শিরোনামঃ-

» ঈদ বোনাস ও বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ

Published: ২২. মে. ২০২৬ | শুক্রবার

শ্রমিকের শ্রম-ঘামে মালিকের মুনাফা, অথচ ঈদে শ্রমিকের ঘরে নেই আনন্দ

নিউজ ডেস্কঃ
দেশের মুসলমান সম্প্রদায় যখন ঈদের আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন হোটেল-রেস্টুরেন্ট সহ দেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি, আইনানুগ উৎসব বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে শুক্রবার (২২ মে) বিকেল ৫টায় সুরমা পয়েন্টে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিটি পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ’র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ (শান্ত), সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুনু মিয়া সাগর, সিলেট সদর উপজেলা স’মিল শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যতম নেতা শাহীন আহমদ, মো. সোহেল রানা।

বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে মালিকশ্রেণি বছরের পর বছর বিপুল মুনাফা অর্জন করছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে মালিকরা যখন জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করে, তখন সেই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদেরই ন্যায্য বেতন-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নামতে হয়।

বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ (অদ্যাবধি সংশোধিত)-এর ধারা ২ (২ক) এবং-এর বিধি ১১১ (৫) অনুযায়ী শ্রমিকদের উৎসব বোনাস প্রদান বাধ্যতামূলক।

কিন্তু বাস্তবে প্রতিবছর ঈদ এলেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস আদায়ের জন্য আন্দোলন, মিছিল, মানববন্ধন ও মালিকদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিতে হয়।

যে শ্রমিক সারা বছর মালিকের প্রতিষ্ঠানে শ্রম দিয়ে মুনাফা সৃষ্টি করে, ঈদের সময় সেই শ্রমিকের ঘরেই অভাব-অনটন বিরাজ করে।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের জীবন চরম সংকটে পড়েছে।

চাল, ডাল, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাসাভাড়া ও পরিবহন ব্যয় সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও শ্রমিকদের মজুরি সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস অবস্থা।

অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটানো অসংখ্য শ্রমিক পরিবারের পক্ষে ঈদের ন্যূনতম আনন্দটুকুও নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্রমিকরা যখন ন্যায্য মজুরি ও বোনাসের দাবিতে আন্দোলনে নামে, তখন মালিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষায় প্রশাসন, শিল্প পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়।

অথচ শ্রমিকদের শ্রম ছাড়া শিল্প-কারখানা, হোটেল রেস্টুরেন্ট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান একদিনও চলতে পারে না।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই। একইসাথে বক্তারা শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ, হত্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

একের পর এক ধর্ষণ, গণধর্ষণ, নির্যাতন, নারী ও শিশু হত্যার ঘটনা প্রমাণ করছে এ ধরনের অপরাধ অনেক ক্ষেত্রেই কার্যত অপ্রতিরোধ্য অবস্থায় পৌঁছে গেছে।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর তথ্যমতে গত ১৬ মাসে দেশে অন্তত ৫৮০ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে ৪৮৩ জনকে।

একই সময়ে আরও অন্তত ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, অধিকাংশ ঘটনায় বিচারহীনতা, দীর্ঘসূত্রতা ও প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়া

অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে অপরাধীদের প্রতি রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান দৃশ্যমান না হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন।

» সিলেট সদর উপজেলা জামায়াতের ওয়ার্ড-ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির

Published: ২২. মে. ২০২৬ | শুক্রবার

খুণ ধর্ষন ছিনতাই রাহাজানী বৃদ্ধিতে সামাজিক নিরাপত্তা ভেঙ্গে পড়েছে : মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম

নিউজ ডেস্কঃ
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, দেশে খুণ ধর্ষণ ছিনতাই চাঁদাবাজী ও রাহাজানী চরম আকার ধারণ করেছে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ছোট্ট শিশুরা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে।

