- শান্তিগঞ্জের বড়মোহা গ্রামের মাদ্রাসা ও স্কুলের রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন
- ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর লাশবাহী কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ সিলেট বিভাগীয় জেলা শাখার নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশ
- বঙ্গবীর ওসমানীকে তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা কবে দেওয়া হবে?
- জেলা ট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের পঙ্গুভাতা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন
- সিলেট জেলা ও মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তুতি সভা
- সমন্বিত উদ্যোগে সিলেটকে নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব : সিলেটে কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী
- অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
- আন্তর্জাতিক এআই ও সিকিউরিটি সম্মেলনে যোগ দিতে জাপান যাচ্ছেন সিলেটের মছনুল করিম চৌধুরী
- রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা সবসময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন : ব্যারিস্টার আবদুস সালাম
» বঙ্গবীর ওসমানীকে তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা কবে দেওয়া হবে?
প্রকাশিত: ৩০. জুন. ২০২৬ | মঙ্গলবার
মাহমুদুর রহমান লায়েকঃ
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কিছু নাম চিরদিন জাতির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।
সেই গৌরবোজ্জ্বল নামগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসাধারণ নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং অটল দেশপ্রেমের মাধ্যমে মুক্তিবাহিনী একটি সুসংগঠিত সামরিক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।
তাঁর নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে এবং অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একটি প্রশ্ন জাতির বিবেককে নাড়া দেয়-মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী কি তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছেন?
বাস্তবতা হলো, দেশের অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধপ্রেমী মানুষ মনে করেন, বঙ্গবীর ওসমানীর অবদান আজও যথাযথভাবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেনি।
একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন অবদান নিয়েও দীর্ঘদিন নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক মূল্যায়নের সংকীর্ণতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়; এটি সমগ্র জাতির অর্জন। স্বাধীনতার ইতিহাসে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের অবদান দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যায়ন করাই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।
বঙ্গবীর ওসমানী যেমন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে জাতীয় ইতিহাসে চিরভাস্বর।
আমি ব্যক্তিগতভাবে গত ১৬ বছর ধরে “ওসমানী স্মৃতি পরিষদ” প্রতিষ্ঠা করে বঙ্গবীর ওসমানীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, তাঁর জীবন ও কর্মের প্রচার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ তুলে ধরার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছি।
স্মারকলিপি প্রদান, সেমিনার, মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি।
কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাদের এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
আজ দেশের মানুষ নতুন প্রত্যাশা নিয়ে বর্তমান সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আন্তরিকভাবে আবেদন জানাই।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জাতীয় বীরদের অবদান এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদার গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করবেন-এমনটাই আমাদের বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, বর্তমান সরকারের পক্ষেই সম্ভব দীর্ঘদিনের এই ঐতিহাসিক শূন্যতা পূরণ করা। সেই লক্ষ্যে আমরা নিম্নোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি;
১। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে বাংলাদেশের একমাত্র “বঙ্গবীর” এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা।
২। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা।
৩। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাঠ্যক্রমে তাঁর জীবন, কর্ম ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করা।
৪। সিলেটে অবস্থিত বঙ্গবীর ওসমানী জাদুঘরকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ও জাদুঘরে উন্নীত করা।
৫। তাঁর নামে একটি সামরিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
৬। হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণাগার ও জাদুঘর নির্মাণ করা।
জাতি হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, ইতিহাসের মহানায়করা কেবল অতীতের স্মৃতি নন; তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস।
যাঁদের নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তাঁদের যথাযথ সম্মান না দিলে ইতিহাসের প্রতি সুবিচার করা হয় না।
বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী কেবল একজন সেনানায়ক নন; তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত একটি মহিমান্বিত নাম।
তাঁর প্রতি যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদর্শন কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের দাবি নয়; এটি জাতির নৈতিক দায়িত্ব।
আমরা বিশ্বাস করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করে জাতির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবেন।
লেখকঃ
মাহমুদুর রহমান লায়েক
প্রতিষ্ঠাতা, ওসমানী স্মৃতি পরিষদ
এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩ বার
সর্বশেষ খবর
- শান্তিগঞ্জের বড়মোহা গ্রামের মাদ্রাসা ও স্কুলের রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন
- ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর লাশবাহী কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ সিলেট বিভাগীয় জেলা শাখার নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশ
- বঙ্গবীর ওসমানীকে তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা কবে দেওয়া হবে?
- জেলা ট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের পঙ্গুভাতা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন
সর্বাধিক পঠিত খবর
- হত্যা না করেও ২৬ জনের উপর হত্যা মামলার করলো আওয়ামী লীগ
- সুনামগঞ্জ জেলায় নির্বাচনী হাওয়া; সরেজমিন প্রতিবেদন
- তালাকনামা জালিয়াতির দায়ে বিশ্বনাথে কাজী গ্রেফতার; ৭ জন আসামীর উপর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী
- জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহীন আলী গ্রেফতার; উত্তাল দক্ষিণ সুরমা
- কিডনী রোগীদের জরুরী তথ্য কণিকা জানা আবশ্যক
এই বিভাগের আরো খবর
- শান্তিগঞ্জের বড়মোহা গ্রামের মাদ্রাসা ও স্কুলের রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন
- ওসমানী বিমানবন্দরে ৬ প্রবাসীর লাশবাহী কফিনের পাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ সিলেট বিভাগীয় জেলা শাখার নতুন কমিটির আত্মপ্রকাশ
- বঙ্গবীর ওসমানীকে তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদা কবে দেওয়া হবে?
- জেলা ট্রাক পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের পঙ্গুভাতা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন


