শিরোনামঃ-

» আজ পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ

প্রকাশিত: ২৪. এপ্রিল. ২০১৭ | সোমবার

Manual4 Ad Code
ইসলামিক ডেস্কঃ আজ সোমবার, পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ দিবাগত রাতে (২৬ রজব দিবাগত রাতে) ঢাকাসহ সারা দেশে লাইলাতুল মিরাজ উদ্যাপিত হবে। এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ সারা দেশে ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কাছে শবে মিরাজের রাত অতি পবিত্র এবং মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ। মুসলিম জাহানের কাছে এ রাতের তাৎপর্য অপরিসীম। তাই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, নফল রোজা রাখা ও নফল নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে মুসলমানেরা শবে মিরাজ পালন করেন। লাইলাতুল মিরাজ উদ্যাপনে জাতীয় সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যমগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করে। এ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কর্মসূচির মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে (বাদ মাগরিব) বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। ওয়াজ করবেন ঢাকার নারিন্দাস্থ দারুল উলুম আহছানিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল মিরাজ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বলা হয়, বাংলাদেশের আকাশে ২৯ মার্চ ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে।
ফলে ৩০ মার্চ, বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়য়ের যুগ্ম সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। সভায় ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে কমিটি উক্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

ফজিলতে ভরা মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল মিরাজের রাতে আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হযরত জিব্রাঈল আলাহিস্সালামের সঙ্গে পবিত্র কাবা হতে ভূ-মধ্যসাগরের পূর্বতীর ফিলিস্তিনে অবস্থিত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস হয়ে সপ্তাকাশের উপর সিদরাতুল মুনতাহা হয়ে সত্তুর হাজার নূরের পর্দা পেরিয়ে আরশে আজিমে মহান আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টি জগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম-এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মিরাজ’।
Manual7 Ad Code

মিরাজ ইসলামের ইতিহাসে এমনকি পুরা নবুওয়াতের ইতিহাসেও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্যকোনো নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। এ মিরাজ রজনীতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়।

Manual1 Ad Code

মিরাজ শব্দটি আরবী, অর্থ ঊর্ধ্বারোহণ। এ মিরাজের বড়দাগে অর্থ দাঁড়ায়-সপ্তম আসমান, সিদরাতুল মুনতাহা, জান্নাত-জাহান্নাম পরিদর্শন ও ধনুক কিংবা তার চেয়ে কম দূরত্বে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য পর্যন্ত ভ্রমণ। এ ছিল আল্লাহ তাআলার মহান কুদরত, অলৌকিক নিদর্শন, নবুয়তের সত্যতার পক্ষে এক বিরাট আলামত। জ্ঞানীদের জন্য উপদেশ, মোমিনদের জন্য প্রমাণ, হেদায়েত, নেয়ামত, রহমত, মহান আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্যে হাজির হওয়া, ঊর্ধ্বলোক সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন, অদৃশ্য ভাগ্য সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান লাভ, ইহকাল ও পরকাল সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, স্বচক্ষে জান্নাত-জাহান্নাম অবলোকন, নভোমন্ডল পরিভ্রমণ এবং সর্বোপরি এটিকে একটি অনন্য মুজিযা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা।

Manual2 Ad Code

পারিভাষিক অর্থে নবুয়তের একাদশ সালের ২৭ রজবের বিশেষ রাতের শেষ প্রহরে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম জিব্রাঈলের (আ.) সঙ্গে আল্লাহর নির্দেশে বায়তুল্লাহ হতে বায়তুল মুক্বাদ্দাস পর্যন্ত ‘বোরাক্বে’ ভ্রমণ, অতঃপর সেখান থেকে অলৌকিক সিঁড়ির মাধ্যমে সপ্ত আসমান পেরিয়ে আরশে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন পুনরায় বায়তুল মুক্বাদ্দাস হয়ে বোরাক্বে আরোহণ করে প্রভাতের আগেই মক্কায় নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তনের ঘটনাকে ‘মিরাজ’ বলা হয়। মিরাজ সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআন শরীফে বলেন- “পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্ত্বা তিনি, যিনি তাঁর স্বীয় বান্দাকে রাতের বেলায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করালেন, যার চতুর্দিকে আমার রহমত ঘিরে রেখেছেন-যেনো আমি কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। এই রাত্রিতে উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি ৫ ওয়াক্তের নামাজ ফরজ হয়। ফলে এটা খুবই ফজিলতের রাত্রি।

Manual1 Ad Code

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬২০ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031