২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এমন নৃশংসতা ও বর্বরতা কোনভাবেই কাম্য হতে পারেনা। ১২ ফেব্রুয়ারীর জাতীয় নির্বাচনের পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব পালন করলেও জনগণ এর সুফল পাচ্ছেনা।

প্রশাসন থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বত্র দলীয়করণের ফলে অযোগ্যদের দায়িত্বে বসানো হচ্ছে।

এর প্রভাব রাষ্ট্রের সকল স্তরে পড়তে শুরু করেছে। এভাবে রাষ্ট্র ও সমাজ চলতে দেয়া যায়না। জামায়াতের সকল স্তরের জনশক্তিকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, জামায়াত দেশে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। খুণ, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজী, রাহাজানী সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে জামায়াতের কর্মতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করতে হবে। জনগণের আশাআকাঙ্খাকে ধারণ করতে হবে। তাহলে এদেশে ইসলামী আন্দোলনের বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি শুক্রবার (২২ মে) সিলেট মহানগরীর সদর উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে দিনব্যাপী ওয়ার্ড ও ইউনিট দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

উপজেলা আমির নাজির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী প্রিন্সিপাল আল ইমরানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে উপজেলার আওতাধিন সকল ইউনিয়নের আমীর-সেক্রেটারী এবং ওয়ার্ড ও ইউনিটের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এডভোকেট মো আব্দুর রব, মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর জামায়াত নেতা মাওলানা এটিএম শামসুদ্দিন, উপজেলা জামায়াত নেতা আব্দুল লতিফ লালা, এডভোকেট মমিনুজ্জামান ও আমিনুর রহমান প্রমূখ।

» সিলেট মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি মাহিন আজাদ খোকনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

Published: ২২. মে. ২০২৬ | শুক্রবার

নিউজ ডেস্কঃ
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সুনির্দিষ্ট লিখিত সামাজিক ও পারিবারিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেট মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি মাহিন আজাদ (খোকন)-এর বিরুদ্ধে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দলীয় ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে এই শাস্তিমূলক ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

শুক্রবার (২২ মে) সিলেট মহানগর যুবদলের সভাপতি শাহ নেওয়াজ বক্ত চৌধুরী তারেক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা মো: সম্রাট হোসেন-এর যৌথ নির্দেশনায় ৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

গঠিত তদন্ত কমিটির দায়িত্বশীল সদস্যবৃন্দ হলেন, কমিটির প্রধান ও সিলেট মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বেলাল, কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি সোহেল মাহমুদ,  কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ খান জুয়েল।

মহানগর যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এই তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে তদন্ত কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গঠিত এই কমিটিকে প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগের আলোকে সরেজমিনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

তদন্ত কাজ সমাপ্ত করে আগামী ১ (এক) সপ্তাহের মধ্যে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন সিলেট মহানগর যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

» শহীদ মিনারে সিলেট মহানগর মহিলা জামায়াতের মানববন্ধন আজ

Published: ২২. মে. ২০২৬ | শুক্রবার

নিউজ ডেস্কঃ

ঢাকায় শিশু রামিশাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি সহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে সিলেট মহানগর মহিলা জামায়াতের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে।
কেন্দ্রঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে উক্ত মানববন্ধন আজ শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টায় নগরীর চৌহাট্টাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে।
যথাসময়ে উপস্থিত থেকে মানববন্ধন কর্মসূচীকে সফল করার জন্য সিলেটের নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারী ফৌজিয়া রহমান শিউলী।

» জমকালো আয়োজনে বিএমজেএ সিলেটের ‘ফ্যামিলি ডে’ উদযাপিত

Published: ২২. মে. ২০২৬ | শুক্রবার

‘দেশ ও জাতির উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখছে মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম’

নিউজ ডেস্কঃ
জমকালো আয়োজন ও সিলেটের বিশিষ্ট গুণীজনদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিএমজেএ) সিলেট বিভাগীয় কমিটির ‘ফ্যামিলি ডে-২০২৬’।

