শিরোনামঃ-

» সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী শ্রমমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ

প্রকাশিত: ৩১. আগস্ট. ২০২৬ | সোমবার


Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ
হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি দ্রুত বাস্তবায়ন, শ্রম আইন কার্যকর করা এবং শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত পরিকল্পিত, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরী ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবানে দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১২টায় সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা কার্যকরী সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, প্রচার সম্পাদক রাশেদ আহমদ ভূইয়া, ১১তম সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির অন্যতম নেতা আনোয়ার হোসেন, শাহপরান থানা কমিটির সহ-সভাপতি আলীম উদ্দিন, সদস্য মোহাম্মদ আলী, অনূকুল চন্দ্র দাস, বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির দপ্তর সম্পাদক মনোয়ার হোসেনসহ প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প মজুরি, অনিশ্চিত চাকরি, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং শ্রম আইনে স্বীকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ শ্রমিক তা থেকে বঞ্চিত।

Manual5 Ad Code

একই সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের জন্য আইন অনুযায়ী প্রাপ্য মজুরি পরিশোধ না করে অনেক শ্রমিককে দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

Manual6 Ad Code

গত ৫ মে ২০২৫ হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হলেও এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ, স্মারকলিপি ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়নি।

হোটেল রেস্তোরা সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরী ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ দেশব্যাপী কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করে।

Manual1 Ad Code

শ্রমিকরা যখন কর্মবিরতে সফলে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে তখন ৮ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বৈঠকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাসের পর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

Manual4 Ad Code

পরবর্তীতে শ্রমিক-মালিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত উপকমিটি কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করলেও তা পরবর্তীতে কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর হোটেল রেস্তোরাঁ খাতকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০ জুনের মধ্যে মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

এ ছাড়া শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া ও ন্যায়সংগত দাবি আদায়ের আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকা স্টার কাবাব রেস্তোরাঁ গ্রুপের শ্রমিক নেতা মনির হোসেন, আল আমিন সর্দার, নাহিদ প্রধান ও জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে নেত্রকোনা, সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি রংপুরের হোটেল শ্রমিক শাওন হত্যাকান্ড সহ শ্রমিক হত্যার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার, দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন শ্রমিকদের কোন দয়া বা করুণার বিষয় নয়; এটি তাদের আইনগত অধিকার।

তাই অবিলম্বে গেজেট অনুযায়ী মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রম আইনের পূর্ণ প্রয়োগ, শ্রমিকদের নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদান, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার আইনানুগ প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ন্যায়সংগত দাবি বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে সংগঠিতভাবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকদের আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া মুক্তির কোনো পথ নেই।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭ বার

Share Button

Callender

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31