শিরোনামঃ-

» শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা

প্রকাশিত: ২০. আগস্ট. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

Manual3 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

শেষ মুহূর্তে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমে উঠেছে সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা।

চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় প্রতিদিনই প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণ।

বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে।

ইট-পাথরের নগরীর মাঝখানে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বসা এ বৃক্ষমেলা যেন হয়ে উঠেছে অক্সিজেনসমৃদ্ধ এক টুকরো লাল-সবুজ।

দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফল ও ফুলের গাছে সাজানো মেলার প্রতিটি স্টলই আকৃষ্ট করছে গাছপ্রেমীদের।

সিলেট জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে পক্ষকালব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকছে। মেলা চলবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত।

মেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ ও আকর্ষণীয় গাছের পাশাপাশি রয়েছে বনসাই, ক্যাকটাস, ইনডোর প্ল্যান্ট, ফুল ও ফলের হাজারো চারা।

Manual1 Ad Code

এর মধ্যে মালয়েশিয়ান ফলজ গাছ রামবুটান বিশেষ নজর কেড়েছে। একটি রামবুটান গাছের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ টাকা; তবে ক্রেতাদের দরদামে তা ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

এ ছাড়া ফিলিপাইনি আর্ক গাছের দাম ২৫০ থেকে ৬ হাজার টাকা, জাপানের জাতীয় ফল পারসিমন গাছের দাম সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা, চীনের ভ্যারিগেটেড কাঁঠাল ২৫ হাজার টাকা, দেশি সাতকরা গাছ ৫ হাজার টাকা, বড় নাশপাতি গাছ ২৫ হাজার টাকা, চালতা গাছ ১০ হাজার টাকা, অস্ট্রেলিয়ান ফিঙ্গার লেমন ১০ হাজার টাকা এবং মেলিনা চেরি গাছের দাম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

মেলায় ঘুরতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার বলেন, “বৃক্ষমেলায় এসে বিভিন্ন ধরনের গাছ ও বৃক্ষের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।

গাছ আমাদের পরিবেশকে সুন্দর ও নির্মল রাখার পাশাপাশি জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

চাকরিজীবী দ্বিপালী রানী বলেন, “বৃক্ষ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।

বৃক্ষমেলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রব জানান, মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছাদবাগানের উপযোগী ফল ও ফুলের গাছ।

Manual3 Ad Code

নগরজীবনের বাসিন্দারা নিজেদের ছাদকে সবুজ করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের গাছ কিনছেন। কেউ ঘর সাজানোর জন্য ফুলের গাছ নিচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের চাহিদা মেটাতে ছাদে ফলের বাগান গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন।

তিনি বলেন, “আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, মাল্টা, কমলা, কামরাঙা, লিচু, বারোমাসি আম ও বিভিন্ন জাতের পেঁপে গাছের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।

পাশাপাশি ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি ও বিদেশি জাতের বিভিন্ন ফলের গাছও ভালো বিক্রি হচ্ছে।”

সুগন্ধা নার্সারির স্বত্বাধিকারী মনোয়ারা বেগম বলেন, ফুলের গাছের মধ্যে গোলাপ, জুঁই, বেলি, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জবা, বাগানবিলাস, নয়নতারা ও অর্কিডের চাহিদা বেশি।

এ ছাড়া মানিপ্ল্যান্ট, এরিকা পাম, স্নেক প্ল্যান্ট, ফাইকাস ও বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাসও কিনছেন ক্রেতারা।

মেলায় আসা অনেক দর্শনার্থী নাম না-জানা কিংবা দুর্লভ কোনো গাছের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সেটির সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ আবার গাছের পরিচর্যা ও চাষাবাদ সম্পর্কে বিক্রেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন।

ফলে মেলাটি শুধু গাছের কেনাবেচার কেন্দ্রই নয়, নগরবাসীর মধ্যে বৃক্ষপ্রেম ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরিরও একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

সিলেট নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মলয় লাল ধর বলেন, “বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে মেলা শুরু হওয়ায় শুরুতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা ছিল।

তবে শেষ সময়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি সেই হতাশা অনেকটাই কাটিয়ে দিয়েছে। এখন ব্যবসায়ীদের চোখে আশার আলো ফুটেছে।”

Manual3 Ad Code

তিনি আরও বলেন, রোদ-বৃষ্টি, লোডশেডিং এবং সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের স্বল্প চাপজনিত যানবাহন সংকট মেলায় কিছুটা প্রভাব ফেলছে।

এরপরও শেষ সময়ে মানুষের আগ্রহ ও উপস্থিতি ব্যবসায়ীদের আশাবাদী করে তুলেছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেলায় প্রতিদিন গড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি গাছপালা ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী কেনাবেচা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিক্রির পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

Manual2 Ad Code

আয়োজকদের আশা, মেলার শেষ দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আরও বাড়বে।

ছাদবাগান, বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নের প্রতি নগরবাসীর আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে সিলেটকে আরও সবুজ ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১ বার

Share Button

Callender

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31