শিরোনামঃ-

» নারী নির্যাতন, নিপীড়ন এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলুন। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করুন : বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র 

প্রকাশিত: ০৯. ডিসেম্বর. ২০২৩ | শনিবার

Manual1 Ad Code
ডেস্ক নিউজঃ
নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার  ১৪৩তম জন্ম ও ৯১তম মৃত্যু বার্ষিকী  উপলক্ষ্যে আজ শনিবার (৯ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টায়  বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র  সিলেট জেলার উদ্যোগে জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভার পূর্বে বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র সিলেট  জেলার আহবায়ক তামান্না আহমেদ এর সঞ্চালনায়  আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়, নারীমুক্তি কেন্দ্র সিলেট জেলা শাখার সদস্য ডাঃ ফাতেমা ইয়াছমিন, নমিতা রায়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বুশরা সোহাইল প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন,সমাজে নারীকে মানুষের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য রোকেয়া নিরলস কাজ করে গেছেন। তিনি বুঝেছিলেন শিক্ষার মাধ্যমেই কেবল নারীজীবনের  অন্ধকার কাটানো সম্ভব। তাই শিক্ষাকে হাতিয়ার করে তিনি নারীদের জাগাতে চেয়েছেন।
পাশাপাশি নারী সম্পর্কে পুরুষদের পিছিয়ে পড়া দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে নানাভাবে যুক্তি উপস্থাপন করে গল্প, উপন্যাস,প্রবন্ধ লিখেছেন।
নারীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেছেন,”বহুকাল হইতে নারীহৃদয়ের উচ্চবৃত্তিগুলি অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়ায় নারীর অন্তর, বাহির  মস্তিষ্ক, হৃদয় সবই “দাসী “হইয়া পড়িয়াছে। এখন আর আমাদের হৃদয়ে স্বাধীনতা, ওজস্বিতা বলিয়া কোন বস্তু নাই এবং তাহা লাভ করিবার প্রবৃত্তি পর্যন্ত লক্ষিত হয় না!..  প্রথমে জাগিয়া উঠা সহজ নহে, জানি;সমাজ মহা গোলযোগ বাধাইবে জানি।… কিন্তু সমাজের কল্যাণের নিমিত্তে জাগিতে হইবেই।বলিয়াছি ত কোন ভালো কাজ অনায়াসে করা যায় না।কারামুক্ত হইয়াও গ্যালিলিও বলিয়াছিলেন, কিন্তু যাহা হউক পৃথিবী ঘুরিতেছে। আমাদিগকেও বিবিধ নির্যাতন সহ্য করে জাগিতে হইবে।”
বক্তারা আরো বলেন, “রোকেয়ার জীবন সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক।আজ নারী একদিকে পুঁজিবাদী শ্রম শোষণের শিকার, অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজকাঠামোয় অবরূদ্ধ।পুঁজিবাদ মুনাফার প্রয়োজনে নারীকে বাজারের পণ্যে পরিণত করেছে।
নারীধর্ষণ-নারী নির্যাতন-সহিংসতা-নারীপাচার ক্রমাগত বাড়ছে। এর থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
সমাজতান্ত্রিক রাশিয়া বিপ্লবের পরপরই নারীর সমকাজে সমান মজুরি, সমমর্যাদা, মাতৃত্বকারীন ছুটি সহ সমঅধিকার আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করেছিলো।
মানবসভ্যতার কলন্ক পতিতাবৃত্তি দূর করে সামাজিকভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছিলো।সন্তান লালন-পালন, রান্নাঘর ও গৃহকর্মেই নারীজীবনের বড় অংশ ব্যয় হয়।
রাশিয়ায় এ চাপ থেকে নারীকে মুক্ত করতে রাষ্ট্রীয় খরচে চাইল্ড কেয়ার সেন্টার, যৌথ রান্নাঘর, যৌথ ধোলাইখানা ইত্যাদি নানা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক  আয়োজন গড়ে তোলা হয়েছিলো।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, এমনি অবস্থায় নারী সমাজের প্রতি আমাদের আহ্বান- আসুন আমরা সবাই রোকেয়ার জীবন সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়ে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই বেগবান করি।
পুঁজিবাদী শোষণ ও পুরুষতান্ত্রিক নিপীড়ন সহ সকল প্রকার দমন- নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি।”

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৯২ বার

Share Button

Callender

April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930