনগ্রসর পরিবারগুলোকে আত্মনির্ভরশীল হতে অনন্য ভূমিকা রাখবে।
তিতি বাংলাদেশ ঈকোয়ালিটি সোসাইটির এই ধরণের মানবিক উদ্যোগের ভুয়সী প্রশংসা করে এই সংগঠনের মত অন্যান্য সংগঠনকে মানব সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
» লামাকাজী ব্রিজে টোল আদায় বন্ধ সহ ৫ দফা দাবি
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
সিলেট-সুনামগঞ্জ-ছাতক রুটে আজ থেকে ট্রাক-পিকআপ শ্রমিকদের কর্মবিরতি
লামাকাজী এম এ খান সেতু সহ সিলেটের সব সেতু থেকে টোল আদায় বন্ধসহ ৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলেট-সুনামগঞ্জ ও সিলেট-ছাতক রুটে ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন।
» নৃশংস খুনের শিকার সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির বাসায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
স্টাফ রিপোর্টঃ
সিলেট নগরীর রায়নগরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের বাসভবনে গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে নগরীর রায়নগরের ‘১১১ নিকুঞ্জ ভিলায়’ গিয়ে মন্ত্রী নিহত দম্পতির স্বজন ও সন্তানদের খোঁজখবর নেন।
এ সময় মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শোকস্তব্ধ স্বজনেরা।
নিহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ে তদন্ত সম্পন্নের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, কারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ঘটনার নেপথ্যে যদি কোনো কুশীলব থাকে, তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে নিহত পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের বিষয়ে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
এসময় বিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার মেয়ে সেলিনা সুলতানা সহ পরিবারের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
» বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগরীর উদ্যোগে দাখিল ও এসএসসি কৃতী সংবর্ধনা
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
নববী আদব-আখলাক অর্জনের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর ও আদর্শিকভাবে গড়ে তুলতে হবে : মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী
নিউজ ডেস্কঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী বলেছেন, নববী আদব-আখলাক অর্জনের মাধ্যমে জীবনকে সুন্দর ও আদর্শিকভাবে গড়ে তুলতে হবে।
ইলম অর্জন, উত্তম চরিত্র, আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের মাধ্যমে একজন মানুষ নিজেকে সমাজের জন্য কল্যাণকর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি, আরবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভাষা আয়ত্ত করতে হবে।
ভাষাজ্ঞান মানুষের চিন্তার পরিধি বিস্তৃত করার পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, একই সঙ্গে জ্ঞান ও মননকে সমৃদ্ধ করতে এবং সঠিক চিন্তাশক্তি বিকাশে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
এসময় তিনি আরও বলেন, তালামীযে ইসলামিয়ার কাফেলা মানুষকে মদিনার দিকে নিয়ে যায়।
এ কাফেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ, সাহাবায়ে কিরামের জীবন এবং আউলিয়ায়ে কিরামের শিক্ষা অনুসরণ করতে হবে। তাঁদের আদর্শকে ধারণন করে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।
ইদানীং প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার সময়ের অপচয় ও আত্মিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তাই সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত করে সময়কে ইলম অর্জন, আত্মশুদ্ধি ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করতে হবে।
পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের জন্য দৈনন্দিন ওযীফা ও আমল নিয়মিত আদায় করতে হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া সিলেট মহানগর কর্তৃক আয়োজিত দাখিল ও এসএসসি কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরিউক্ত কথাগুলো বলেন।
শাখা সভাপতি আরিফ হোসাইন সামাদ-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুরুল করিম মহসিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ কুতবুল আলম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনযুরুল হায়দার, বাদেদেওরাইল ফুলতলি কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মোহাম্মদ নজমুল হুদা খান, আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা বেলাল আহমদ, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহর কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, তালামীযে ইসলামিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহবুবুর রহমান ফরহাদ, বুরাইয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ-এর রেজিস্টার ডা. উমর বিন আব্দুল আজিজ।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তালামীযে ইসলামিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মাওলানা হুমায়ুনুর রহমান লেখন, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ উসমান গণি, সাবেক কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হাসান জুয়েল, কেন্দ্রীয় স্কুল ও কলেজ বিষয়ক সম্পাদক জুবেল আহমদ, শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার প্রভাষক মোহাম্মদ ইমাদুল ইসলাম, সিলেট পশ্চিম জেলা সভাপতি ইমরান আহমদ সুফি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি জোন-এর সাধারণ সম্পাদক মাহদি বিন আব্দুল আজিজ, সিলেট মহানগরীর সাবেক সভাপতি এনাম উদ্দিন আহমদ।
