শিরোনামঃ-

» আক্ষেপ আর হতাশায় ম্যাচ জিতে নিল মাশরাফির কুমিল্লা

প্রকাশিত: ০৪. ডিসেম্বর. ২০১৬ | রবিবার

Manual3 Ad Code
স্পোর্টস সংবাদ:: গত ৩টি আসরের চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য তিনি। আর গত বছর তো অধিনায়ক হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন। সেই মাশরাফি বিন মুর্তজা এবারের বিপিএল থেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে তাঁর দল কুমিল্লা। অবশ্য দলের এই ব্যর্থতায় খুব একটা আফসোস নেই নড়াইল এক্সপ্রেসের।
আফসোস করা ছাড়া কীইবা করার আছে আর? টুর্নামেন্টের শুরু থেকে একের পর এক পরাজয়ের পর শেষ ৪ ম্যাচেই জয় তুলে নিল মাশরাফির দল।

আজ রবিবার দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে ৮ রানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে গতকালই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া কুমিল্লা। ৪ ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট নেওয়া কুমিল্লার রশিদ খান ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন।

Manual6 Ad Code

এই জয়ের ফলে মাশরাফিদের অবস্থানের কোন পরিবর্তন না হলেও বিপদে পড়ে গেল রংপুর। বিকেলে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে যদি খুলনা টাইটান্স জয় তুলে নেয় তবে রংপুরের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। খুলনা হারলেও রানরেটের গাণিতিক মারপ্যাঁচে পড়তে হবে সৌম্য-আফ্রিদিদের।
এই সমীকরণে দাঁড়িয়ে আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কুমিল্লার দেওয়া টার্গেটের জবাব ভালোই দিচ্ছিল রংপুর। ৪৮ রানে প্রথম উইকেটের পতনের পর ধস শুরু হয় রংপুরের ইনিংসে।
Manual2 Ad Code

মোহাম্মদ শাহজাদ এবং সৌম্য সরকার মিলে ভালো শুরু এনে দেন দলকে। দুজনে মিলে ৪৮ রানের জুটি গড়েন যাতে অবশ্য সৌম্যর অবদান ১২ বলে ৫ রান। নাবিল সামাদের বলে ইমরুল কায়েসের হাতে সৌম্য ধরা পড়েন। দলীয় ৫১ রানে ফিরে যান মোহাম্মদ মিথুন (২)।

Manual3 Ad Code

মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে উইকেট কিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। ৪ রানের ব্যাবধানে নাবিল সামাদের বলে শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান অধিনায়ক লিওন ডসন (৩)। এরপর সবচেয়ে বড় উইকেটটি হারায় রংপুর। ৩১ বলে ৫ বাউন্ডারি এবং ৩ ওভার বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করা মোহাম্মদ শাহজাদ মাশরাফির বলে বোল্ড হয়ে যান।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৪২ রান তোলেন শহীদ আফ্রিদি এবং নাঈম ইসলাম। রশিদ খানের বলে ব্যক্তিগত ১৪ রানে বোল্ড হয়ে যান নাঈম। এরপর রংপুরের আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে খেলতে থাকা শহীদ আফ্রিদি রশিদ খানের বলে লিটন দাসের দুর্দান্ত স্ট্যাম্পিয়ের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। আফ্রিদি ১৯ বলে ৩ চার এবং ২ ছক্কায় ৩৮ রান করেন। দলীয় ১২০ রানে রংপুরের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে। সফিউদ্দিনের বলে শান্তর হাতে ক্যাচ দেন আনোয়ার আলী (১)।

পরাজয়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ব্যাটে ঝড় তোলেন জিয়াউর রহমান। ২২ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় করেন অপরাজিত ৩৮ রান। এর মধ্যে রশিদ খানের বলে স্ট্যাম্পিয়ের শিকার হয়ে ব্যাট দিয়ে উইকেট কিপার লিটন দাসকে প্রায় মেরেই বসেছিলেন সোহাগ গাজী (৭)! হয়তো তিনি স্ট্যাম্পে আঘাত করতে চেয়েছিলেন ক্রোধে। তবে কোন লাভ হয়নি।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬২ রানেই শেষ হয় রংপুরের ইনিংস। ফলে ৮ রানের দুর্দান্ত জয় পায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।
Manual8 Ad Code

এর আগে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে বড় জুটি গড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দুই ওপেনার। দু’জনের ৮৮ রানের জুটিতে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে রংপুর রাইডার্সকে ১৭১ রানের টার্গেট দেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

শুরু থেকেই ধুমধারাক্কা ব্যাটিং শুরু করেন কুমিল্লার দুই ওপেনার। মাত্র ৩০ বলে ৭ চার এবং ২ ছক্কায় ৫০ পূরণ করেন ইমরুল। শেষ পর্যন্ত ৫২ রান করে আরাফাত সানির বলে ছক্কা মারতে গিয়ে লিওন ডসনের অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ১২.২ ওভারেই ১০০ রান আসে কুমিল্লার। দলীয় ১০৭ রানে খালিদ লতিফকে হাফ সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত করেন সেই সানি।

শহীদ আফ্রিদির কাঁপা কাঁপা হাতে ধরা ক্যাচে ৩৬ বলে ৩ চার এবং ২ ছক্কায় লতিফের ৪৩ রানের ইনিংসটির সমাপ্তি ঘটে।

এরপর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এসে ঝড় তুলতে ব্যর্থ হন। ৭ বলে ১ বাউন্ডারিতে ৭ রানের স্বভাববিরুদ্ধ ইনিংস খেলে শহীদ আফ্রিদির বলে লিওন ডসনের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তবে ব্যাট চালাতে থাকেন মারলন স্যামুয়েলস। বড় রানের আশা জাগিয়েও দুর্ভাগ্যজনক রানআউটের শিকার হন তিনি। স্যামুয়েলস ২৪ বলে ২ চার এবং ১ ছক্কায় করেছেন ৩০ রান।

শেষ ওভারে রুবেল হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে যান আসহার জাঈদী। ১১ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৭ রান করেন তিনি। শেষ বলে লিটন দাসকেও সরাসরি বোল্ড করে দেন রুবেল।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৪৯ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031