শিরোনামঃ-

» ১ দিনে ঘুরে আসার মতো বাংলাদেশের মনোরম ৫টি জায়গা

প্রকাশিত: ২৯. এপ্রিল. ২০১৬ | শুক্রবার


Manual8 Ad Code

সিলেট বাংলা নিউজ ডেস্কঃ জীবনযাত্রা প্রকৃতির ছোঁয়া পাওয়া যায় না বললেই চলে।

আর যারা ঢাকা শহরে থাকেন তাদের প্রকৃতির দেখা পেতে পারি দিতে হয় ঢাকার বাইরে।

আবার ঢাকার বাইরে যেকোনো জায়গায় যাওয়াটা এবং যাতায়াত, থাকা, ঘুরা অনেক সময়ের ব্যাপার। আর খরচও লাগে অনেক।

তবে কম সময়ে ঢাকার আশেপাশেই ঘুরার অনেক সুন্দর জায়গায় আছে। যেখানে আপনি ১ দিনে ঘুরে আসতে পারবেন।

আপনার অবশ্যই এসব জায়গায় ঘুরে ভালো লাগবে এবং কিছু দিনের জন্য হলেও আপনার মধ্যে একটি ঝরঝরে ভাব এনে দিবে।

চলুন জেনে নেই ঢাকার আশেপাশের এমন কয়েকটি জায়গা-

১। গোলাপ গ্রাম
নদী পথ পার হয়ে ছোট্ট একটি গ্রাম। তবে গ্রাম হলেও পুরোটাই গোলাপের বাগান দিয়ে পরিপূর্ণ। এখানে গেলে আপনার মনে হবে যেন বিশাল একটি গোলাপের বাগানে ভেতর আপনি ঘুরছেন।

সরু পথ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখবেন রাস্তার দু’পাশ গোলাপের বাগান দিয়ে ঘেরা।

যেভাবে যাবেন
মিরপুর দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট থেকে সাহদুল্লাহপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে ৩০ মিনিট পরপর ইঞ্জিনচালিত বোট ছাড়ে। সাহদুল্লাহপুর যেতে যেতে ৪৫ মিনিট- ১ ঘণ্টা লাগবে।সেখানে একেক জনের জন্য ২০-৩০ টাকা করে নিবে। অথবা নিজেরা হাতে চালানো বোট নিতে পারেন, যেতে দেড় ঘন্টার মতো লাগবে।

Manual8 Ad Code

২। পানাম ও মেঘনার পার
পানাম সিটি ঢাকা শহর থেকে একদমই আলাদা এবং অন্য রকম। পুরনো বাড়িগুলো দেখে দেখেই দিন পার হয়ে যাবে। পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংস প্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি পানামনগর।

World Monument Fund ২০০৬ সালে পানামনগরকে বিশ্বের ধ্বংস প্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় প্রকাশ করে। ঈসাখাঁ-র আমলের বাংলার রাজধানী পানামনগর। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত।

ওখান থেকে কাছেই মেঘনা নদী। নদীর ওপারে গেলেই দেখবেন কাশফুলে ঘেরা বিস্তৃত মাঠ। চাইলে পানাম ঘুরা শেষে সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার অদূরে ২৭কি.মি দক্ষিণ-পূর্বে নারায়নগঞ্জের খুব কাছে সোনারগাঁতে অবস্থিত এই নগর। ঢাকা থেকে যাতায়াত ব্যবস্থাও সহজ।

গুলিস্থান থেকে ‘মোগরাপারা’ এর যেকোনো বাসে (সোনারগাঁপরিবহন) করে যাবেন ‘মোগরাপারা’, সেখান থেকে অটোরিকশাযোগে ১০-১৫ মিনিটে চলে যাবেন পানামনগরীতে।

Manual6 Ad Code

৩। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জমিদারবাড়িগুলোর একটি। ঢাকা জেলা সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে অবস্থিত।

মোট ৭টি স্থাপনা নিয়ে এই জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। জমিদার বাড়ির পুরটাই মনোরম পরিবেশে ঘেরা!