এসময় অন্যন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগরীর সহ সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ময়নুল ইসলাম মুন্না, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, নাজমুল হাসান রাসেল, প্রচার সম্পাদক আব্দুল মুনতাছির খান, সহ প্রচার সম্পাদক নুরুল হাসান, মুহাম্মদ জামান আহমদ, অর্থ সম্পাদক এস এম আলী আহমদ, সহ অফিস সম্পাদক আবুল আহসান ইয়াসিন প্রমুখ।
» চা শ্রমিকদের ৮ দফা দাবি; বিশেষ তদন্ত টিম গঠনের কথা জানালেন শ্রমমন্ত্রী
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
স্টাফ রিপোর্টঃ
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণসহ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন, চা শ্রমিক নেতারা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার বাসভবনে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই দাবি জানান বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
সাক্ষাৎকালে চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ শ্রমিকের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত ৮ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার আশ্বাস দেন।
একই সঙ্গে তিনি জানান, চা বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হবে। ওই টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ৮ দফা দাবিগুলো হল, বর্তমান ১৮৭.৪৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে দৈনিক মজুরি ৪০০ টাকা নির্ধারণ, বসতভিটার স্থায়ী মালিকানা এবং সুলভ বাসগৃহ নিশ্চিত করা, চা শ্রমিক ইউনিয়নের দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করা, শ্রম আইনে চা শ্রমিকদের ছুটি, গ্র্যাচুইটি ও উচ্ছেদসংক্রান্ত বৈষম্যমূলক ধারা সংশোধন, চা অঞ্চলগুলোতে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও সরকারি চাকরিতে অগ্রাধিকার দেওয়া, ঐতিহ্য রক্ষায় ২১টি উপজেলায় “চা জনগোষ্ঠী শিল্পকলা একাডেমি” স্থাপন, বাকি ৬৭টি চা জনগোষ্ঠীকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসেবে গেজেটভুক্ত করা ও ঐতিহাসিক ‘মুল্লুকে চল’ আন্দোলনের দিন ২০ মে-কে ‘চা শ্রমিক দিবস’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া।
বৈঠকে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, পংকজ এ কন্দ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল, বিজয় হাজরা, সাংগঠনিক সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, রাজু গোয়ালা, অর্থ-সম্পাদক ধনা বাউরী, কমল বুনার্জী, দেবু কাউরী ও রতন পালসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
» পিডিবি বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
জনদুর্ভোগ নিরসনে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও সুষম বণ্টনের দাবি
নিউজ ডেস্কঃ
সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও জনদুর্ভোগ নিরসনে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুতের সুষম বণ্টন সহ বিভিন্ন দাবিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেট বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী সহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরীর নবাবরোডস্থ পিডিবির বিভাগীয় কার্যালয়ে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী উপস্থিত ছিলেন।
পিডিবির সিলেট বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসেনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
তাই বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ধরনের বৈষম্য হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো জনজীবনে পড়ে। সিলেটের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ অঞ্চলের জন্য বিদ্যুতের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে রাত ও অফিস সময়ে লোডশেডিং বন্ধ করতে হবে। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অফিস-আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। একইভাবে রাতে লোডশেডিং হলে শিক্ষার্থী, রোগী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বাড়ে।
তাই লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে সময় ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে।
মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, সিলেট দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর ও পর্যটনকেন্দ্র। এখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে যাতে কোন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে না পড়ে, সে বিষয়টিও কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও সিলেটের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ করা সম্ভব।
আমরা আশা করি, পিডিবির স্থানীয় কর্মকর্তারা সিলেটের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি তুলে ধরবেন এবং সিলেটের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবেন।
সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, যেহেতু রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধ করা হচ্ছে, সেহেতু দিনের বেলায় বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যবসা-বাণিজ্য যদি ঠিকমতো না হয়, তাহলে অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পিডিবির সিলেট বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসেন বলেন, গত দুদিন ধরে সিলেট নগরীতে লোডশেডিং হচ্ছে না।
যতটুকু চাহিদা, ততটুকু বরাদ্দই পাওয়া গেছে। তবে লোডশেডিংয়ের বিষয়টি সরাসরি জাতীয় গ্রিড থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
