শিরোনামঃ-

» একের পর এক নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এনডিএফ এর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

প্রকাশিত: ১৪. অক্টোবর. ২০২০ | বুধবার

Manual4 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টারঃ
দেশে একের পর এক নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও পুলিশ হেফাজতে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

Manual4 Ad Code

সিলেট মহানগরীর সুরমা মার্কেটস্থ সংগঠনের জেলা কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. সুরুজ আলী।

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত শাহীন আলমের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, সিলেট শহর র্পর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি মো. খোকন মিয়া, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: ছাদেক মিয়া, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম-আহবায়ক নাজমুল হোসেন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আনছার আলী, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি একে আজাদ সরকার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের দু:শাসনে দেশে আজ চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। সরকারের মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কখনো কখনো অবিশ্বাস্য রকমের পাশবিক কায়দায় একের পর এক ঘটে চলেছে ধর্ষণ; যেন ধর্ষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।

Manual3 Ad Code

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণযজ্ঞের পর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানো এবং সেই ন্যক্কারজনক পৈশাচিকতার ভিডিও চিত্র ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা এসবের কয়েকটি উদাহরণ মাত্র।

Manual8 Ad Code

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিবাদের প্রয়োজন নেই; সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ আর খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন ‘পৃথিবীর কোথায় ধর্ষণ নেই।’ কিন্তু খোদ সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার মাত্র ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশের ক্ষেত্রে আদালতের রায় ঘোষিত হয়েছে; আর অপরাধীদের দন্ডাদেশ ঘোষিত হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ মামলায়। যে দেশে ৯৯ শতাংশের বেশি মামলায় অপরাধীরা শাস্তির বাইরে থেকে যায়, রাজনৈতিক বিবেচনায় নারী ধর্ষণের মতো অপরাধ করেও পার পেয়ে যায় এবং সরকারের মন্ত্রীদের ‘প্রতিবাদের প্রয়োজন নেই’ বা ‘পৃথিবীর কোথায় ধর্ষণ নেই’ এসব অতিকথনে ধর্ষণকারীরা আস্ফালন পেয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশিত ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের সরকারদলীয় পরিচিতিই এসব বিষয়কে স্পষ্ট করে দেয়।

বক্তারা বলেন, একদিকে কালোবাজারী-মজুদদাররা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে জনজীবনকে দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে ফেলেছে; সরকারদলীয় লুটপাটকারীরা জনগণের সঞ্চিত লক্ষ কোটি টাকা ঋণের নামে ব্যাংক থেকে তুলে বিদেশে পাচার করছে।

অন্যদিকে সাধারণ জনগণের ওপর বিভিন্ন বাহিনীর চলছে নিরব চাঁদাবাজি। চাহিদা মতো চাঁদা দিতে না পারলেই চলে নির্মম নির্যাতন। সম্প্রতি সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে চাঁদার দাবিতে নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনা একটি উদাহরণ মাত্র। দেশে চলছে জনগণের ওপর চরম লুটতরাজ চলছে।

আইনের শাসন বলে এখানে কোনো কিছুই নেই। কোন দেশে আইনের শাসন কার্যকর থাকলে অপরাধীদের বিচার সম্পর্কে সরকার প্রধানের কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস-অঙ্গীকারের প্রয়োাজন পড়ে না, অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হয় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়।

অব্যাহত পুলিশি নির্যাতন, চাঁদার জন্য পুলিশ হেফাজতে হত্যা, খুন, গুম, ক্রসফায়ারসহ সকল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শ্রমিক কৃষক জনগণকে সোচ্চার হতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা তথা নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা বন্ধ করতে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া সম্ভব নয় যা মূলত সমাজ পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত।

Manual5 Ad Code

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫২৬ বার

Share Button

Callender

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31