শিরোনামঃ-

» স্কুল থেকে ফেরার পথে শিক্ষার্থী অপহরণ; ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়, মামলা না নেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ২৮. সেপ্টেম্বর. ২০২২ | বুধবার

Manual4 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয়। মুক্তিপণ পরিশোধের পর শিক্ষার্থীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও ঘটনার পর থেকে সে চরম মানসিক আঘাত ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার খিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও আম্বরখানা বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ লাল মিয়ার ছেলে মো. সাইদুল হাসান ওহি, সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ বিকালে প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় অতিক্রম করার পরও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে শিশুটির মা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, একজন নিকট আত্মীয় পরিচয়ে তাঁকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মোহাম্মদ লাল মিয়া তার চাচাতো ভাই মো. সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিশুটির মুক্তির বিনিময়ে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

Manual1 Ad Code

একই সঙ্গে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কাউকে জানানো হলে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।পরবর্তীতে সন্তানের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে মোহাম্মদ লাল মিয়া নগদ ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের মাধ্যমে তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ মোহাম্মদ লাল মিয়া দক্ষিণ সুরমা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ আবেদন গ্রহণ করলেও সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি। তার আরও দাবি, অভিযুক্তদের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর তদন্ত বা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, শিশু অপহরণ একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনা শুধু ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশেই নয়, সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তাবোধের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী শিশুর মানসিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে থানার ডিউটি অফিসার এসআই সেলিনা পারভীন বলেন, আমরা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের জানা মতে, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আমরা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করছি। মামলাটি এখনো নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

Manual4 Ad Code

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩২৮ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031