শিরোনামঃ-

» কোম্পানীগঞ্জে জামায়াত নেতার স্ত্রী মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী প্রার্থী

প্রকাশিত: ০২. ডিসেম্বর. ২০১৯ | সোমবার

স্টাফ রিপোর্টারঃ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বিএনপি নেতার স্ত্রীর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী পদে প্রচারনাকে কেন্দ্র করে উপজেলায় সমলোচনার ঝড় বইছে।

১নং ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক শিবির এবং জামায়াত নেতা আবুল হোসেনের স্ত্রী নাসরিন জাহান ফাতেমা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী পদে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কারনে পুরো উপজেলা জুড়ে আওয়ামী লীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, ১৯৯০ পরবর্তী সময়ে মদন মোহন কলেজের জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরের জেলা পর্যায়ে যথেষ্ট গ্রহনযোগ্যতা থাকাকালীন সত্বেও সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপে অংশ নেওয়ায় বহিস্কার হতে হয় আবুল হোসেনকে।

শিবিরের রাজনীতি থেকে বহিস্কৃত আবুল পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ ভাগিয়ে নেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সাথে ঘনিষ্টতা থাকার সুবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলায়ও ফাঁসিয়েছেন সেই আবুল। পরবর্তীতে এম. ইলিয়াছ আলী গ্রুপের নাম লেখান এই আবুল।

২০০৪ সালে সিলেট জেলা স্টেয়িামে বিএনপির বিভাগীয় সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য রাখছেন। যে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তারেক জিয়া উপস্থিত ছিলেন।

২০০৫ সালে আলী আমজদ-আপ্তাব আলী কালার নেতৃত্বাধীন উপজেলা আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করে সেই সময় জেলা বিএনপির আস্থা অর্জন করলেও বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনার কারনে বর্তমানে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে আবুল হোসেন।

আবুল হোসেন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির প্রকাশ্য রাজনীতিতে কৌশলগত কারনে আড়ালে থাকলেও গোপনেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তার গোপন আস্থানা হিসেবে টুকের বাজারে অবস্থিত মুর্তুজ আলী দাখিল মাদ্রাসাকে ব্যাবহার করছে। প্রায়ই রাতের আধারে উপজেলা জামায়াতের নেতা কর্মীদের সাথে গোপন আস্থানায় বৈঠকে অংশও নিচ্ছে।

বিগত বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে কর্মসংস্থান ব্যাংকে তালা মেরে সেই বিতর্কিত ঘটনায় কোনঠাসা হয়ে পড়ে উপজেলা বিএনপিতে।

আবুল হোসেন উপজেলা বিএনপিতে গ্রহণযোগ্যতা হারালেও স্ত্রী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমাকে মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী পদে নির্বাচিত করতে উঠে পড়ে লেগেছেন।

বিগত বছর কয়েক ধরে স্ত্রীর জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করিয়ে পদ ভাগিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সাবেক এই জামায়াত নেতা ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইয়াকুব আলী আক্ষেপের সুরে জানান- উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ পদে যদি শিবির-বিএনপি নেতার স্ত্রীকে বসানো হয় তবে আমাদেরকে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে। বিগত জামায়াত-বিএনপি সরকারের আমলে এই আবুল হোসেন আওয়ামী লীগ নেতাদের মামলা হামলা দিয়ে হয়রানি করেছে।

মিছিল মিটিং করতে দেয়নি আমাদের। আওয়ামী লীগের এই সু সময়ে এখন যদি তার স্ত্রীর সাথে রাজনীতি করতে হয় তবে রাজনীতিই ছেড়ে দেয়াই উত্তম হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য কমিটিতে স্থান পাওয়া কার্যকরী সদস্য শাহ আলম জানান- বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আবুল হোসেন আমাদের অনেক হয়রানী করেছে। এখন সে আমাদের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার। তাছাড়া তার স্ত্রী বিগত উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সাধারণ সদস্য পদেও ছিলনা। কিন্তু এখন সে কি করে এত বড় একটা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে চায় তা আমার বোধদয় হচ্ছে না। এব্যাপারে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বৈদেশিক ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ সহ উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এর সুষ্ঠু সমাধানের দাবী জানিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।

পাশাপাশি এই জাময়াত নেতার স্ত্রী যাতে মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে প্রার্থীতা না করতে পারে, সেব্যাপারে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি উদাত্তর আহ্বান জানানো হয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৯ বার

Share Button

Callender

December 2019
M T W T F S S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031