শিরোনামঃ-

» ৭ বছর পর বাকশক্তি ফিরে পেয়েছে শারমিন

প্রকাশিত: ১৫. নভেম্বর. ২০১৬ | মঙ্গলবার


Manual7 Ad Code

সিলেট বাংলা নিউজ বিশেষ প্রতিবেদক:: ৭ বছর পর বাক প্রতিবন্ধী এক মেয়ে তার জবান ফিরে পেয়েছে। এতে অত্র এলাকায় বিরাট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বাকশক্তি ফিরে পাওয়ার সংবাদ পেয়ে ওই মেয়ের বাড়িতে জড়ো হচ্ছেন স্থানীয় এলাকার অসংখ্য নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

মেয়েটির নাম খাদিজা আক্তার শারমিন (২৪)। সে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জের সৈদের গাঁও ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের দিনমজুর মাসুক মিয়া ও সুফিয়া দম্পতির একমাত্র কন্যা।

জানা যায়, ১৩ নভেম্বর ১৬’ রোজ রবিবার প্রতিবন্ধী ঐ মেয়েটিকে হযরত মাওলানা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ.)’র বাড়ী জকিগঞ্জে যান। মেয়েটি ফুলতলীর পীরসাহেবের মাজার থেকে মাটি আনতে মাজারের খাদিমকে অনেকবার আকুতি মিনতি করেন।

অবশেষে খাদিম বোবা মেয়েটির অনুরোধে মাজার থেকে কিছু মাটি এনে মেয়েকে দেন।

বাকশক্তিহীন বোবা মেয়ে বাড়ীতে এসে খুব আদবের সহিত মাথায় ও গলায় মাটি মালিশ করতে থাকে। অবাক করার মতো বিষয়, মালিশ করার সাথে সাথে বোবা মেয়ের জবান খুলে যায়।

Manual5 Ad Code

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন- বাংলাদেশ আল ইসলাহ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুর রহমান তাজুল সহ আরো অনেকই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খাদিজা আক্তার শারমিন ছোটবেলায় সুস্থ্য ছিল।

স্থানীয় তকিপুর হাউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাইমারি পাশ করে গোবিন্দগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা-পড়া করেছে।

সে মেধাবীও ছিল। এর মধ্যে সে হঠাৎ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৮ম শ্রেণীর পরীক্ষা দিতে পারেনি। এদিকে দিনমজুর পরিবার তাকে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করানো হলেও তার কোন প্রকার উন্নতি লাভ হয়নি।

এক পর্যায়ে সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় পরিবারটি একদম অসহায় হয়ে পড়ে। আশ্রয় নেয় একাধিক কবিরাজের কাছে। সকলেই তাকে তাবিজ-কবজসহ বিভিন্ন চিকিৎসা দিলেও কোন সফলতা আসেনি।

অবশেষে রোববার সিলেটের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন হযরত মাওলানা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী (রহ.) বাড়িতে গিয়ে তাঁর কবরের মাটি ও ছাতকের নোয়ারাই ইউনিয়নের টেঙ্গারগাঁও গ্রামের হাফেজ সাহেবের কবরের মাটি মিশ্রন করে মাথা ও গলায় তাবিজ হিসেবে ব্যবহার করানো হয়।

এতে ওই দিন রাত প্রায় ১০টার দিকে ফুলতলী থেকে তকিপুরে বসত ঘরে পৌঁছার পর ‘ভাঁত খাব’ বলে তার মাকে বলে শারমিন।

এসময় পরিবারের সকল সদস্যরা আল্লাহু আকবার বলে উঠলে পাড়ার লোকজন তাকে একনজর দেখতে ভিড় জমায়। এখন সে কথা বলতে পারলেও স্মৃতিশক্তি পুরোধমে আসেনি।

Manual2 Ad Code

সোমবার রাতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, শারমিনের মা সুফিয়া বেগম ও চাচি সেবা বেগম মিলে তাকে রাতের ভাত খাওয়াচ্ছেন। আর তার সাথে কথা বলছেন।

Manual1 Ad Code

সেও উত্তর দিচ্ছে মাঝে মধ্যে। তবে স্মৃতিশক্তি কম। ঝুপড়ি ঘরের কোনায় বসে রয়েছেন তার পিতা মাসুক মিয়া। পাশে রয়েছেন নাহিদ নামের ৬ বছরের তার একমাত্র শিশুপুত্র। এক ছেলে ও এক মেয়ের ওই পিতাকে জিজ্ঞাসা করার পর তিনি বলেন- আল্লাহর দয়ায় প্রায় ৭ বছর পর মেয়ে এখন মুখ দিয়ে কথা বলতে পারছে। মা’কে মা, বাবাকে বাবা বলছে।

তবে সকলকে চিনতে পারছে না এখনো। সুস্থ্য হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

এতোদিন মেয়েটি হাতে-কলমে এবং ইঙ্গিতে-ইশারায় তার মনের ভাব প্রকাশ করতো।

Manual2 Ad Code

একমাত্র মেয়েটির মুখে কথা বলা শুনে এখন তিনি খুব খুশি। তিনি বলেন- অনাহারে, অর্ধাহারে, ভাঙ্গা ঘরে বসবাস করে, না খেয়ে না পরে মেয়ের চিকিৎসায় সকল অর্থ ব্যয় করেছেন।

শুধু রয়েছে ভিটে-মাটি। মেয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যাংক থেকে ঋণও গ্রহণ করেছেন।

এদিকে, অসুস্থ মেয়েটি র্দীঘ ৭ বছর পরে কথা বলার বিষয়টিকেে কেউ কেউ ফুলতলীর পীর সাহেবের কেরামতি বলেও দাবী করছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৯৩১ বার

Share Button

Callender

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930