শুক্রবার (২২ মে) দক্ষিণ সুরমার সিলাম মাঝপাড়াস্থ ‘রাজপ্রাঙ্গন রিসোর্ট এন্ড পার্টি সেন্টারে’ দিনব্যাপী এই পারিবারিক উৎসব উদযাপিত হয়।

আনন্দঘন এই আয়োজনে বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির উন্নয়নে অত্যন্ত সহায়ক এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

দিনব্যাপী এই উৎসবের কর্মসূচিতে ছিল এসোসিয়েশনের সদস্যদের পরিবারের মধ্যকার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র।

বিএমজেএ ফ্যামিলি ডে উদযাপন কমিটির আহবায়ক এএইচ আরিফের সভাপতিত্বে এবং এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সিলেটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিসিকের সাবেক প্যানেল মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তাজরুল ইসলাম তাজুল, দৈনিক সিলেটের সংবাদ’র সম্পাদক ও প্রকাশক পারভীন বেগম, দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম আহমদ আলী, বর্তমান সভাপতি আশরাফুল ইসলাম ইমরান।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের নানামুখী কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে দারুণ কাজ করছে।

সাংবাদিকতার এই আধুনিক ধারাকে এগিয়ে নিতে আগামী দিনে সব ধরনের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ফ্যামিলি ডে উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব রত্না আহমদ তামান্না। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সাংবাদিক রাজু আহমদ, শাহ মো. কয়েস আহমদ, মো. নুরুল ইসলাম, আনিতা সিনহা, যুবদল নেতা মিনার হোসেন লিটন।

পারিবারিক এই উৎসবকে সফল করতে বিভিন্ন উপকমিটি নিরলসভাবে কাজ করে। খেলাধুলা পরিচালনা করেন, ক্রীড়া উপকমিটির আহবায়ক রুবেল আহমদ এবং সদস্য শাহীন আহমদ, বাবর জোয়ারদার, তৌফিকুর রহমান হাবিব ও আব্দুল মাজিদ চৌধুরী।

অন্যদিকে, সাংস্কৃতিক ও আপ্যায়ন উপকমিটির দায়িত্বে থেকে পুরো আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করেন সুলেমান সুহেল, আশরাফুর ইসলাম, কৃতিশ তালুকদার ও শাহীন আলম।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল খালিক, ফারহান আহমদ চৌধুরী, জাবেদ এমরান, জাকির হোসেন দিপু, ফাহিম আহমদ, জাহিদ আহমদ, সৈয়দ রাসেল, সাইদুর রহমান উৎফুল বড়ুয়া, ঈষা তালুকদার, আশিকুর রহমান রানা।

অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন, অনামিকা অনু, সুপ্রিয়া দে।

এসোসিয়েশনের সদস্য দিনশেষে এক আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র এবং নৈশভোজের মাধ্যমে আনন্দের এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

» ‘ভিন্নমত দমনে হামলা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে’

Published: ২২. মে. ২০২৬ | শুক্রবার

নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ইসলামী ঐক্যজোট সিলেট মহানগরীর নিন্দা

নিউজ ডেস্কঃ
ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর সন্ত্রাসী ও ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট সিলেট মহানগর শাখা।

শুক্রবার (২২ মে) সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের সিলেট মহানগরীর সভাপতি মুফতী ফয়জুল হক জালালাবাদী ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম কিউ মইনুল ইসলাম আশরাফী এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালন শেষে জুমআর নামাজ আদায় করে বের হওয়ার পর পুলিশের উপস্থিতিতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

প্রথমে ডিম ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং পরবর্তীতে হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিত এই হামলা প্রমাণ করে যে, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভিন্নমত দমনের পুরনো ও কলুষিত সংস্কৃতি নতুন রূপে ফিরে আসছে।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় যুক্তি, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণের পরিবর্তে হামলা, রক্তপাত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেওয়া রাষ্ট্র ও রাজনীতির জন্য একটি ভয়াবহ অশনিসংকেত।

