শিরোনামঃ-

» জলবায়ু অর্থায়নে দূষণকারী শিল্পোন্নত দেশসমূহের প্রতিশ্রতির বাস্তব অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে সিলেটে সনাক-টিআইবির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ২৮. নভেম্বর. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

স্টাফ রিপোর্টারঃ
স্পেনের মাদ্রিদে আসন্ন কপ-২৫ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জলবায়ু অর্থায়নে দূষণকারী শিল্পোন্নত দেশসমূহের প্রতিশ্রতির বাস্তব অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় সাড়া দেশের ন্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সনাক, স্বজন, ইয়েস, ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্য ও টিআইবি কর্মীসহ বিভিন্ন সুশীল সমাজের প্রতিনিধবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছেন।

ইয়েস দলনেতা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এর পরিচালনায় মানববন্ধনে শুরুতেই এ সংক্রান্ত ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সদস্য এডভোকেট সামসুল আবেদীন।

মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে সনাক সহ-সভাপতি এ কে মেলাম বলেন, বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের মানুষের স্বার্থে জলবায়ু অর্থায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ‘স্বচ্ছতা কাঠামো সম্বলিত রূপরেখা’ (রুল বুক) অনুযায়ী প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ও ‘ক্ষয়-ক্ষতি’ মোকাবেলায় ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী।

মানববন্ধন থেকে আসন্ন কপ২৫ সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপনযোগ্য নিম্নোক্ত দাবীসমূহ পেশ করা হয়;

১. দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান নীতি বিবেচনা করে ঋণ নয়, শুধু সরকারি অনুদান, যা উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ প্রতিশ্রুতির বিপরীতে প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে;

২. ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পরিকল্পিত অভিযোজনের জন্য জিসিএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক তহবিল হতে প্রয়োজনীয় তহবিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যথাসময়ে, সহজে সরবরাহের জন্য বাংলাদেশসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সমন্বিতভাবে (ক্লাইমেট ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে) দাবি উপস্থাপন করতে হবে এবং তা আাদায়ে দর কষাকষিতে দক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে;

৩. উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে চাহিদা মাফিক জলবায়ু অনুদান ভিত্তিক তহবিল প্রদানে একটি সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে;

৪. স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ নিশ্চিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নে উন্নত দেশগুলো হতে প্রয়োজনীয় সম্পদ (জলবায়ু তহবিল, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কারিগরি সহায়তা) সরবরাহের জোর দাবি উত্থাপন করতে হবে;

৫. জিসিএফ এর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে সুশীল সমাজ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে সমতা-ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বমূলক এবং কার্যকর ট্রাস্টি বোর্ড গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের অভিযোজন কার্যক্রমে অনুদানকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে;

৬. স্বল্পোন্নত দেশে অভিযোজন বাবদ অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় বিশেষ তহবিল গঠন এবং তার জন্য দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সোচ্চার হতে হবে;

৭. ‘ক্ষয়-ক্ষতি’ মোকাবেলায় জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় বীমার পরিবর্তে উন্নত দেশসমূহ কর্তৃক ক্ষতিপূরণ আদায় করে ‘ঝুঁকি বিনিময় খরচ’ একটি আইনি কাঠামোর মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে; এবং

৮. জলবায়ু-তাড়িত বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতে জিসিএফ এবং অভিযোজন তহবিল থেকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুরূপভাবে মানববন্ধনে জলবাযু পরিবর্তনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়:

১. ২০৫০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিশ্রুত সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের স্বার্থে অনতিবিলম্বে রামপাল, তালতলি ও কলাপাড়ায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পায়ন কার্যক্রম স্থগিত করে ইউনেস্কো’র সুপারিশ অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্ধ-মুক্ত কৌশলগত পরিবেশের প্রভাব নিরুপণ সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হবে;

২. নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকে লক্ষ্য করে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করে, সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে আশু পদক্ষেপ নিতে হবে; এবং

৩. প্রত্যন্ত এলাকার ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে জেলা-উপজেলাভিত্তিক জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা চুড়ান্ত করতে হবে এবং ‘ক্ষয়-ক্ষতি’ মোকাবেলায় একটি জাতীয় কাঠামো প্রণয়ন সহ বিপন্ন মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪২ বার

Share Button

Callender

December 2019
M T W T F S S
« Nov    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031