শিরোনামঃ-

» কুলাউড়ায় বন্যায় আক্রান্ত ৯০ ভাগ মানুষ সরকারী ত্রান পাননি

প্রকাশিত: ০৮. জুন. ২০১৭ | বৃহস্পতিবার

Manual2 Ad Code

সিলেট বাংলা নিউজ ডেস্কঃ ২ দিন থেকে কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কুলাউড়ার দক্ষিনাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। রাস্তাঘাটের পানি সরে গেলেও এখনো পানি বন্দি ৪ ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

Manual8 Ad Code

কিন্তু বন্যা দূর্গত মানুষের মধ্যে ত্রান তৎপরতা নেই বললেই চলে। ৪ ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ মে. টন চাউল এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।

Manual8 Ad Code

এর মধ্যে টিলাগাও ও শরীফপুরের কিছু মানুষকে এ সহায়তা বিতরন করা হলেও বন্যায় আক্রান্ত ৯০ ভাগ মানুষ এখনো সরকারী কোন সাহায্য পাননি বলে জানা গেছে।

অপরদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া বাড়িঘর হারানো ৩৫ পরিবার ৫ দিন থেকে বন্যা আশ্রয় শিবির কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও কোন খাবার পাননি সরকারের পক্ষ থেকে। ফলে অমানবিক জীবন যাপন করছেন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বাড়িঘর হারানো এ পরিবারগুলো।

এদিকে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। টিলাগাঁও ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রিত- আসুক মিয়া, উস্তার মিয়া, শাহাব উদ্দিন, আনাছ মিয়া, খালিক মিয়া, মনির মিয়া, তকলিফ মিয়া, মজিদ মিয়া, ফরিদ মিয়া, ইউছুফ মিয়া, আখলাছ মিয়া, ইব্রাহিম আলী, আইয়ুব আলী, উছমান মিয়া, কুদ্দুছ মিয়া এবং শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রিত মুসলিম মিয়া, তসলিম আলী, তাজুল ইসলাম জানান- পানির স্রোতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হলে তারা প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। কতদিন এই প্রতিরক্ষা বাঁধে থাকতে হবে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকে কিছু চিড়াগুড় পেয়েছিলেন।

আর কোন সহায়তা তারা পাননি। নদীর পানি কমেছে। পানি নামছে বাড়িঘর থেকে। কিন্তু বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলো এখনই ফিরতে পারছেন না নিজ বাড়িতে। কেননা বাড়িঘর মেরামত করে তারপর ফিরতে হবে। তবে অনিশ্চয়তা হলো ভাঙন এলাকাগুলো মেরামত করা না হলে, বৃষ্টিপাত হলেই ফের ভাঙন দিয়ে পানি বের হবে। ফলে বানভাসি এসব মানুষ আগে ভাঙন মেরামত করার দাবি জানান।

Manual5 Ad Code

টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালিক জানান- মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে মিয়ারপাড়া ও বলাকান্দি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ কমপক্ষে ২৫টি পরিবার প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সৃষ্ট ভাঙনে ৮টি পরিবার প্রতিরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

শরীফপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বন্যাদুর্গত কয়েকজন অভিযোগ করেন- মনুর ভাংগনটি ঝুকিপূর্ণ ছিল গত বছর থেকে। আমরা এলাকাবাসী চেয়ারম্যান জুনাব আলীকে ঝুকিপূর্ণ বাধে মাটি ভরাটের মাধ্যমে উন্নতি করার জন্য বার বার অনুরোধ করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।

এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে বাধ ভাংগার দিন থেকে। ফলে চেয়ারম্যান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফলতির কারনে মনুর ভাংগনের ফলে আমরা আমাদের ধান ,সবজি ক্ষেত সর্বস্ব হারালাম। আমাদের আর কিছুই বাকি থাকলনা। তারা বলেন- বন্যায় নিজের সব হারানোর পাশাপাশি গবাদি পশুর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। শাক-সবজি সম্পূর্ণরুপে বিনষ্ট হয়েছে।

টিলাগাও ইউনিয়নের মনু পারের বাসিন্দা নীল মনি জানান- আজ ৫ দিন যাবত আমরা পানিবন্দি। এখন পর্যন্ত সরকারি কোন ত্রান পাইনি আমরা।

এ বিষয়ে কুলাউড়া ত্রান পূর্নবাসন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী বলেন- সরকারিভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও ৬ মে: টন চাল ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা শরীফপুর,হাজীপুর ও টিলাগাও ইউনিয়নের বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে এ ত্রান বিতরন করেছি। আরও বরাদ্ধ বাড়ানোর জন্য চাহিদাদি পাঠানো হয়েছে।

Manual1 Ad Code

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৮২ বার

Share Button

Callender

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031