শিরোনামঃ-

» স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি হওয়ায় সব বিল আটকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০১. জুলাই. ২০২০ | বুধবার

Manual3 Ad Code

ডেস্ক নিউজঃ

করোনা সঙ্কটের সময় থেকেই স্বাস্থ্যখাতের একের পর এক দুর্নীতির খবর আসছে।

পিপিই কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে কিট বাণিজ্য- যেখানেই হাত দেওয়া যাচ্ছে সেখান থেকেই দুর্নীতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাজার মূল্যের থেকে কয়েকগুণ বেশি দামে কেনাকাটা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, কোন প্রকার টেন্ডার ছাড়া কোন এক বিশেষ ঠিকাদারকে দিয়ে এসব কেনাকাটার অভিযোগও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আর এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বিতর্কিত যে সমস্ত জিনিপত্র সরবরাহ করা হয়েছে সেই সমস্ত জিনিসপত্রের বিল পরিশোধ করা হয়নি।

এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর আদেশে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছিল হিসেব বিভাগের বিল সংক্রান্ত কাজকর্ম শেষ করার দিন। জানা গেছে যে, করোনা সঙ্কটের সময় যারা বিতর্কিত জিনিসপত্র সরবরাহ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তাঁদের বিল আপাতত পরিশোধ না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, করোনা সঙ্কটে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে;

পিপিই এবং মাস্ক কেলেঙ্কারি

যে সমস্ত মাস্ক এবং পিপিই সরবরাহ করা হয়েছিল তা ছিল নিম্নমানের এবং এই ব্যাপারে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছিল।

আসল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ না করে নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গত এপ্রিল মাসেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্টভাবে বলেন যে, যারা এইগুলো সরবরাহ করেছে তাঁরা সঠিকভাবে সরবরাহ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য।

কিন্তু এরপরেও বিভিন্ন জায়গায় নিম্নমানের মাস্ক এবং পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে যে, যারা এই ধরণের বিতর্কিত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই এবং মাস্ক) সরবরাহ করেছে তাঁদেরকে যেন বিল পরিশোধ না করা হয় এবং এই ব্যাপারে যেন সুষ্ঠ তদন্ত করা হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় এই বিলগুলো এখনো পরিশোধিত হয়নি।

আরটি পিসিআর মেশিন কেলেঙ্কারি

করোনা সঙ্কটের সময় দ্বিতীয় যে দুর্নীতির অভিযোগটি আলোচিত হয়েছে তা হলো আরটি পিসিআর মেশিন কেলেঙ্কারি।

যখন করোনা সংক্রমণ শুরু হলো তখন মাত্র একটি মেশিন দিয়ে কাজ হচ্ছিল।

প্রধানমন্ত্রী যখন সবগুলো জেলায় করোনার নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দিলেন তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০৯ এর মেশিন ক্রয় করলো।

এই মেশিনগুলো কম কার্যকর, কম নমুনা পরীক্ষা করা যায় এবং এখন এই মেশিনগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিটের সঙ্কট দেখা গেছে।

এই বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে এসেছে এবং এই বিলগুলো আটকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জিকেজি কেলেঙ্কারি

করোনা সঙ্কটের সময় বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিল সরকার এবং সেই কাজে সহযোগিতা করার জন্য ভুঁইফোড় এক প্রতিষ্ঠান জিকেজিকে অনেক কিছু দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সমস্ত বিষয়গুলো নিয়েও এখন তদন্ত হচ্ছে।

জিকেজিকে যে সমস্ত জিনিসপত্র সরবরাহ করতে দেওয়া হয়েছে সেই সমস্ত জিনিসের বিল আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এডিবি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে দুর্নীতি

Manual2 Ad Code

এডিবি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের প্রধান ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা ডা. ইকবাল কবির এবং তিনি পিপিই এবং মাস্ক কিনেছেন যা ইচ্ছা দাম দিয়ে। এখানেও ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে।

Manual2 Ad Code

যদিও এটা এডিবি এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের টাকা, তবে এখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আছে। এই বাস্তবতায় এই সংক্রান্ত জিনিসপত্র যারা সরবরাহ করেছে সেই সরবরাহকারী বা ঠিকাদারগুলোকেও বিল দেওয়া হচ্ছেনা।

Manual4 Ad Code

করোনায় যে সমস্ত ঠিকাদারদের দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করিয়েছে তাঁদের একটি সিন্ডিকেট আছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছে।

Manual7 Ad Code

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত এই সিন্ডিকেটের কেউই বিল পাচ্ছেনা বলে জানিয়েছে হিসেব রক্ষণ বিভাগ।

সুত্রঃক্রিয়েটিভ মিডিয়া লিমিটেড।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১১১৭ বার

Share Button

Callender

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31