ফলে স্থানীয় পর্যায়ে এ বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা শুধু সিলেটে নয়, সারাদেশেই চলছে। এবিষয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলা হবে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় জামায়াত নেতৃবৃন্দ সিলেটের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, জনদুর্ভোগ কমানো এবং বিদ্যুতের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
» আগুনে সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ীদের পাশে এমপি এমরান চৌধুরী
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
দুঃসময়ে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের মানুষের পাশে আবারও আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ালেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে গোলাপগঞ্জের হেতিমগঞ্জ বাজারে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে গিয়ে তাদের সহমর্মিতা প্রকাশ ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোররাতে হেতিমগঞ্জ বাজারের একটি দোকানে বৈদুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়।
মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
এতে ব্যবসায়ীদের নগদ টাকাসহ মালামাল পুড়ে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
সংবাদটি পাওয়ার পরপরই দুপুরে হেতিমগঞ্জ বাজারে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী।
তিনি ভস্মীভূত দোকানগুলো ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা জানান।
দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এমপি বলেন, হেতিমগঞ্জের এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
এ ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে আপনারা নিজেদের একা ভাববেন না; আপনাদের এই কঠিন সময়ে আমি এবং আমার পুরো টিম আপনাদের পাশে রয়েছি।
তিনি তৎক্ষণাৎ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও সরকারি ফান্ড থেকে দ্রুত আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীর এই তাতক্ষণিক উপস্থিতি এবং সহযোগিতার আশ্বাসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হেতিমগঞ্জ বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই এমপির সরাসরি মাঠে নেমে আসা এবং ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্য প্রমাণ করে যে তিনি কেবল ভোটের নেতা নন, বরং প্রতিটি সুখ-দুঃখে জনমানুষের প্রকৃত অভিভাবক।
বিপদের সময় তাঁর এমন মানবিক উদ্যোগ ও দৃঢ় নেতৃত্ব পুরো গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং দলীয় সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

» সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে : খন্দকার মুক্তাদির
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
নিউজ ডেস্কঃ
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি, বলেছেন, সিলেট অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও এক ফসলি জমিকে আবাদে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের চাষ বাড়াতে হবে।
কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়ানোই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর কনফারেন্স রুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জেলা পর্যায়ে বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিষয়ক জেলা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পতিত ও এক ফসলি জমি রয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হাওর ও নিম্নাঞ্চলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক জমি আবাদে আনা সম্ভব হবে।
একইভাবে সেচের অভাবে যেসব জমি বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অনাবাদি থাকে, সেখানে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব।
জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খাল খনন একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
তিনি সিলেটে তরমুজ চাষের সাফল্যকে নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আগাম তরমুজ উৎপাদনের মাধ্যমে সিলেটের কৃষকরা দেশের বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলসহ শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে।
স্বল্প সময়ে বিট উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় একই জমিতে এর পাশাপাশি অন্য ফসলও চাষের সুযোগ রয়েছে।
এ ধরনের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা যাচাইয়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, এলাকাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সরকারি সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কৃষি সচিব সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সিলেটে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ জনপদে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ কৃষিনির্ভর। তাই প্রতিটি কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ উৎপাদন ও রিটার্ন নিশ্চিত করতে হবে।
উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে খাদ্য, বিশেষ করে চালের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নতুন ফসলে ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ করা কৃষকরাই কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন।
তরমুজ, পেঁয়াজসহ নতুন ফসল চাষে যারা ঝুঁকি নিয়েছেন, তাঁরা সাহসী কৃষক এবং তাদের দেখানো পথে সিলেটের কৃষিকে এগিয়ে নিতে হবে।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সিলেটের কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