একজন গণঅভ্যুত্থানের কর্মীকে প্রকাশ্যে আক্রমণ, আহতদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া এবং মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা শুধু সাধারণ সন্ত্রাস নয়; এটি এক ধরনের দখলদার রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ।

বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, দেশের সাধারণ জনগণ একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নতুন বাংলাদেশেও যদি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা, পুলিশি নীরবতা এবং দলীয় সন্ত্রাস অব্যাহত থাকে, তবে জনগণের সেই প্রত্যাশা ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হবে।

ইসলামী ঐক্যজোটের নেতৃদ্বয় অবিলম্বে এই কাপুরুষোচিত হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

একই সঙ্গে তাঁরা আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যেকোন রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

» দক্ষিণ সুরমা থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন সম্পন্ন

Published: ২২. মে. ২০২৬ | শুক্রবার

৮ দফা বাস্তবায়নে সকল সনাতনীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমা থানা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১১টায় নগরীর শিববাড়ী জৈনপুরের শ্রী শ্রী মহালক্ষী ভৈরবী গ্রীবাপীঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সম্মেলনের সূচনা হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয়  সহ-সভাপতি এডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার আদায়ে পূজা উদযাপন পরিষদ এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। আমরা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এদেশের সনাতন ধর্মের মানুষদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমমর্যাদা ও সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সনাতন ধর্মের মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করছি।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও সংখ্যালঘু মানুষের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্যের অবসান হয়নি।

আমারা বরাবরই অবহেলিত। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আইন না থাকা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা চিন্তিত।

তিনি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন, জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, দেবোত্তর সম্পত্তি আইন প্রণয়নসহ সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সকল সনাতন ধর্মালম্বলীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান।

পূজা পরিষদ দক্ষিণ সুরমা থানার সভাপতি দিপংকর দাস এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নিখিল মালাকার এর পরিচালনায় সম্মেলনে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন, পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মলয় পুরকায়স্থ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ করা হয়েছে সনাতন ধর্মের মানুষের কল্যাণের জন্য। আমাদের মধ্যে মতের অমিল থাকতে পারে। কিন্তু আমরা সবাই সনাতনী। আমাদের প্রাণের ৮ দফা নিয়ে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ এবং এ ঐক্য ধরে রাখতে হবে।

তিনি সনাতন ধর্মালম্বীদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এবং দাবি আদায়ের আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে পূজা উদযাপন পরিষদকে আরো শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পূজা উদযাপন পরিষদ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শৈলেন কুমার কর, মহানগরের গ্রন্থণা প্রকাশনা সম্পাদক নন্দন চন্দ্র পাল।

উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, মনমোহন দেবনাথ, রাজু পাল, বিশ্বজিৎ দাস, অরিন্দন দাস হাবলু, শিবব্রত ভৌমিক চন্দন, জনার্দন চক্রবর্তী, প্রতাপ চৌধুরী, প্রদীপ বর্ধন, প্রদীপ ঘোষ, চন্দ্রশেখর চপল, জয়ন্ত গোস্বামী, অসীম দেব, শ্যামল দেবনাথ, সুমন চন্দ্র রায়, মিন্টু দাস, অপন দাস, সুবল পাল, শান্ত চন্দ্র মালাকার, অরুন দাস, অজিত দাস, হিরা কর, বিতুষ কর, সজল পাল, জিতেশ পাল, এডভোকেট শুভ দেব, বিশ্বজিৎ দে রিঙ্কু, রিংকু দাস, তপু দাস, রাজন দেবনাথ, প্রবেশ দেবনাথ, রঞ্জিত ধর, সুব্রত দাস সুইট, মিঠু পাল, রাজন দেবনাথ, অজিত ঘোষ, লিটন মালাকার, নীলমণি কর, মিঠু দেব, মিন্টু পাল,  মিহির সরকার, পঙ্কজ চন্দ, সুব্রত দেব লাভলু, শ্রীবাস মালাকার, বিষু দেবনাথ, অমিতাভ বাপ্পা সুমন দেবনাথ, বাবলু দাস, তপন রায় প্রমুখ।

সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ করেন রিয়া রায় মিতু।

সম্মেলনে কাউন্সিলের মাধ্যমে দিপংকর দাস’কে সভাপতি এবং নিখিল মালাকারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট দক্ষিণ সুরমা থানা কমিটি গঠন করা হয়।

» কুরবানী সংক্রান্ত কিছু জরুরী মাসায়েল

Published: ২১. মে. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

মাওলানা হারুনুর রশীদঃ
কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করেনা তার ব্যাপারে হাদিস শরীফে এসেছে, যার সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কুরবানী করেনা সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।
মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস ৩৫১৯

❖ কার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব:
মাসআলাঃ প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী যে ১০ জিলহজ্জ ফজর থেকে ১২ জিলহজ্জ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। টাকা-পয়সা সোনা-রূপা, অলংকার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজন আসেনা এমন জমি, প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ী, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানী নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাব যোগ্য।

আর নেসাব হল স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি, রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি, টাকা পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে নেসাব হল-এর মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া। আর সোনা বা রূপা কিংবা টাকা পয়সা এগুলোর কোন একটি যদি পৃথক ভাবে নেসাব পরিমাণ না থাকে কিন্তু প্রয়োজন অতিরিক্ত একাধিক বস্তু মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়ে যায় তাহলেও তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
আলমুহিতুল বুরহানী ৮/৪৫৫ পৃ:

❖ কুরবানী করতে না পারলে
মাসআলাঃ কেউ যদি কুরবানী দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপরে কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করেছিল কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদক্কা করে দিবে।
ফত্ওয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৫

❖ কোন পশু দ্বারা কুরবানী করা যাবে
মাসআলাঃ উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিন, বন্য গরু ইত্যাদি দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।
ফত্ওয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮ পৃ;

❖ কুরবানীর পশুর বয়সসীমা:
মাসআলাঃ উট কমপক্ষে পাঁচ বছরের হতে হবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে দুই বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কম হয় কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে এক বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানী করা জায়েয। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাস বয়সের হতে হবে। উল্লেখ্য ছাগলের বয়স এক বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েজ হবেনা।
ফত্ওয়ায়ে কাযীখান ৩/৩৪৮ পৃ;

মাসআলাঃ উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যে কোনো সংখ্যা যেমন দুই তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কুরবানী করা জায়েয। অর্থাৎ কুরবানীর পশুতে এক সপ্তমাংশ বা এর অধিক যে কোনো অংশে অংশীদার হওয়া জায়েজ।

এক্ষেত্রে ভগ্নাংশ যেমন দেড় ভাগ, আড়াই ভাগ, সাড়ে তিন ভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই।
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩১৮

❖ কোরবানীর পশুতে আকিকার অংশ:
মাসআলাঃ কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটে আকিকার নিয়তে শরিক হতে পারবে। এতে কুরবানী ও আকিকা দুটোই সহিহ হবে।
রদ্দুল মুখতার ৬/৩৬২

মাসআলাঃ শরিকদের কারো পুরো বা অধিকাংশ উপার্জন যদি হারাম হয় তাহলে কারো কুরবানী সহিহ হবেনা।

মাসআলাঃ যদি কেউ গরু, মহিষ বা উট একা কুরবানী দেওয়ার নিয়তে কিনে আর সে ধনী হয় তাহলে ইচ্ছা করলে অন্যকে শরীক করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে একা কুরবানী করা ভালো। শরীক করলে সে টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম।
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০ পৃ:

❖ রুগ্ন ও দুর্বল পশু কুরবানী:
মাসআলাঃ এমন শুকনো দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারেনা তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।
জামে তিরমিজ ১/২৭৫ পৃ:

