শিরোনামঃ-

» নারী আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী, ভাষা সৈনিক অধ্যাপিকা হামিদা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেটে আলোচনা সভা

প্রকাশিত: ১৫. আগস্ট. ২০২৬ | শনিবার


Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির আহ্বায়ক, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপিকা হামিদা রহমানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টায়  গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলা কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের জেলা আহবায়ক মিনারা বেগমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ন-আহবায়ক তানিয়া আজাদ’র পরিচালনায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ন সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার, যুগ্ন সম্পাদক রমজান আলী পটু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ন আহবায়ক পারভীনা আক্তার, ফারহানা আক্তার জুমু, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের অন্যতম নেতা মো. কালাম।
নেতৃবৃন্দ বলেন, নারী সমাজের অবস্থা ও দাবি দাওয়া তুলে ধরার জন্য নারী সংগঠনের গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করেছিলেন।
তিনি বলতেন সংগঠনের মাধ্যমে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট নারীরা এগিয়ে যাবে সর্বাগ্রে নির্যাতিত নারীদের পাশে পাশাপাশি পুরুষেরও উচিত পুরুষের প্রয়োজনে নারীদের আন্দোলন সংগ্রামে শরীক হওয়া।
এদেশের নারী সমাজের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে হামিদা রহমান প্রায়শঃই তাঁর বক্তব্যে খুবই স্পষ্টভাবে বলতেন, ‘আমাদের সমাজের সবচেয়ে অবেহেলিত অংশ হল নারী সমাজ।
এরা সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, দালাল পুঁজির দ্বারা নিপীড়িত, আর বিভিন্ন রকম সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কারে শৃঙ্খলিত।
এদেশের নারী সমাজের উপরে চেপে বসে আছে শোষণের চার পাহাড়। (১) সাম্রাজ্যবাদী শোষণ (২) সামন্তবাদী শোষণ (৩) লুটেরা ধনীক শ্রেণীর শোষণ (৪) পুরুষতান্ত্রিক সমাজের শোষণ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজে অবক্ষয় আজ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য অবক্ষয় হচ্ছে একচেটিয়া পুঁজিবাদের হাতিয়ার। আধুনিক ও উচ্চ প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অবক্ষয়ের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
অবক্ষয় আজ বৈশ্বিকভাবে এতটাই হীন জঘন্য যে এপস্টিন যৌন কেলেঙ্কারীর মধ্য দিয়ে শীর্ষ ধনী সহ শাসক-শোষকগোষ্ঠী ও ধনীদের স্বরূপ উলঙ্গভাবে উন্মোচিত করেছে।
এদেশের নারীদেরকে প্রবাসে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার, বিক্রি, অসামাজিক কার্যক্রমে বাধ্য করা ইত্যাদি, এমনকি প্রবাসে কর্মরত নারীদের প্রতিশ্রুত মজুরি না দিয়ে নিপীড়ন-নির্যাতন করাসহ হত্যার ঘটনাও ঘটছে।
আইন করেও নারী নির্যাতন, নারী ও শিশু ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচার বন্ধ করা যায়নি বরং তা নিয়ন্ত্রণেরও বাহিরে।
এজন্য রামিসা, আয়েশা, দিয়ামনিসহ শিশু ও নারীদের ওপর এখনও দলবদ্ধ নির্মম পাশবিক ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে।
দেশে নারীর সমঅধিকার সমমর্যাদা পদদলিত। কর্মক্ষেত্রে, মজুরি ও বেতনে, এমনকি পরিবারেও নারীরা বিভিন্ন ধরণের বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার।
অধ্যাপিকা হামিদা রহমান যে আদর্শ ধারণ করতেন, যে স্বপ্ন দেখতেন তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি, অস্পূর্ণ রয়ে গিয়েছে।
অধ্যাপিকা হামিদা রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার হলো তাঁর এই অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার অঙ্গীকার করতে হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪ বার

Share Button

Callender

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31