শিরোনামঃ-

» রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিক্রির চক্রান্ত বন্ধ করুন : বাসদ

প্রকাশিত: ৩১. জুলাই. ২০২৬ | শুক্রবার


Manual7 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প কারখানা ঢালাওভাবে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের কাছে বিক্রির সরকারি চক্রান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকাল ৫টায় ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সিলেট জেলা বাসদ আহ্বায়ক আবু জাফর এর সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, নাজিকুল ইসলাম রানা, এম এ ওয়াদুদ,জহর সিংহ, প্রিতম দাশ, শহীদ আহমদ,মেঘদাদ, জাহেদ আহমদ, মাহফুজ আহমদ প্রমুখ।

Manual5 Ad Code

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক ঢালাওভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানাসমূহ দেশি-বিদেশি বেসরকারি কোম্পানির বিনিয়োগের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ৫টি কর্পোরেশনের  আওতাধীন ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করার তথা বিক্রির গণবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে সরকার।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক শিল্প কল কারখানা ঢালাওভাবে নিলামে তোলার উদ্যোগ দেখে মনে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বানরের পিঠা ভাগ করা হচ্ছে।

দশ হাজার একরেরও বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানা ‘বিদ্যমান শিল্পসম্পদে পুনঃবিনিয়োগ’, ‘পুনর্গঠন ও পুনঃউন্নয়ন’, ‘ইজারাভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি ইজারাভিত্তিক ব্যবস্থা’, ‘যৌথ উদ্যোগ’, ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ ইত্যাদি নামে দেশি-বিদেশি বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পদ তথা জনগণের সম্পদের ওপর কর্পোরেট পুঁজির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক সুপরিকল্পিত উদ্যোগ।

নেতৃনৃন্দ বলেন, সরকার এই উদ্যোগকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কর্মসূচি হিসেবে মিথ্যা প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর পরামর্শে অনুসৃত নয়া উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণ নীতিরই ধারাবাহিকতা মাত্র।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং দেশি-বিদেশি বৃহৎ কর্পোরেট পুঁজির চাহিদা অনুযায়ী রাষ্ট্রকে উৎপাদন ও শিল্প পরিচালনা থেকে সরিয়ে দিয়ে কেবল বেসরকারি পুঁজির পৃষ্টপোষকতার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার যে নীতি বিগত সরকারগুলোর আমল থেকে অনুসরণ করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা। লোকসানি, অদক্ষ, উৎপাদনশীলতার ঘাটতি ও অকার্যকর।

Manual8 Ad Code

বাস্তবতা হলো, পরিকল্পিতভাবে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও মাথাভারী প্রশাসন জিইয়ে রাখা, সময়মতো অর্থ ছাড় না করে, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ না করে ও যন্ত্রের আধুনিকায়ন না করে, উৎপাদন সামগ্রীর বহুমূখিকরণ না করে, শ্রমিক প্রতিনিধসহ অংশিজনদের সমন্বয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে, ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ সরকারী শ্রমিক সংগঠন কর্তৃক দখল করে এবং সরকার নীতিগত অবহেলার মাধ্যমে বহু রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়ে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

এরপর সেই সংকটে সৃষ্ট লোকসানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের সম্পদ অতীতের মতোই পানির দামে বেসরকারি মালিকানায় তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এটি কোন অর্থনৈতিক সংস্কার নয়; বরং ধাপে ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদের বেসরকারিকরণ তথা হরিলুটের নীতি।

Manual6 Ad Code

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬ বার

Share Button