শিরোনামঃ-

» অবশেষে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে সেই স্কুলছাত্রী

প্রকাশিত: ০৪. ডিসেম্বর. ২০১৬ | রবিবার

Manual1 Ad Code
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জের বাহুবলে ধর্ষণের শিকার এক স্কুলছাত্রীকে বহিষ্কারের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তাকে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বাহুবলের শাহজালাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার সপ্তম শ্রেণির ধর্ম শিক্ষা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম শনিবার মধ্যরাতে সাংবাদিকদের ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Manual3 Ad Code

উল্লেখ্য, জেলার বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের চিচিরকোট গ্রামের কাছে নতুনবাজার শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাশের হিমারগাঁও গ্রামের সিদ্দিক আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম গত ১৯ জুলাই বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়।
পরে ফাতেমা ওই ছাত্রীকে একই উপজেলার যশপাল গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে জাহির হোসেন (৩৫) ও একই গ্রামের আজগর আলীর পুত্র সামছুদ্দিনের হাতে তুলে দেয়।
এরপর রাতে স্থানীয় মিরপুর বাজারে সানি ফার্নিচার মার্ট নামের দোকানে নিয়ে তাকে রাতভর ধর্ষণ করে জাহির ও শামসু। পরদিন ওই ছাত্রীকে অন্যত্র পাচারের চেষ্টার সময় বাজারের পাহারাদার তাদের আটকের চেষ্টা করে। পরে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ওই ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তিনি তার মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ূব আলী তাকে বাধা দেন। প্রধান শিক্ষক আপাতত মেয়েটিকে স্কুলে না পাঠানোর পরামর্শ দেন।
Manual1 Ad Code

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য লোকেরা এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রধান শিক্ষক একই পরামর্শ দেন। মেয়েটির বাবা বলেন, প্রধান শিক্ষকের পরামর্শ মতে আমি আমার মেয়েকে ঘটনার পর থেকে প্রাইভেট শিক্ষকের মাধ্যমে বাড়িতেই লেখাপড়া করিয়েছি।

Manual1 Ad Code

বার্ষিক পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসায় আমি আবার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি আমার মেয়েকে ছাত্রপত্র দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তাকে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে দিতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা অরুন চক্রবর্তী বলেন, মেয়েটিকে স্কুলে লেখাপড়া ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি স্থানীয় মুরুব্বিদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেছি।

Manual4 Ad Code

প্রধান শিক্ষক আমাদের বলেছেন, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটিকে বিদ্যালয়ে যেতে দেওয়া হলে এর প্রভাব অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের ওপর পড়বে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে তাকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী মোবাইল ফোনে বলেন, ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে ম্যানেজিং কমিটি ওই ছাত্রীটিকে ছাত্রপত্র দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাই তাকে ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)সিদ্ধান্তের কারণে রবিবার নির্ধারিত ধর্ম পরীক্ষায় তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭০৮ বার

Share Button

Callender

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930