শিরোনামঃ-

» হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দান-খয়রাত-মানতের পূর্ণ হিসাব ভাগ-ভাটোয়ারা না করে জেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা প্রদান এবং মাজারের কমিটি সংস্কার ও মাজার পরিচালনায় প্রস্তাবনার দাবী নিয়ে একতাবদ্ধ সিলেটবাসী স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত: ৩০. সেপ্টেম্বর. ২০২৬ | বুধবার

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

Manual3 Ad Code

সিলেটের সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের নাগরিকদের সম্মিলিত সংগঠন একতাবদ্ধ সিলেটবাসীর উদ্যোগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের দান-খয়রাত-মানতের পূর্ণ হিসাব ভাগ-ভাটোয়ারা না করে জেলা প্রশাসনের নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা প্রদান এবং মাজারের কমিটি সংস্কার ও মাজার পরিচালনায় প্রস্তাবনার দাবী উপস্থাপন করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বানিজ্য মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাঈদা পারভীন।

Manual1 Ad Code

বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ রেজাউল করিম জালালীর নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মইনুল ইসলাম আশরাফী, মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বকুল, এম এ আলী জালালাবাদী, মো: জয়নাল আবেদীন, মুজিবুর রহমান, মুখতার আহমদ তালুকদার, মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের, রফিকুল ইসলাম সিতাব, তোফায়েল আহমদ, আনোয়ার আহমদ, সৈয়দ ফেরদৌস আহমদ, মো. মখলিছ মিয়া, সৈয়দ রাসেল, ইমতিয়াজ রহমান ইনু, টিপু চৌধুরী, রুবেল আহমদ তালুকদার, আব্দুল শহীদ খান, মো: কামাল মিয়া, মো. সাহেদ আহমদ শান্ত, মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, শামসুল হক, মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা সানুল আহমদ, মাওলানা এম. এ রহিম, হাবিবুর রহমান হাবিব সহ প্রায় অর্ধশতাধিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

স্মারকলিপি বিষয়বস্তুঃ গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম।

Manual1 Ad Code

তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুন শাহজালাল (রহ.) মাজারে নতুন চারটি দানবাক্স স্থাপন করেন এবং মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে অদ্যবধি আপনার তত্ত্বাবধানে একবার সহ মোট চারবার প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা হিসাব করা হয় ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্দিষ্ট ব্যাংকে টাকা জমা করা হয়। সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম মাজার সংক্রান্ত বিষয়টি জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত হবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক মহোদয় মাজারের দানকৃত টাকা ৬৫% খাদেম ও ৩৫% উন্নয়ন খাতে ব্যয় হবে বলে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণায় সিলেটবাসী মর্মাহত ও আমরা মনে করেছিলাম হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারের হিসাব-নিকাশসহ পূর্ণ বিষয়াদি জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করবেন। আমরা চাই মাজার সংক্রান্ত পূর্ণ বিষয়াদি যেন জেলা প্রশাসন দ্বারা পরিচালিত হয়। দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ ভক্ত-অনুরাগীরা প্রতিদিনই হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে আসেন। এ সময় তাঁরা টাকাসহ নানা সম্পদ মাজারে দান করেন। তবে মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে কখনোই দানের হিসাব প্রকাশ্যে গণনা করা হয়নি। সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম টাকা গণনার বিষয়টি চালু শুরু করেছিলেন। আপনাদের মাধ্যমে এই টাকা গণনার বিষয়টি অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। আমাদের প্রস্তাবিত বিষয়াদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবী জানাচ্ছি।

Manual7 Ad Code

হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার পরিচালনায় আমাদের প্রস্তাব সমূহঃ
১। মাজারের সম্পূর্ণ জমি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে ও দৃষ্টিনন্দন মাজার কমপ্লেক্স তৈরী করতে হবে।
২। মাজারের দান-খয়রাত-মানতের পূর্ণ টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা না করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা করতে হবে।
৩। মাজার সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ জেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়োগকৃত নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে রশিদ দিয়ে গ্রহণ করতে হবে।
৪। প্রতিদিন গণনা নয়, সপ্তাহে একবার প্রকাশ্যে মাজারে দানের টাকাসহ হিসাব করতে হবে।
৫। তিনমাস অন্তর অন্তর খরচের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ্যে উপস্থাপন করতে হবে।
৬। প্রতিবছর একবার অডিটের মাধ্যমে পূর্ণ হিসাব-নিকাশ পর্যবেক্ষন করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতির সামনে তা প্রকাশ করতে হবে।
৭। মাজারের মুসাফির খানার পূর্ণ দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালনা ও মাজারে দান করা মানতের গরু, খাসি, মোরগ দিয়ে দুই বেলা শিরণী বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮। মাজারে দানকৃত কোরআন শরিফ, নগদ টাকা, স্বর্ণ, রৌপ্য, বিদেশী মুদ্রা ও গরু, ছাগল, হাঁস, মোরগ, মোমবাতি, আগরবাতি, গোলাপজল, গিলাফ সহ যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী জেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে রশিদের মাধ্যমে হস্তান্তর করতে হবে।
৯। মাজারে ডেগ সহ দানের প্রতিটি জায়গা জেলা প্রশাসনের আওতায় আনতে হবে। যেমন-মাজারের সিড়ি উপরের অংশ, কবরের উপরের টাকা, কবরে পাশে দাড়ানো ব্যক্তির কাছে দেওয়া টাকা, ঝর্ণার পার্শে দানকৃত টাকা ও পুকুরের পশ্চিম পার্শে মাছের দোকানের টাকা হিসাবের আওতায় আনতে হবে।
১০। গণশৌচাগার, জুতা রাখার স্থান, গোসলখানা, বিশ্রামঘর, জেলা প্রশাসনের নিয়োগকৃত ব্যক্তি দ্বারা পরিচালনা করতে হবে।
১১। হজরত শাহজালাল (রহ.) এর নামে মাজারের ভিতরে একটি গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
১২। হজরত শাহজালাল (রহ.) এর ব্যবহ্নত জিনিসপত্র ও যাবতীয় স্মৃতিসামগ্রী প্রদর্শনের জন্য একটি প্রদর্শনীয় একটি কক্ষ স্থাপন করতে হবে।
১৩। মাজার পরিচালনায় কর্মচারী নিয়োগ ও যাবতীয় বিষয় জেলা প্রশাসন কর্তৃক তদারকি করতে হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৯ বার

Share Button

Callender

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930