যেভাবে যাবেন
ঢাকার গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ বা সরাসরি সাটুরিয়া যাওয়ার বাস পাওয়া যাবে। জন প্রতি ভাড়া পড়বে ৬০-৭০ টাকা। সাটুরিয়া পৌঁছে সেখান থেকে রিকশা বা লোকাল সিএনজিতে করে জমিদার বাড়ি যাওয়া যাবে।

জন প্রতি ভাড়া ১০ টাকা। বালিয়াটি জমিদার বাড়ি রোববার পূর্ণদিবস আর সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে। অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও বন্ধ থাকে। জমিদার বাড়িতে প্রবেশের জন্য টিকেটের মূল্য জন প্রতি ১০টাকা।

৪। মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলে ঘুরার মত অনেক জায়গা আছে যা আপনি এক দিনে ঘুরে শেষ করতে পারবেন না। তবে তার মধ্যে মহেরা জমিদার বাড়ি সবচেয়ে সুন্দর। এটি ৩টি স্থাপনা নিয়ে তৈরি।

বাড়ির ভেতরের দিকে বিশাল খাঁচায় বিভিন্ন রকম পাখি পালা হয়। ৩টি স্থাপনার প্রতিটাতে অসাধারণ কারুকার্য করা। এসব কারুকার্য দেখলেই মন ভরে যাবে।

যেভাবে যাবেন
টাঙ্গাইলের জমিদার বাড়ি দেখতে হলে খুব সকালে বাসা থেকে বের হতে হবে। কারণ যেতে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা লাগবে। মহাখালি থেকে “ঝটিকা সার্ভিস” নামে বাসে যেতে পারবেন।

এছাড়া টাঙ্গাইল যাওয়ার আরো বেশ কিছু ভাল বাস আছে। মহেরা জমিদার বাড়ির বর্তমান নাম মহেরা পুলিশ ট্রেইনিং সেন্টার। ওখানে যেতে হলে নামতে হবে ‘নাটিয়া পাড়া’ বাস স্ট্যান্ডে।

সময় লাগবে ২-২.৩০ ঘন্টার মত। নেমে একটা অটো রিকশা নিয়ে যেতে হবে। রিক্সায় করে সরাসরি মহেরা জমিদার বাড়িতে যাওয়া যাবে। ভাড়া ২০-৩০ টাকা। জমিদার বাড়ি ঢুকতে টিকেট কিনতে হবে, জন প্রতি ২০ টাকা।

৫। পদ্মারিসোর্ট
ঢাকা থেকে ৪০ কি.মি. দূরে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং নামক স্থানে পদ্মা নদীতে চড়ের উপর এই রিসোর্টটি অবস্থিত। পদ্মা নদীর পারে অবস্থিত বলেও জায়গাটি অতি মনোরম আর সুন্দর। বর্ষা ঋতুর সময় গেলে আপনার বেশি ভালো লাগবে।

Manual4 Ad Code

যেভাবে যাবেন
ঢাকার গুলিস্তান, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে এই রুটে বিভিন্ন পরিবহনের অসংখ্য বাস প্রতি ১০/১৫ মিনিট পর পর চলাচল করে।

গুলিস্তান সুন্দরবন স্কোয়ার মার্কেটের পূর্ব পাশ এবং যাত্রাবাড়ী গোলচত্ত্বরের পূর্ব-দক্ষিণ দিক থেকে ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-লোহজং এর বাস ছেড়ে যায়।

ঢাকা থেকে সড়কপথে এই জেলার ভাড়া ৬০ টাকা। মাওয়া ফেরিঘাট থেকে রিসোর্টে যাওয়ার জন্য রিসোর্টের নিজস্ব স্পীডবোট রয়েছে।

পদ্মা নদীর টাটকা ইলিশের তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে চাইলে যেতে পারেন পদ্মা রিসোর্টে। এছাড়া আরও রয়েছে টাটকা শাকসবজি, গরু, মুরগি ও হাসের মাংস।

এছাড়া মৌসুমি ফলমূল তো রয়েছেই। সকালের নাস্তার জন্য জনপ্রতি খরচ পড়ে ১০০ টাকা এবং দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য জনপ্রতি খরচ পড়ে ৩০০ টাকার মতো।

Manual8 Ad Code

পর্যটকগণ ইচ্ছা করলে অর্ধেক বেলা অথবা পুরো ২৪ ঘন্টার জন্য কটেজ ভাড়া নিতে পারেন।

সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভাড়া ২,০০০ টাকা। সকাল ১০টা থেকে পরের দিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ভাড়া ৩,০০০ টাকা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৪৯ বার

Share Button

Callender

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031