শিরোনামঃ-

» স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা প্রকল্প প্রদর্শন

প্রকাশিত: ১৩. আগস্ট. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার


Manual5 Ad Code

বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়তে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে : প্রফেসর জয়নুল আবেদীন চৌধুরী

নিউজ ডেস্কঃ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বাংলাদেশ গঠনে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বার্ষিক বিজ্ঞান মেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্কলার্সহোমের একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর জয়নুল আবেদীন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক।

উপস্থিত ছিলেন, উপাধ্যক্ষ প্রাথমিক শাখা নাহিদা খান।

দু’দিন ব্যাপী আয়োজিত বিজ্ঞান বিজ্ঞান মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিজ্ঞান মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক হাসান শাহরিয়ার মজুমদার মেলার উদ্দেশ্য ও আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

আর একাডেমিক কোওর্ডিনেট ও রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক শাখায়াত হোসেন তাঁর বক্তব্য বলেন, পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা এবং তাঁদের সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানোই এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর জয়নুল আবেদীন চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে।

Manual6 Ad Code

বিজ্ঞানচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবে।

Manual4 Ad Code

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে হবে।

বিজ্ঞান মেলার মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন কিছু ভাবতে, তৈরি করতে এবং নিজেদের চিন্তা ও উদ্ভাবন অন্যদের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ করে দেয়।

সভাপতির বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ ও বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতা অর্জন করতে হবে।

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে বিজ্ঞানের ইতিবাচক চর্চা আরও বাড়াতে হবে। স্কলার্সহোম সেই লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তাঁদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানো আমাদের দায়িত্ব।

বিজ্ঞান মেলায় কলেজের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তিনটি গ্রুপে অংশগ্রহণ করে মোট ৪০টি স্টলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন প্রজেক্ট, মডেল ও গবেষণাধর্মী কার্যক্রম প্রদর্শন করে।

প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল, স্মার্ট কৃষি, অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি, সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ, রোবোটিক্স, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্ভাবন।

Manual6 Ad Code

মেলায় শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা ছিল সাবলীল, প্রাঞ্জল ও বিশ্লেষণধর্মী। বিভিন্ন স্টলে তাঁরা নিজেদের তৈরি মডেলের কার্যপ্রণালি, প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে অতিথি, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের অবহিত করে।

অতিথিরাও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

বিজ্ঞান মেলার সার্বিক আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞান মেলা উদযাপন কমিটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মেলার বিভিন্ন কার্যক্রমে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. ফয়জুল হক।

জুনিয়র গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে “এলপিজি গ্যাস ডিটেক্টিং সিস্টেম” দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে “প্রডিউসিং ইলেক্ট্রিসিটি বাই ফুটস্টেপ্স” এবং “অটোমেটিক রেইন ডিটেক্টর প্রটেক্ট শিল্ড।”

ইন্টারমিডিয়েট গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে “ব্যালেন্সড ডোম” দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে “ইন্ডাস্ট্রিয়াল এয়ার পল্যুশন কন্ট্রোল মডেল” এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে “গ্লাস ফ্যর ব্লাইন্ড পিপল।”

অন্যদিকে, সিনিয়র গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে “পাইজো-ইলেক্ট্রিক ফ্লোর টেকনোলজি” দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে “ইলেক্ট্রিসিটি প্রোডাকশন ফ্রম ওয়েস্ট ম্যাটেরিয়াল” এবং “শ্যাডোবট।”

সমাপনী অনুষ্ঠানে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিজ্ঞান মেলার এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, যুক্তিবোধ, উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং বাস্তবভিত্তিক জ্ঞানচর্চার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে।

Manual4 Ad Code

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬ বার

Share Button

Callender

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31