❖ দাঁত নেই এমন পশুর কুরবানী
মাসআলাঃ গরু ছাগলের অধিকাংশ দাঁত না থাকলেও যে কয়টি দাঁত আছে তা দ্বারা যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে তবে সেটি দ্বারা কুরবানী সহিহ। কিন্তু দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারে তবে ঐ পশু কুরবানী করা যাবেনা।
ফতওয়ায়ে আলমগিরী ৫/২৯৮ পৃ:

❖ যে পশুর শিং ভেঙে বা ফেটে গেছে
মাসআলাঃ যে পশুর শিং একবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশু দ্বারা কুরবানী জায়েয নয়। কিন্তু শিং ভাঙ্গার কারণে মস্তিষ্কে যদি আঘাত না পৌঁছে তাহলে সেই পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয।

আর যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে বা শিং একবারেহী উঠেনি সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েজ।
জামে তিরমিজি ১/২৭৬ পৃ:

❖ কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানী
মাসআলাঃ যে পশুর লেজ বা কোন কান অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশী কাঁটা সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। আর যদি অর্ধেকের কম হয় তাহলে কুরবানী জায়েয। তবে জন্মগত ভাবে যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই।
জামে তিরমিজি ১/২৭৬ পৃ:

❖ মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী
মাসআলাঃ মৃতের পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়েজ। মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত না করে থাকে তবে সেটি নফল কুরবানী হিসাবে গণ্য হবে। কুরবানীর স্বাভাবিক গোশতের মতো তা নিজেরাও খেতে পারবে। আর যদি মৃত ব্যক্তি কুরবানীর ওসিয়ত করে গিয়ে থাকে তবে এর গোশত নিজেরা খেতে পারবেনা গরিব মিসকিনদের মাঝে-সদকা করে দিতে হবে।

❖ কাজের লোককে কুরবানীর গোশত খাওয়ানো
মাসআলাঃ কুরবানীর পশুর কোনো কিছু পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েজ নয়। অবশ্যই এ সময় ঘরের ও অন্যান্য সদস্যদের মতো কাজের লোকদের কেও গোশত খাওয়ানো যাবে।
ইমদাদুল মুফতিন ৮০২ পৃ:

❖ জবাইকারী কে পারিশ্রমিক দেওয়া
মাসআলাঃ কুরবানীর পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া নেওয়া জায়েজ। তবে কুরবানীর পশুর কোন কিছু পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া যাবে না।
কিফায়াতুল মুফতি/২৬৫ পৃ:

লেখকঃ
মাওলানা হারুনুর রশীদ
ইমাম ও খতিব, বড়শলা, নয়াবাজার জামে মসজিদ।

» নকশী বাংলা ফাউন্ডেশনের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত

Published: ২১. মে. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

নিউজ ডেস্কঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেসরকারি জাতীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘নকশী বাংলা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে সিলেটে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২১ মে) সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সুবিদবাজারস্থ হলিসিটি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা আইপিএএস বাংলাদেশ-এর সার্বিক সহযোগিতায় এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

বৃক্ষরোপণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস-প্রেসিডেন্ট আলেয়া ফেরদৌসী তুলি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দেশব্যাপী সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে নকশী বাংলা ফাউন্ডেশন সিলেটে মাসব্যাপী এই চমৎকার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও তীব্র তাপদাহ মোকাবিলায় গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, আশঙ্কাজনক বায়ুদূষণ ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

এই লক্ষ্যে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

আয়োজকরা বলেন, এই মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় সিলেট জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গুনাগুণসম্পন্ন বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হবে।

রোপণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, নকশী বাংলা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম জয়নাল, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর ও সাংবাদিক মো. হাবিবুর রহমান, পাঠাগার সম্পাদক মো. একরাম হোসেন তালুকদার, হলিসিটি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল শিলা দেবী এবং শিক্ষিকা পূরবী নাথ।

