শিরোনামঃ-

» ঘাসিটুলা মসজিদের জায়গা সংক্রান্ত এলাকাবাসীর প্রতিবাদ ও প্রকৃত ঘটনা

প্রকাশিত: ৩০. সেপ্টেম্বর. ২০১৬ | শুক্রবার

Manual2 Ad Code

সিলেট বাংলা নিউজ ষ্টাফ রিপোর্টার:: সিলেট নগরীর শেখঘাটস্থ ঘাসিটুলা বড় জামে মসজিদ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাচীনতম মসজিদ। হাজার হাজার ধর্মপ্রান মুসল্লিয়ান যুগ যুগ ধরে এই মসজিদের নামাজ আদায় করে আসছেন।

Manual8 Ad Code

কিন্তু কিছুদিন ধরে বিভিন্ন অবৈধ দখলের হুকুম দাতা, আশ্রয়দাতা ও প্রশ্রয়দাতা কাউন্সিলর সালেহ আহমদ এর নের্তৃত্বে এলাকার চিহ্নিত ভূমিখেকো সন্ত্রাসীরা মসজিদের জায়গা দখলের পায়ঁতারা করে আসছে।

ভূমিখেকো সন্ত্রাসীরা মসজিদের জায়গার দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে  উক্ত জায়গায় মাটি ভরাট ও ঘর বানানোর চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে পূর্বে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিয়ান কর্তৃক মানব বন্ধন ও পুলিশ কমিশনার বরাবর ম্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

Manual8 Ad Code

এসব নিয়ে বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকাতেও মসজিদের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে  সংবাদ প্রচারিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিয়ানদের মসজিদের জায়গা রক্ষার্থে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত প্রতিবাদ সমূহকে ভূলভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে সালেহ আহমেদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে যাচ্ছেন।

তারই প্রতিবাদ স্বরুপ আজ ৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাদ জুম্মা ঘাসিটুলা বড় জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির মুতাওয়াল্লী হাজী সামসুজ্জামান ছুনু মিয়ার সভাপতিত্বে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী মো. জিলাল উদ্দিনের পরিচালনায় মসজিদ প্রাঙ্গনে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, মসজিদের ৫৯ বছরের দখলীয় ও দালিলিক জায়গা কাউন্সিলর সালেহ আহমেদ গং কর্তৃক দখল কোন ধর্মপ্রান মসুলমানদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতেও  মসজিদের ১ ইঞ্জি পবিত্র জায়গা দখল করতে দেওয়া হবে না।

এটা স্পষ্ট যে, কাউন্সিলর সালেহ আহমদ রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ন হয়েছেন। সালিশের নামে দীর্ঘদিন ধরে সময় ক্ষেপণ করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিয়ানদের ধোঁকা দিয়ে নিকটাত্মীয় সন্ত্রাসীদের সহায়তায় মসজিদের জমি নিজেই দখল করে নিয়েছেন যা এলাকার ছোট বড় সকলেরই এখন আর  বুঝতে বাকি নেই।

তার নিকট আত্মীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রথম নয়। পূর্ববতীতেও কাউন্সিলর সালেহ আহমেদ এর আপন মামা “সুজা মিয়া” নগরীর হিলটাউন হোটেলে ইয়াবা ও পতিতা সহ র‌্যারের হাতে গ্রেফতার হন যা তৎকালীন সময়ে  বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

উক্ত ঘটনা মাননীয় আদালতে বিচারাধীন। ঐ কুখ্যাত মালেক আহমেদ সুজা মিয়ার শ্যালক সন্ত্রাসী জয়নুল হক (ওরফে পকেট মার জয়নুল), স্বপন (হাফপেন্ট স্বপন) ময়নুল হক (ওরফে বিলাই ময়নুল), জাকির (ফেটলা জাকির) ও চিহ্নিত ভুমিখেকো জাকারিয়া (জাকু), জানে আলম, টিটু (মুরগী টিটু), মকবুল, দিলু, কামাল গং এর প্রত্যাক্ষ সহযোগীতা নিয়ে কাউন্সিলর সালেহ আহমেদ মসজিদের জায়গা দখল করে নেন।

