শিরোনামঃ-

» ১লা সেপ্টেম্বর এমএজি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী

প্রকাশিত: ১৮. আগস্ট. ২০২৬ | মঙ্গলবার


Manual8 Ad Code

৫৪ বছর পরেও ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য দেয়া হয়নি ‘স্বাধীনতা পদক’

নিউজ ডেস্কঃ
আগামী ১লা সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল (অব:) এম এ জি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী।

এই বীর মুক্তিযোদ্ধ্রা জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ, সিলেট বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Manual3 Ad Code

তাঁর  রূহের মাগফিরাত কামনা করে   ওইদিন কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

এছাড়া তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে জানিয়েছেন সংগঠনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আহমদ বহলুল জানান, ওসমানীকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অবদান স্বীকার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন,  মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে  মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক  প্রদান সহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দিন যায়, মাস যায়, বছরের পর বছর যায়, দেখতে দেখতে চলে গেল প্রায় ৫৪টি বছর।

Manual8 Ad Code

তারপরেও মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানীর ভাগ্যে জোটেনি স্বাধীনতার পদক। এ দাবী করেছেন বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ, সিলেট।

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আহমদ বহলুল আর ও জানান, মহান এই বীর সেনানীকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ ও জাতির জন্য বঙ্গবীর ওসমানী নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন।

সামাজিক ক্ষেত্রেও তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। জীবন বাজি রেখে দেশ, জাতি ও দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়নি।

এই স্বাধীনতা পদক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১১ দফা দাবী নিয়ে প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সহ ১৯ জন সংসদ সদস্যের নিকট আবেদন করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আহমদ বহলুল বলেন, সম্প্রতি ডাং জাফর উল্লাহকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছে।

এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বঙ্গবীর এম, এ, জি ওসমানীকেও মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

Manual6 Ad Code

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আহমদ বহলুল জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য স্বাধীনতা পদক প্রদান বিধান শিথিল করে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বাধীনতা’ পদক (মরণোত্তর) ভূষিত করা হোক।

বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী জীবন বাজি রেখে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের জন্য বাংলা রণ এবং নৃত্য সঙ্গীত নির্ধারণ করেন।

যার জন্য তাঁকে পাকিস্তানিদের রোষানলে পড়তে হয়। তার এই অবদানের জন্য তাঁকে মহান একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হোক।

১৯৫১ ইংরেজিতে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত “চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট” নামের সঙ্গে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নাম সংযোজন করে “চট্টগ্রাম বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী ক্যান্টনমেন্ট” নামকরণ করা হোক এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট সেনানিবাসসমূহের যে কোন একটিতে সি.ইন.সি বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হোক।

সিলেটস্থ ওসমানী জাদুঘরের মূল স্থাপনা ঠিক রেখে আধুনিক জাদুঘরের মিলনায়তনসহ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হোক।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য দেশবাসী কর্তৃক প্রদত্ত উপাধী ‘বঙ্গবীর একান্তই ওসমানীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বাঘা কাদের সিদ্দিকী) বীর উত্তম’ নামের পূর্বে ব্যবহৃত ‘বঙ্গবীর’ উপাধি বাতিল করা হোক।

২৫ মার্চ ১৯৭১ পাক হানাদার বাহিনীর বাঙালিদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মোকাবেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী সামরিক কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠিত ‘৪ঠা এপ্রিল ১৯৭১’ বৈঠকে কর্নেল পরবর্তীতে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সর্বাধিনায়কত্বে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৪ঠা এপ্রিল ১৯৭১-কে স্মরণীয় করে রাখতে “তেলিয়াপাড়া দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হোক।

সংগঠনটির দাবি, বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কর্মময় জীবনী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক এবং বঙ্গবীর ওসমানীর লেখা ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় খরচে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হোক।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সি.ইন.সি (সর্বাধিনায়ক), বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হোক।

Manual4 Ad Code

বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে প্রতিষ্ঠিত ওসমানী আন্তর্জাতিক সিলেট বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু করা হোক।

এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট, ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তন ঢাকা, ওসমানী উদ্যান ঢাকা ও ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জ সমূহ স্থাপনার আধুনিকায়নসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠিত স্থাপনাসমূহের রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং সমূহ স্থাপনার পূর্বে “বঙ্গবীর” শব্দ সংযোজন করা হোক।

ঢাকাস্থ ওসমানী উদ্যানকে অবৈধ দখলমুক্ত করে আধুনিক উদ্যানে রূপান্তরিত ও ওসমানী মিলনায়তনকে আধুনিক করা হোক।

ওসমানীনগর উপজেলাস্থ দয়ামীরে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী গণগ্রন্থাগার, স্মৃতি জাদুঘর ও দাতব্য চিকিৎসালয়টি অবিলম্বে চালু করা হোক।

বঙ্গবীর ওসমানীর জন্মস্থান সুনামগঞ্জে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্মরণে মিলনায়তন নির্মাণ এবং যেকোন একটি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে করা হোক।

বঙ্গবীর ওসমানীকে স্বাধীনতার পদক দেয়ার পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পাঠ্য বইয়ে ওসমানীর জীবনী ও কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে “বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেট”-এর নেতৃবৃন্দ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪ বার

Share Button

Callender

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31