শিরোনামঃ-

» জিলহজ মাসের ফজিলত ও করণীয়; কুরআন ও সুন্নাহর আলোকপাত

প্রকাশিত: ২৫. মে. ২০২৬ | সোমবার


Manual6 Ad Code

কারী মাওলানা নূরুজ্জামান নোমানীঃ
ইসলামি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ অত্যন্ত বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ। বিশেষ করে এই মাসের প্রথম দশকটি মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য নিয়ামত। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই দিনগুলোর শপথ করে এর গুরুত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন। সূরা আল-ফজরের শুরুতে ইরশাদ হয়েছে,”শপথ ভোরের, এবং শপথ দশ রাতের।” (সূরা আল-ফজর, আয়াত: ১-২)।

জুমহুর মুফাসসিরদের মতে, এখানে ‘দশ রাত’ বলতে জিলহজের প্রথম দশ দিনকেই বোঝানো হয়েছে। রাসূলে কারিম (সা.) এই দিনগুলোর আমলকে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “জিলহজের প্রথম দশ দিনের নেক আমল আল্লাহর কাছে অন্য যেকোনো সময়ের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৯৬৯)।

ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময় ও জিকির
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। এ দিনগুলোতে বেশি বেশি ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার’ পাঠ করা সুন্নাত। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, “যাতে তারা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে। (সূরা আল-হজ, আয়াত-২৮)। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, “তোমরা এই দিনগুলোতে বেশি বেশি তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ পাঠ করো।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৫৪৪৪)।

হজ ও আরাফার অনন্য মহিমা
সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর পবিত্র হজ পালন করা এ মাসের প্রধান ফরজ ইবাদত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নিষ্কলুষভাবে হজ করল, সে তার মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে এলো।” (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৫২১)।

Manual7 Ad Code

৯ জিলহজ আরাফার ময়দানে অবস্থান করা হজের প্রধান রকন। যারা হজে যেতে পারেননি, তাদের জন্য আরাফার দিনের রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আরাফার দিনের রোজা বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)।

কোরবানি, তাকওয়া ও নখ-চুল কাটার বিধান
ঈদুল আজহার দিন পশু কোরবানি করা সামর্থ্যবানদের জন্য ওয়াজিব। কোরবানি হলো হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাহ এবং তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না ওগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা আল-হজ, আয়াত: ৩৭)। হাদিস শরিফে এসেছে, “কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১২৭)।

নখ ও চুল না কাটা: জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কোরবানি সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নিজের নখ, চুল বা চামড়ার অংশ না কাটা মুস্তাহাব। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন তোমরা জিলহজের চাঁদ দেখতে পাবে এবং তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করবে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৭৭)।

Manual5 Ad Code

তাকবীরে তাশরিক: ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার উচ্চৈঃস্বরে তাকবিরে তাশরিক—‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’ বলা ওয়াজিব।

নফল আমল ও বর্জনীয় বিষয়
এ মাসে বেশি বেশি নফল নামাজ ও দান-সদকা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তবে মনে রাখতে হবে, ১০ জিলহজ (ঈদের দিন) এবং এর পরবর্তী তিন দিন (১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ) রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, “আরাফার দিন, কোরবানির দিন এবং তাশরিকের দিনগুলো আমাদের মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন। আর এগুলো পানাহারের দিন।” (সুনানে আবু دাউদ, হাদিস: ২৪১৯)। কোরবানির মাংস নিজে খাওয়া, আত্মীয় ও গরিবদের মধ্যে বণ্টন করা সুন্নাত।

পরকালীন পাথেয়
জিলহজ মাস আমাদের মাঝে ত্যাগের চেতনা জাগ্রত করে। এই পবিত্র দিনগুলোতে খাঁটি অন্তরে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে নিজের গুনাহ মাফ করিয়ে নেওয়া উচিত। জিলহজ মাসের প্রতিটি মুহূর্তই পরকালীন পাথেয় সংগ্রহের বিশেষ সুযোগ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

লেখক:

Manual8 Ad Code

সাধারণ সম্পাদক, ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ পরিষদ, সিলেট মহানগর।

Manual6 Ad Code

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৮৫ বার

Share Button

Callender

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930