Manual6 Ad Code

বক্তারা আরও বলেন মসজিদ পরিচালনা কমিটির সম্মানিত মুসাল্লিয়ান ও এলাকাবাসীর কর্তৃক ভূমিখেকোদের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানব বন্ধনকে সালেহ আহমেদ ভাড়াটিয়া লোক কর্তৃক মানব বব্ধন হিসাবে দেখানোর অপচেষ্টা করে সংবাদ মাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন যাহা শাক দিয়ে মাছ ডাকার নামান্তর।

বক্তরা বলেন আমাদের জন্ম এখানে, বাবার জন্ম, দাদার জন্মও এখানে, বংশানুক্রমে আমরা এই এলাকার বাসিন্দা।

কিন্তু আমাদের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আজ আমাদের ভাড়াটিয়া বলে উল্লেখ করেন এর চেয়ে দু:খের ও বেদনার আর কি হতে পারে।

তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্বেও মূলতঃ মসজিদের জায়গা চিরতরে নিজের করায়ত্ব করার জন্যই মিথ্যা ও প্রতারনার আশ্রয় নিচ্ছেন বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।

মসজিদের জায়গা দখল নিয়ে তিনি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান হয়ে গিয়েছে মর্মে আত্মপক্ষ সর্মথন করে সংবাদ মাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং পক্ষপাতদুষ্ট।

তাকে সংবাদ মাধ্যমে এরকম মিথ্যা আপত্তিকর তথ্য প্রচার করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিয়ানসহ সর্বস্তরের জনগন এবং প্রশাসনকে  বিভ্রান্ত না করার জন্য প্রতিবাদ সভা থেকে হুশিয়ারি প্রদান করা হয়।

বক্তারা কাউন্সিলর সালেহ আহমেদকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম আর মসজিদ মুসলমানদের প্রার্থনার জায়গা। আপনিও একজন মুসলমান।

তাই শান্তি রক্ষার্থে এখনো  সময় আছে মসজিদের জায়গা মসজিদকে পিরিয়ে দিন। আপনার কাছে অনুরোধ মসজিদের পবিত্র জায়গা নিয়ে রাজনীতি করে, কোন ধরনের অশান্তি সৃষ্টি করবেন না।

অন্যথায় সিলেটের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিয়ান ও সর্বস্তরের জনসাধারণকে  নিয়ে আপনার এবং আপনার পালিত ভূমি খেকো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে  দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শফিকুল ইসলাম (সংবাদিক), আব্দুল হামিদ,  জিলাল উদ্দিন, আব্দুল মতিন, ইরান, শাহজাহান বিল্লু, হাবিব মিয়া, আব্দুল সাথিঁর।

SONY DSCকাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সে: জরিপী ২৩৪০ এবং ২৩৪৪ দাগের ভূমিসহ সে: জরিপী ২৩৪১, ২৩৪২, ২৩৪৩, ২৩৪৫, ২৩৪৬, ২৩৪৭, ২৩৫৩, ২৩৫৮ দাগ  সমূহের ৩.২২ একর ভূমির মূল মালিক ছিলেন ঘাসিটুলা নিবাসী রহিম বক্স, বর্নিত রহিম বক্স তার ৪ পুত্র যথাক্রমে আব্দুল গণি, আব্দুল মনাফ, আব্দুল হেকিম, আব্দুল মন্নান একমাত্র কন্যা নূরুন্নেছা বানু বরাবরে বিগত ২০/০২/১৯১৫ইং তারিখে সম্পাদিত ও ২২/০২/১৯১৫ইং রেজিষ্টারীকৃত ৫৫৩ নং দানপত্র দলিল মূলে ১০ কেদার ভূমি এস,এ রেকর্ড হতে ৩.২২ একর দান করত: স্বত্ব দখল ত্যাগী হন।

ভুমি  মালিক রহিম বক্সের উত্তরাধিকারী ৪ পুত্রের ১ পুত্র ধর্মনূরাগী মরহুম আব্দুল গনি তপশীল বর্নিত জায়গা বিগত ১০/১০/১৯৫৭ইং তারিখে রেজিষ্টিকৃত ১১৫৭৬/৫৭ এবং ১১৫৭৭/৫৭ নং দলিল মূলে ১৪.৫২ (প্রায়-১৫) একর জায়গা  ঘাসিটুলা বড় জামে মসজিদ বরাবর ওয়াকফ করিয়া যান।