» রায়নগরে নিহত দম্পতির স্বজনদের সমবেদনা জানালেন খন্দকার মুক্তাদির
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস
নিউজ ডেস্কঃ
সিলেট নগরীর রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক কয়লা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাদের বাসভবনে গেছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রায়নগরে নিহতদের বাসায় গিয়ে তিনি শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং নিহতের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার ও মেয়ে সেলিনা সুলতানার সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
পরিবারের সাথে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, “এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা শুধু ন্যায়বিচারের স্বার্থেই নয়, ন্যায়বিচার তো একটি অংশ মাত্র। তবে এর আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবিষ্যতে যেন এই জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এটি অপরাধীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “সিলেটের সার্বিক নিরাপত্তা এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে, যেন সবাই একটি নিরাপদ ও আশ্বস্ত বোধ করেন, সেজন্যই দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ, তা নিশ্চিত করা হবে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)-এর চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
» সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সিলেটে নিসচার মানববন্ধনে ৬ দফা দাবি পেশ
Published: ১৫. আগ. ২০২৬ | শনিবার
সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধে প্রশাসনের অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে
নিউজ ডেস্কঃ
সম্প্রতি সিলেটের মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জাতীয় সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে শনিবার (১৫ আগষ্ট) সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিশাল মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
নিসচা সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি এম. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছয়ফুল করিম চৌধুরী ও মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাবেলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, নিসচা জেলা শাখার উপদেষ্টা ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এ কে এম শমিউল আলম।
প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা শাখার সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় উদে¦গজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।
এখনই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। নিরাপদ সড়ক চাই এটা শুধু দাবি নয়, আমাদের সবার অধিকার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মহাসড়কে ত্রুটিপুর্ণ, ফিটনেস ও রোড পারমিটবিহীন যানবাহন চলাচলের কারণেই দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালনা ও বেপরোয়া ওভারটেকিং মহাসড়কে দুর্ঘটনায় অন্যতম কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশসহ প্রশাসনের অগ্রনী ভূমিকা রাখতে হবে।
এব্যাপারে নিসচা সিলেট ও মহানগর শাখার পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
দাবিগুলো হলো;
১। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে এবং প্রশাসনের পাশাপাশি স্টেকহোল্ডাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
২। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
৩। মহাসড়কে ফিটনেস ও রোড পারমিটবিহীন যানবাহন সম্পূর্ণরুপে চলাচল বন্ধ করতে হবে।
৪। সড়ক পরিবহন ২০১৮ আইনের পূর্ণ প্রয়োগ বাস্তবায়ন করতে হবে প্রয়োজনে নতুন আইন প্রনয়ন করতে হবে।
৫। মহাসড়কে ট্রমা সেন্টার ও পর্যাপ্ত এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৬। হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি-আহমদ জাকারিয়া, আব্দুর রহমান, মো. আব্দুল হাছিব, মহানগর সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেদুর রহমান সাহেদ, আবু জাবের, রাজিব ঘোষ, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন, জেলা অর্থ সম্পাদক-সুহেল চৌধুরী, মহানগর অর্থ সম্পাদক শেখ মো. লায়েক মিয়া, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম আহমদ, মহানগর সাংগঠনিক মাসুদুজ্জামান তাপাদার মুক্তার, জেলা দুর্ঘটনা অনুসন্ধান সম্পাদক মো. ইমতিয়ার হোসেন আরাফাত, মহানগর শাখার লিয়াকত আলী, জেলা দপ্তর সম্পাদক ইবনে জাহান তানভীর, মহানগরের মুনসুর আহমদ, মহানগরের প্রচার সম্পাদক আহসান হাবিব, প্রকাশনা সম্পাদক আজমল আলী, জেলা আইন বিষয়ক সম্পাদক ফয়সল চৌধুরী, জেলার সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক-মো. মাজিদুর রহমান, মহানগরের ইমাম উদ্দিন কামাল, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক-মোস্তফা হোসেন সম্রাট, মহানগরের তানিয়া আহমেদ, জেলার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাছরিন সুলতানা, মহানগরের রুনা সুলতান, জেলার যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহেদুর আলম রাফি, জেলা ও মহানগরের কার্যকরি সদস্য মো. শরীফ আহমদ, সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ, ফখরুল আল হাদি, ফয়সল আহমদ, মো. আবুল বশর সাকু আহমদ, মিয়া মো. রুস্তুম, মো. কামরুজ্জামান, আকবর মিয়া, আহমেদ ফুহাদ বিন রাশিদ, আব্দুল্লাহ এ মাসুম, শেখ জাবেদ আহমদ এমরান, এমদাদুল হক লিপন, সেলিম আহমদ, মো. হাফিজুর রহমান, ইকরামুল হাসান লাহিন, মো. মুক্তার আহমদ, খায়রুল ইসলাম প্রমুখ।

