শিরোনামঃ-

» ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করুন : গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট

প্রকাশিত: ২৬. আগস্ট. ২০২৬ | বুধবার


Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ
ফুলবাড়ী দিবস উপলক্ষে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

Manual6 Ad Code

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকাল ৫টায়  সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধনে সিপিবি জেলা সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে ও বাসদ জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাসদ জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর ও সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি সিলেট জেলা সদস্য সচিব এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) জেলা সদস্য সুমিত রঞ্জন দাস পিনাক, ছাত্র  ইউনিয়নের জেলা সভাপতি মাশরুখ জলিল।

Manual2 Ad Code

উপস্থিত ছিলেন, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান,চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি নাজিকুল ইসলাম রানা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দোয়েল রায়, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের মনজুর আহমদ প্রমূখ।

সমাবেশে পূর্বে ফুলবাড়ী শহীদ স্মরণে শহীদ মিনারের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০০৬ সালের ২৬শে আগস্ট দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে এশিয়া এনার্জির তত্ত্বাবধানে পরিবেশ বিধ্বংসী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে লাখো মানুষ রাস্তায় নামে।

বি ডি আর এর গুলিতে শহিদ হন আমিন, সালেকীন ও তরিকুল,আহত হয় অর্ধ শতাধিক মানুষ। সেই দিনটি এরপর থেকে ফুলবাড়ি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

এরপর ফুলবাড়ি সহ সারাদেশে গণপ্রতিরোধের মুখে ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট বি এন পি সরকার বাধ্য হয় আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে ফুলবাড়ি চুক্তি স্বাক্ষর করতে।

সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের চুক্তিতে বলা হয়, ফুলবাড়ী সহ বাংলাদেশের কোন জায়গায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি করা হবে না, এশিয়া এনার্জির সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করা হবে এবং কোম্পানিকে এলাকা ত্যাগ করতে হবে।

Manual2 Ad Code

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা আবারও ফুলবাড়ি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছেন।

Manual7 Ad Code

ফুলবাড়ি চুক্তি বাস্তবায়ন না করে উলটো আবার এই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পাঁয়তারা শুধু শহিদের রক্তের সাথে বেইমানিই নয়, এটা সম্পূর্ণ গণবিরোধী অবস্থান।

বক্তারা বলেন,  ফুলবাড়িতে এশিয়া এনার্জির সাথে করা অসম চুক্তিতে একদিকে যেমন পরিবেশ বিধ্বংসী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলার কথা বলা হয়েছিল, আরেকদিকে এই চুক্তিতে ১০০ টাকার কয়লায় বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ হত ৬ টাকা আর ৯৪ টাকা যেত এশিয়া এনার্জির পকেটে।

অপরদিকে এই কয়লা উত্তোলনের জন্য পানির স্তর সরাতে গেলে দিনাজপুরের চারটি উপজেলায় ৮০ থেকে ১২০ মিটার পানির স্তর নেমে যাবার সম্ভাবনা ছিল।

এতে ধানের ভান্ডারখ্যাত দিনাজপুরে কৃষি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হত।

১ লক্ষ মানুষের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ হবার সম্ভাবনা ছিল। গবেষকদের তৎকালীন রিপোর্ট অনুযায়ী এই প্রকল্পের ফলে বাংলাদেশের ৫০ বছরে ২৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হত।

এই দেশবিরোধী পরিবেশ বিধ্বংসী সর্বনাশা প্রকল্প করে এশিয়া এনার্জি বা জি সি এম কোম্পানি এবং তার দোসররা হয়তো লাভবান হবে, কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এই প্রকল্প আত্মঘাতী।

বক্তারা শহিদের রক্তের সাথে বেইমানি করে এই দেশবিরোধী প্রকল্প পুনরায় চালু করার অপচেষ্টা থেকে সরকারকে অবিলম্বে সরে আসার আহবান জানান।

অন্যথায় বক্তারা জনগনকে সাথে নিয়ে আবার ফুলবাড়িতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।‌

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩ বার

Share Button

Callender

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31