শিরোনামঃ-

» ভয়াল ২৮ অক্টোবর; রক্তাক্ত কোর্টপয়েন্ট জামায়াতের বিক্ষোভ আগামীকাল

প্রকাশিত: ২৭. অক্টোবর. ২০২৬ | মঙ্গলবার

Manual1 Ad Code

সেই ‘জীবন্ত শহীদ’ বাবুল এখন সিসিকের মেয়র প্রার্থী

নিউজ ডেস্কঃ
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। সিলেটের ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশের প্রস্তুতি চলাকালে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৃশংস লগি-বৈঠার হামলার শিকার হন তৎকালীন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।
হামলায় তাঁর মাথার খুলি ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
এখনো কথা বলতে মাঝে মাঝে তাঁর কথা জড়িয়ে যায়। সেই জীবন্ত শহীদ ড. নূরুল ইসলাম বাবুল এখন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর এবং আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী।
২০ বছর আগের সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি এখনও সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত। সেদিন সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক কোর্টপয়েন্টে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কর্মসূচী ছিল।
সকাল ৯টায় সভাস্থল পরিদর্শনে যান সিলেট মহানগর জামায়াতের তৎকালীন সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুলসহ কয়েকজন নেতাকর্মী।
সেদিন সকাল ৮টায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দক্ষিণ সুরমায় জড়ো হতে থাকে। লগি-বৈঠা সহ সশস্ত্র অবস্থায় তাঁরা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারী স্থাপনায় ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
তাঁরা সশস্ত্র মহড়ায় কীনব্রিজ পার হয়ে কীনব্রিজের নিচের সৌন্দর্য্যবর্ধন স্থাপনা ও সার্কিট হাউজে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে কোর্টপয়েন্টে গিয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় সভাস্থল পরিদর্শনে আসা তৎকালিন মহানগর শিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুলসহ নিরীহ নেতাকর্মীদের উপর নৃশংস হামলা চালায়।
সেদিনের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ওই সময় লগি-বৈঠা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে এসে তাঁদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় বাবুল সহ কয়েকজন আহত হন। সভামঞ্চ ভাঙচুর করে কোর্টপয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, হামলার সময় মনজু, নাজমুল, আবিদসহ কয়েকজন নেতাকর্মী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে গুরুতর আহত বাবুলকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।
এদিকে কর্মসূচিতে যোগ দিতে পথে থাকা অন্য নেতাকর্মীদের কাছে হামলার খবর পৌঁছালে তাঁদের কোর্ট পয়েন্টে না গিয়ে চৌহাট্টা পয়েন্টে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
একটি সূত্র তখন জানায়, তখনকার সময়ের মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে বোরকা পড়ে পালিয়ে যান।
মাথার খুলি ভেঙ্গে যাওয়া বাবুল এখন সিসিক মেয়র প্রার্থী:
সেদিনের লগি-বৈঠার নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত ড. নূরুল ইসলাম বাবুলকে প্রথমে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলায় তাঁর মাথার খুলি ভেঙ্গে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয় তাঁকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলেও এখনো কথা বলতে মাঝে মাঝে জড়িয়ে যায়। বর্তমানে তিনি সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। পর্যাপ্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বত্তেও তিনি কোন চাকুরীতে যোগদান করেন নি। ব্যবসার পাশাপাশি সমাজ সেবাকে জীবনের উদ্দেশ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আর্ত মানবতার কল্যাণে তিনি নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সিলেট নগরীতে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, নিহত ১৪:
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ, প্রাণহানি এবং লাশের ওপর নৃত্যের দৃশ্য সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের ১৪ নেতাকর্মী নিহত হন।
২৮ অক্টোবরের ত্যাগের ফলাফল চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান :
২০০৬ সালে ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তান্ডবের ফলে দেশের গণতন্ত্রের সূর্য্য দেড় যুগের জন্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছিল। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছিল। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। সেদিন নূরুল ইসলাম বাবুলসহ শহীদরা যে নজরানা পেশ করা শুরু করেছিল এরপর শহীদ ও গাজীদের মিছিল দীর্ঘ থেকে আরো দীর্ঘ হতে শুরু করেছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর জাতির প্রত্যাশা ছিল বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ। বিগত অন্তর্র্বতীকালিন সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার সহ বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর জাতির প্রত্যাশা ক্রমশই ধুলিস্ম্যাৎ হতে শুরু করেছে। তারা জুলাই সনদ ও সংস্কারকে উপেক্ষা করে ফের একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দেশপ্রেমিক ছাত্রজনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সিলেটে বিক্ষোভ বুধবার:
এদিকে ২৮ অক্টোবর স্মরণে বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে সিলেট মহানগর জামায়াত। আজ  (বুধবার) ২৮ অক্টোবর বিকেল ৪টায় নগরীর বন্দরবাজারস্থ ঐতিহাসিক কোর্টপয়েন্টে ‘ঐতিহাসিক পল্টন ট্রাজেডী ও ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডব এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
যথাসময়ে উপস্থিত থেকে বিক্ষোভ সমাবেশকে সফল করার জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৮ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031