শিরোনামঃ-

» নির্ধারিত কর্ম ঘণ্টার পর, ফি’র বিনিয়ময়ে রোগী দেখবেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা

প্রকাশিত: ২৭. মার্চ. ২০২৩ | সোমবার


Manual7 Ad Code

সরকারি হাসপতালে বিকেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকেন না। ঢাকার বাইরে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্রাকটিসের জন্য সপ্তাহের অনেকটা সময় রাজধানীতে থাকেন। ফলে ব্যহত হয় চিকিৎসা সেবা। এই সুযোগে রমরমা ব্যবসা প্রাইভেট ক্লিনিকের।

Manual8 Ad Code

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে এই অভিযোগ বহুদিনের। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে এবার অফিস সময়ের পর সরকারি হাসপাতালেই নির্ধারিত ফির বদলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের রোগী দেখার সুযোগ দিচ্ছে সরকার। ক্লিনিকের চেয়ে কিছুটা সাশ্রয়ী ফির বিনিময়ে বিকাল তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত কর্মস্থলেই রোগী দেখবেন সরকারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

Manual6 Ad Code

এই কার্যক্রমের পাইলটিং শুরু হচ্ছে ৩০ মার্চ থেকে। প্রথম ধাপে ১০ জেলা এবং ২০ উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি দাবি করেন, এতে করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নামমাত্র অর্থে রোগীরা সরকারি হাসপাতালে যে সেবা পান তাতে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে না। চিকিৎসা সেবা থেকে দরিদ্র জনগোষ্ঠি বঞ্চিত হবে না।

এ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এমন কিছু হবে বলে মনে হয় না। বিকেলে সেবার কারণে সকালের সেবায় কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং সরকারি হাসপাতালে চেম্বার প্র্যাকটিস শুরু হলে মানুষ ভালো সেবা পাবে। যে সেবাটা তারা দিনের বেলায় পেতেন, সেটি তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত পাবেন।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকারি চিকিৎসকদের বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সভা শেষে জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, কর্মস্থলে বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত প্র্যাকটিস করতে পারবেন চিকিৎসকরা। এতে নার্স ও টেকনিশিয়ানরাও সপ্তাহে দুদিন করে কাজ করবেন। তারা যে সেবা দেবেন, তার বিনিময়ে তাদের সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। তার একটি অংশ পাবেন চিকিৎসকরা, বাকিটা অন্যরা। সরকারও একটি অংশ পাবে।

Manual2 Ad Code

সম্মানি নির্ধারণ বিষয়ে তিনি বলেন, চেম্বার ডিউটিতে প্রাথমিকভাবে একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের (অধ্যাপক) ফি ৫০০ টাকা, তবে তিনি পাবেন ৪০০ টাকা। সিনিয়র কনসালটেন্টের ফি ৪০০ টাকা, তিনি পাবেন ৩০০ টাকা। সহকারী অধ্যাপকের ফি ৩০০ টাকা, তিনি পাবেন ২০০ টাকা। এমবিবিএস চিকিৎসকের ফি ২০০ টাকা, তিনি পাবেন ১৫০ টাকা। আর এসব চিকিৎসকদের যারা সহযোগিতা করবেন, তারা পাবেন ৫০ টাকা করে, শুধুমাত্র এমবিবিএস চিকিৎসকের সহকারিরা পাবেন ২৫ টাকা করে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা দুতিন মাস ধরে ইনস্টিটিউশন প্র্যাকটিস নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিলো, এই মেয়াদের শুরুতেই কর্মস্থলে প্র্যাকটিস শুরু হোক। কিন্তু ডেঙ্গু এবং করোনার কারণে আমরা শুরু করতে পারিনি। কিন্তু এখন আস্তে আস্তে সব জেলা ও উপজেলায় শুরু করব।

Manual3 Ad Code

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কিংবা কনসালটেশনে যে টাকা নেন, সরকারি হাসপাতালের বৈকালিক সেবার চেম্বার প্র্যাকটিসে তার চেয়ে অনেক কম টাকা নেবেন। অনেক দেশেই সরকারি চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন না। আমরা সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমোদন দিয়েছি। এখন তারা যাতে সেই প্র্যাকটিস সরকারি প্রতিষ্ঠানে করেন কমমূল্যে, সে চেষ্টা করছি।

জাহিদ মালেক বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে চেষ্টা করছি। আশা করছি, সাধারণ মানুষ এখন থেকে সরকারি হাসপাতালেই বৈকালিক চিকিৎসা সেবা পাবে। তবে, এক্ষেত্রে রোগীদের খরচ অনেক কম হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৫৩ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031