সেই হইতে ঘাসিটুলা বড় জামে মসজিদ কর্তৃকপক্ষ তপশীল বর্ণিত ভূমি সেই ১৯৫৭ সাল হইতে ভোগ দখল করিয়া আসিতেছেন।

১৯৯০ ইং সনের শেষের দিকে তপশীল বর্ণিত ভূমির পূর্ব পশ্চিম এবং উত্তর দিকে বাইন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ করিয়া সর্বজন জ্ঞাতসারে ঘাসিটুলা বড় জামে মসজিদ কমিটি তপশীল বর্ণিত ভূমির উন্নয়ন সাধন করেন। নিম্নে বর্ণিত তফসিলঃ-

তপশীল
জেলা – সিলেট থানা কতোয়ালী, মৌজা-বাগবাড়ী, জে,এল নংঃ- ৯০, বর্তমান জে, এল নং-৭৫। এস.এ খতিয়ান নংঃ- ২৩৪, বর্তমান খতিয়ান নং:- ১৪৫৫৪। এস.এ দাগ নং:-২৩৪০, হাল দাগ নং:= ১৪৫৬২, পরিমান ১৪.৫২ (প্রায়-১৫) শতক যাহার তিন দিকে মসজিদ কর্তৃক বাউন্ডারী দেওয়াল ঘেরা।

Manual3 Ad Code

এদিকে সিলেট বাংলা নিউজ এর প্রতিনিধি কাউন্সিলর সালেহ আহমদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এর সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আল্লাহর ঘর মসজিদ হল সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানের। এটাকে নিয়ে আমার উপর মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা সত্যিই লজ্জাজনক।

বরং তিনি মসজিদের জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানকল্পে উভয়পক্ষকে নিয়ে দিন-রাত বার বার বৈঠক করেছেন। এডভোকেট আব্দুস সবুর ও এডভোকেট রফিকের মতামত নিয়েছেন। কিন্তু মসজিদ কমিটির ২/৩ জনের চরম অসহযোগীতার কারণে সেই জটিলতা আর নিরসন হয় নাই।

পরিশেষে কোতয়ালী মডেল থানার ওসির সাথে এ ব্যাপারে আলাপ করে তাঁর নিকট সকল ফাইল হস্তান্তর করেন।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। প্রতিহিংসার জের হিসেবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, বিগত সময়ে স্থানীয় এলাকায় অনুষ্ঠিত মেলার বিরোধীতা করায় তাঁর উপর এমন আক্রোশ থেকেই এসব কর্মকান্ড করা হচ্ছে বলে তাঁর ধারণা।

তিনি বলেন, ওই মেলায় জুয়া, মদ, অবৈধ নৃত্য পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্ত আমি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হয়ে এর জোড়েশোড়ে প্রতিবাদ করেছিলাম। পরবর্তীতে তৎকালীন ডিসি এজাজ আহমদ ও ওসি আতাউর রহমানের সহযোগীতায় ওই মেলা ভন্ডুল হয়েছিল। এজন্যই তাঁরা আমার পেছনে লেগেছে। কিন্তু আসলে আমি এসব দুস্কর্মের সাথে জড়িত নই।

তিনি আরোও অভিযোগ করেন, মসজিদের দায়িত্বশীল সেক্রেটারীর নিকট মসজিদের বিদ্যুৎ বিল, মসজিদের ভাড়া কয়েক লক্ষ টাকা পাওনা রয়েছে।

তাঁকে নিয়ে যে একটা পক্ষ মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে চলেছে, তাঁকে ভূমিখেকো হিসেবে আখ্যায়িত করছে, তিনি তার তীব্র নিন্দা জানান। এতে তাঁর মানহানি ঘটছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অপরদিকে সিলেট বাংলা নিউজ প্রতিনিধি ঘাসিটুলা মসজিদের সেক্রেটারী জিলাল উদ্দিনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আসল ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্যই তিনি এসব কথা বলছেন এবং তাঁর উপর করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল হলে কিছু লেনদেন বা দেনা পাওনা থাকতেই পারে। এটা দোষের কিছু নয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৮৩ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031