শিরোনামঃ-

» সিলেট উইমেন চেম্বারের নির্বাচিত পর্ষদের ১ বছর পূর্তিতে যা বললেন সভাপতি শম্পা

প্রকাশিত: ০৭. সেপ্টেম্বর. ২০২৬ | সোমবার

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ
সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সফল এক বছর পূর্ণ হয়েছে।

২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত ঐতিহাসিক নির্বাচনে ১১ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে সভাপতি নির্বাচিত হন লুবানা ইয়াসমীন শম্পা।

প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এসব কর্মসূচিতে সিলেটের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবর্গ, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং চেম্বারের সাধারণ সদস্যদের অংশ গ্রহণের কথা রয়েছে।

প্রথম বর্ষপূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণে পর্ষদের বিগত এক বছরের অর্জন, সাধারণ সদস্যদের প্রাপ্তি এবং নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে চেম্বারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন সভাপতি লুবানা ইয়াসমীন শম্পা।

শুরুতেই তিনি পর্ষদের পক্ষ থেকে সিলেটবাসীকে শুভেচ্ছা জানান এবং আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান।

অতীতের পটভূমি স্মরণ করে লুবানা ইয়াসমীন শম্পা বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক ক্রান্তিলগ্নে চেম্বারের সদস্য ও সাবেক পরিচালকদের অনুরোধে আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নিই।

পরবর্তীতে সংগঠনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে সহ-সভাপতি ও ৯ জন পরিচালকসহ পুরো ১১ সদস্যের পর্ষদ একযোগে কাজ করেছি।”

তিনি জানান, গত এক বছরে সদস্যদের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, হস্তশিল্প তৈরি, সহজ শর্তে ঋণদান বিষয়ক সেমিনারসহ একাধিক কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

পাশাপাশি এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এইসব কর্মসূচী শুধু শহরেকন্দ্রীক সীমাবদ্ধ ছিল না বরং সিলেটের বেশ কয়েকটি জেলায় প্রান্তিক নারীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মাধ্যমে তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, চেম্বারের ফান্ড গঠনেও আমি এবং পরিষদ একযোগে কাজ করেছি এবং সফলতা লাভ করেছি।

Manual5 Ad Code

এদিকে পরিষদেরেএক বছর পূর্তি উপলক্ষে লুবানা ইয়াসমীন শম্পা চেম্বারের অগ্রগতিতে অবদান রাখায় সরকারের দুজন মন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তাঁরা হলেন, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সভাপতি বলেন, “তাদের অব্যাহত সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা ছাড়া আমাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।

বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী শুরু থেকেই আমাদের এই অগ্রযাত্রায় সহায়কের ভূমিকা পালন করেছেন। আশা করি, ভবিষ্যতেও উইমেন চেম্বারের প্রতি তাদের এই সমর্থনের ধারা বজায় থাকবে।”

সাম্প্রতিক কিছু অপপ্রচারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সভাপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সিলেট উইমেন চেম্বার কারো ব্যক্তিগত বা সামাজিক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান নয়।

এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থা।

বিগত দিনেও সিলেটের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা সিটি করপোরেশনের মেয়রের উপস্থিতিতে আয়োজিত সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রোগ্রামে চেম্বারের প্রতিনিধিত্ব করতে হয়েছে।

এর অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নয়; বরং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের অংশ হওয়া।”

তিনি আরও যোগ করেন, “গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একক সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ এখানে নেই। প্রতিটি সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে রেজুলেশন আকারে গৃহীত হয়।

Manual3 Ad Code

ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনোদিন কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। অথচ আমাকে রাজনৈতিকভাবে বিকৃত করার উদ্দেশ্যে পরিবারকে টেনে এনে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা চরম হীন মানসিকতার পরিচয়।”

চেম্বারের বাণিজ্য মেলা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাণিজ্য মেলা আয়োজনের বৈধ অধিকার সিলেট উইমেন চেম্বারের রয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় পুরো পরিচালনা পর্ষদ যুক্ত থাকে। পর্ষদের বাইরে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মেলার নামে আর্থিক লেনদেন বা গোপন চুক্তির সুযোগ নেই। মেলার গোপন চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রটনা।”

যেমন চেম্বারের সহ-সভাপতি ও একজন পরিচালকের বক্তব্য বিকৃত করে অপপ্রচার বিষয়ে তিনি বলেন, “তাদের নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। কারণ নাম উল্লেখ করাদের মধ্যে জাকিয়া ফাতেমা লিমি চৌধুরী দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন।

গণমাধ্যমে তাঁর নামে বক্তব্য প্রকাশ করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ লিখিতে আকারে জানিয়েছেন।

অপরদিকে সহ-সভাপতি চেম্বার সভাপতির কোন অনিয়ম বা স্বেচ্চাচারীতা বিষয়ে কিছু বলেন নি। তিনি বলেছেন, মেলা অনুমোদনের বিষয়টি তিনি জানেনি।

Manual5 Ad Code

ইতোমধ্যে তাদের দু’জনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ওই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অপপ্রচার চালিয়ে উইমেন চেম্বারের অগ্রযাত্রাকে কখনো থামানো যাবে না। সত্যের জয় নিশ্চিতভাবেই হবে।”

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬ বার

Share Button

Callender

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930