শিরোনামঃ-

» জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকার সম্পাদক

প্রকাশিত: ০৪. নভেম্বর. ২০২৬ | বুধবার

Manual3 Ad Code

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেণানী ডা. এম এ করিমের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেটে আলোচনাসভা

নিউজ ডেস্কঃ

Manual4 Ad Code

সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ আমলা দালালপুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী লড়াই-সংগ্রামের অগ্রণী সৈনিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকার সম্পাদক ডা. এম এ করিমের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত।

৫ নভেম্বর’২৬ সন্ধ্যা ৬টায় এনডিএফ সিলেট জেলা কার্যালয়ে জেলা সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায় এর সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলার সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবুল ফজল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ন সম্পাদক রমজান আলী পটু, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা আহবায়ক শুভ আজাদ (শান্ত), সাবেক ছাত্রনেতা রমাপদ দাস, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী, বন্দরবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, আম্বরখানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমদ।

বক্তারা বলেন, এদেশের মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও মুৎসুদ্দি পুঁজির শৃঙ্খল থেকে মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করা।

ডা. এম এ করিম আজীবন এই সংগ্রামের পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি প্রত্যক্ষ করলেন রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার উলঙ্গ বীভৎস রূপ।

Manual7 Ad Code

একদিকে কৃষক, শ্রমিক, গরীব দিনমজুর সহ নিম্নবিত্তদের খাদ্য জুটছে না। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ খাদ্যের অভাবে নয়তো কুখাদ্য খেয়ে মারা যাচ্ছে।

রোগবালাইয়ে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে তাঁরা রাস্তাঘাটে নানা স্থানে পড়ে পড়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ধুঁকছে অথচ বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী সরকার ও তাদের সহচর স্বার্থান্বেষী বা কোন ভ্রুক্ষেপ করছে না।

উপরন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উন্মাদনায় ফাটকা বাজিতে লিপ্ত হয়ে এই মানবিক বিপর্যয়কে চরম মাত্রায় নিয়ে যায়। এই দুর্ভিক্ষে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ লোক মারা যায়।

এভাবেই প্রত্যক্ষ করলেন ডা. করিম সাম্রাজ্যবাদের হিংস্র রূপটি।

Manual4 Ad Code

একেই বলা হয় পঞ্চাশের মন্বান্তর। এই মন্বান্তর সাম্রাজ্যবাদের প্রতি তীব্র ঘৃণার সৃষ্টি করে।

Manual7 Ad Code

শৈশবে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন সামন্ত-জোতদার মহাজন শ্রেণির শোষণ-লুণ্ঠনের নির্মমতা।

বাংলাদেশ একটি নয়াঔপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র, যেখানে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির স্বার্থে বাজার, প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি ও সস্তা শ্রমশক্তিকে শোষণ ও লুণ্ঠনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বিদ্যমান।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এদেশে তাদের বিশ্বস্থ দালাল তৈরি করে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়ন করে চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব পরিস্থিতিকে ক্রমেই সংঘাতমুখর করে তুলছে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশও বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

সভা থেকে মানবিক করিডোরের প্রস্তাব, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ইজারা প্রদান, এনডিএ সহ বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিষয়গুলো জাতীয় স্বার্থ বিরোধী বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়।

গার্মেন্টন্স শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য যে বেতন প্রয়োজন শ্রমিকদের তা প্রদান করা হয়না।

শ্রমিকরা যখন তাঁদের ন্যায়সংগত দাবি ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে রাজপথে সোচ্ছার হয় তখন রাষ্ট্রের পেটুয়া বাহিনী স্বৈরাচারী পন্থায় শ্রমিক নির্যাতন করে হত্যা করে এমনকি বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে শ্রমিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে।

এসকল ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে গার্মেন্টন্স শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানান।

আন্দোলনে প্রতি সংহতি প্রকাশের কারণে প্রশাসন স্বৈরাচারী পন্থায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার চালাচ্ছে।

যা শেখ হাসিনা সরকারের দমন নিপীড়নের ব্যাপ্ত ঘটছে। অবিলম্বে আটককৃত শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য যে, ১৯২৩ সালের ১৫ জুলাই মাতুলালয়ে ডা. এম এ করিমের জন্ম। হাজিগঞ্জ, চাঁদপুর সাদরা গ্রামের শিক্ষক হাকিম উদ্দিন ছিলেন তাঁর পিতা। মাতা মেহের নিগার ছিলেন একজন গৃহিনী।

পিতা-মাতার সাথে সাথে তাঁর নিঃসন্তান জ্যেঠা-জ্যেঠির আপত্য স্নেহে বড় হয়েছেন তিনি। তাঁর পিতা চেয়েছিলেন তার সন্তানকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে।

ডা. করিম তাঁর পিতার আকাঙ্খাকে আত্মস্থ করে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে একজন শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।

আজকের বাস্তবতায় প্রয়োজন ডা. এম এ করিমের দেখানো পথ জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তাঁর অসমাপ্ত কাজ জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১১৪ বার

Share Button

Callender

November 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30