পরিবেশ সুরক্ষার এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বিদ্যালয়টির শতাধিক শিক্ষার্থী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় এবং নিজেদের আঙিনায় গাছ লাগানোর শপথ করে।

» সিলেটে বিমানবন্দরের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

Published: ২১. মে. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

নিউজ ডেস্কঃ
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত পরিশোধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকরা।

বৃহস্পতিবার  (২১ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট সদর উপজেলার বিমানবন্দর থানার অন্তর্গত কেওয়াছড়া, ছালিয়া, বড়শালা ও আঙ্গারুয়া মৌজার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের ধূপাগোল, ছালিয়া, আটকিয়ারী, লালবাগ, রঙ্গিটিলা, চরচড়িকান্দি ও বাইশটিলা এলাকার জমি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্প’-এর জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

ভূমির মালিকরা জানান, এলএ মামলা নং-১/২০২০ এর আওতায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ৪ ধারার নোটিশ জারি ও যৌথ তদন্ত সম্পন্ন হলেও প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি।

এমনকি ২০২৬ সালেও পুনরায় যৌথ তদন্ত করা হয়েছে। অথচ অধিগ্রহণ কার্যক্রমের পরও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়নি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭’ অনুযায়ী নোটিশ জারির এক বছরের মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

জমি বিক্রি, নামজারি, খাজনা পরিশোধ, ঘরবাড়ি মেরামত, সন্তানদের বিয়ে, বিদেশ গমনসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ২০২৪ সালের ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে তাদের অধিকাংশ টিনশেড ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সেগুলো সংস্কার করতে পারছেন না। ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্মারকলিপিতে তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন ও যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত শুধু আশ্বাস মিলেছে, কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।

এ অবস্থায় আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার কারণে আমাদের প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট শাখার পক্ষ থেকে আমরা জানতে পারি যে, করোনাভাইরাসের

কারণে প্রকল্পটির কাজ কয়েকদিন স্থগিত ছিল। পরবর্তী সময়ে আমরা যোগাযোগ করার পর জানতে পারি যে প্রকল্পটি এখনও সংশোধনী পর্যায়ে রয়েছে।

বারবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি সংশোধন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সম্ভবত এগারোবার এই প্রস্তাবের সংশোধনী হয়েছে।

আমরা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ বেড়ার ভেতরে অবস্থান করছিলাম।

বৃষ্টির কারণে আমাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত আমরা বৃষ্টির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছি। ছাদ ফুঁড়ে বৃষ্টি পড়ছে, পানি ঢুকছে, ফলে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।

আমাদের বর্তমান জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই তিনি একটি সুরাহা করে দেবেন।

হয় প্রকল্পটি চালু থাকবে, না হলে এটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আমাদের এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুরোধে আমরা আরও প্রায় দেড় মাস সময় দিয়েছি, যাতে রমজান মাসের মধ্যে প্রস্তাবটির সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা যায়। এরপরও কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, এভাবে গত ছয় বছর ধরে আমাদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা দুর্ভোগের মধ্যেই আছি। আমরা ঠিকমতো খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করতে পারছি না।

বাচ্চাদের পড়াশোনা, ঘরবাড়ির মেরামতসহ নানা প্রয়োজন ছয় বছরে তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর কোনোটিই আমরা পূরণ করতে পারছি না।

একদিকে আইনের বাধার কথা বলে আমাদের সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অফিসে গিয়ে আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছি।

সুতরাং আজ আমরা এখানে এসেছি এই দাবি নিয়ে যে, আমরা প্রশাসনকে আরও ৪৫ দিন সময় দিয়েছি।

এই সময়ের মধ্যে হয় আমাদের প্রকল্পের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নয়তো প্রকল্পটি বাতিল ঘোষণা করতে হবে। এর বাইরে আর কোনো বিকল্প নেই।’

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের আবেদন আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।

ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় যেসব প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ক্ষতিপূরণের অর্থ পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

» সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ

Published: ২১. মে. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অঙ্গিকারাবদ্ধ

নিউজ ডেস্কঃ
জুলাই সনদ নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী গুপ্ত চক্র কর্তৃক বিএনপির বিরুদ্ধে অব্যাহত মিথ্যা প্রচারণার প্রতিবাদে ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নগরীতে লিফলেট বিতরণ করেছে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে নগরীর কোর্ট পয়েন্ট ও বন্দরবাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণে নেতৃত্ব দেন, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল ও সদস্য সচিব শাকিল মুর্শেদ।

লিফলেট বিতরণ কর্মসূচীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রউফ, কায়সান মাহমুদ সুমন, আহবায়ক কমিটির সদস্য প্রভাষক মাকসুদ আলম, সাইফুল আলম কোরেশী, সেলিম আহমদ, আয়াত আলী প্রিন্স, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নুরুল আমিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এড. আলা উদ্দিন, জকিগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এড. রুহুল আমিন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফখরুল ইসলাম, ইউসুফ আহমদ, হারুন আহমদ, রুবেল আহমদ, আলম, শাহাদৎ খান, এস কে আলাল, রফিক, ইউসুফ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নুরেছ আলী, আব্দুল মুকিত মুকুল, মিনহাজ সামছি, সৈয়দ আক্তার হোসেন ময়না, রেজা, লিমন, আলফাজ, আনসার আহমদ, হোসেন শিকদার প্রমুখ।

লিফলেট বিতরণ শেষে বন্দরবাজারে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে মানতে বদ্ধপরিকর।

গণভোটের প্রশ্ন (ক) নির্বাচনকালীন তত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।

গণভোটের চারটি প্রশ্নের মধ্যে খ নং প্রশ্ন জুলাই সনদে ১৮ ও ১৯ অনুচ্ছেদ পরিপন্থি, যা প্রতারনামূলক।

বিএনপি জুলাই সনদ অনুসারের ১০০ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি অত্যন্ত আন্তরিক হলেও একাত্তরের পরাজিত শক্তি জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা অপ্রপচার চালাচ্ছে।

এসব অপ্রপচার, ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের স্বোচ্ছার থাকতে হবে।

» স্কলার্সহোম মেজরটিলায় সপ্তাহব্যাপী অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন

Published: ২১. মে. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি : অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক

নিউজ ডেস্কঃ
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অভিভাবকদের কার্যকর যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে সিলেট নগরীর অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে সপ্তাহব্যাপী ‘অভিভাবক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা’ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রথম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আন্তরিক পরিবেশে এই ধারাবাহিক সভার আয়োজন করা হয়।

গঠনমূলক মতবিনিময়ের মাধ্যমে পুরো আয়োজনটি শিক্ষক ও অভিভাবকদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবিষ্যৎ শিক্ষাপরিকল্পনা ও করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক।

সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন, কলেজ শাখার একাডেমিক ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রভাষক কাজী শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি অভিভাবকদের আন্তরিক উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন শ্রেণির শ্রেণিশিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস, শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণ, দৈনিক উপস্থিতি, আচরণগত উন্নয়ন এবং পরীক্ষার ফলাফল আরও সমৃদ্ধ করার কার্যকর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।

একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যেকোনো দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে কলেজের গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শমূলক কার্যক্রমের বিবরণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অভিভাবকরাও সন্তানের মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে পারিবারিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে মূল্যবান মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

এতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার একটি ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের সর্বোত্তম চাবিকাঠি।

তিনি সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফলাফলের সার্বিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করে বলেন, শতভাগ পাস ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ক্লাস, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, একাডেমিক মনিটরিং এবং শিক্ষার্থী কাউন্সেলিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও মানবিক গুণাবলির বিকাশে স্কলার্সহোমের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা সবসময় অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সবাই একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।

Callender

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031