শিরোনামঃ-

» মহান কমিউনিস্ট বিপ্লবী কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল’র স্মরণে শোকসভায় বক্তারা

প্রকাশিত: ১৫. মে. ২০২৬ | শুক্রবার


Manual6 Ad Code

বিশ্বের দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলুন

নিউজ ডেস্কঃ
বিশ্ব শ্রমিক শ্রেণি, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের মহান আন্তর্জাতিক সংহতির স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য, উপমহাদেশের কিংবদন্তিতুল্য কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল’র স্মরণে সিলেটে শোকসভা অনুষ্ঠিত।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল ৫টায় সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির ৩নং বার লাইব্রেরী হলে শোকসভা আয়োজক কমিটির আহবায়ক এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়’র সভাপতিত্বে এবং আয়োজক কমিটির সদস্য ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো. আবুল ফজলের পরিচালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল এর শোকসভা পালন জাতীয় কমিটির সদস্য ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল’র শোকসভা পালন জাতীয় কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা রজত বিশ্বাস, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রত্নাকুর দাস জহুর, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ মনির হেলাল এডভোকট, সাধারণ সম্পাদক ও শোকসভা আয়োজক কমিটি, সিলেট-এর অন্যতম নেতা মোহাম্মদ মনির উদ্দিন এডভোকেট, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ সোয়েব এডভোকেট, শওকত উসমান জুবের, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলা আহবায়ক মিনারা বেগম, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সিলেট জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহাবয়ক সুজন মিয়া।
সভার শুরুতে প্রয়াতের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ (এক) মিনিট শোক নিরবতা পালন করা হয় এবং কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল’র শোকসভা আয়োজক কমিটি সিলেট জেলা কর্তৃক প্রকাশিত লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন শোকসভা আয়োজক কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম।
শোকসভায় বক্তারা বলেন, কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল’র মৃত্যু কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নয়। এটি শোষিত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে এক অগ্নিযোদ্ধার সাময়িক বিদায়।
তিনি ছিলেন এদেশের আপোসহীন মার্কসবাদী-লেনিনবাদী আন্দোলনের ইস্পাত কঠিন সংগঠক, সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ-আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে নিরলস শ্রেণিযুদ্ধের এক অমর সৈনিক।
আজ ইউক্রেন, ফিলিস্তিন, ইরান, লেবানন, সিরিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা প্রান্তে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী যুদ্ধের শিকার হয়ে অকাতরে প্রাণ দিতে হচ্ছে নিরিহ শিশু কিশোর ও নরনারীকে।
বাজার ও প্রভাব বলয় পুর্ণবন্টন নিয়ে পুঁজি ও শক্তির অনুপাত পরিবর্তিত হওয়ায় মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়ার দ্বন্দ্ব তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
ভূরাজনৈতিকভাবে সামগ্রিক গুরুত্বের নয়াউপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী উভয়পক্ষ স্ব স্ব পক্ষে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করছে।
আজ প্রয়োজন কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)’র জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনগণের ন্যায় সঙ্গত প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে গুলিবিদ্ধ হয়ে দেহের নিম্নাংশ চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেলেও কমরেড মুকুল কখনো পরাজয় স্বীকার করেননি।
শারীরিকভাবে পঙ্গু হলেও তিনি রাজনৈতিকভাবে ছিলেন হিমালয়ের মতো অটল, বজ্রের মতো কঠোর এবং দাবানলের মতো তেজস্বী। দু’টি ক্রাচ ছিল তাঁর চলার অবলম্বন, কিন্তু তাঁর চিন্তা, চেতনা ও সংগ্রামী সাহস কোটি মানুষের প্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছিল।
তিনি প্রমাণ করে গেছেন একজন প্রকৃত বিপ্লবীর শক্তি তার দেহে নয়, তার আদর্শে।
বক্তারা বলেন, আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থা শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের নয়; এটি লুটেরা ধনিকশ্রেণির রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের নামে চলছে প্রতারণা, উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাট, স্বাধীনতার নামে চলছে সাম্রাজ্যবাদী গোলামী।
জনগণের রক্ত-ঘামে অর্জিত সম্পদ একদিকে যেমন বিদেশে পাচার হচ্ছে, অন্যদিকে কোটি কোটি মানুষ বেকারত্ব, ক্ষুধা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্র্দ্ধগতি ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছে।
এই শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠাই ছিল কমরেড মুকুলের আজীবনের লড়াই।
সংশোধনবাদ, সুবিধাবাদ, নির্বাচনমুখী সুবিধাবাদী বাম রাজনীতি ও বিপ্লববিরোধী নৈরাজ্যবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে কমরেড মুকুল ছিলেন আপসহীন।
তিনি বারবার সতর্ক করেছিলেন সাম্রাজ্যবাদ ও শাসকশ্রেণির দালাল শক্তির সাথে আপস করে জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়।
সংগঠিত শ্রেণিসংগ্রাম, বিপ্লবী রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং শ্রমিক-কৃষকের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই পারে ইতিহাসের গতিধারা বদলে দিতে।
আজ কমরেড মুকুলকে স্মরণ করার অর্থ তাঁর অসমাপ্ত বিপ্লবী দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া। আজ প্রয়োজন কারখানা, গ্রাম, শিক্ষাঙ্গন ও শ্রমিক মহল্লায় সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, পুঁজিবাদী শোষণ ও স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা।

???????????????

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৮ বার

Share Button

Callender

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031