শিরোনামঃ-

» সিলেটে লকডাউনে স্টুডেন্ট ইউনিটির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রকাশিত: ০৪. জুলাই. ২০২১ | রবিবার

Manual1 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ঘড়ির কাটায় তখন সকাল সাড়ে ৮টা। নগরবাসী যখন গভীর ঘুমে ঠিক এই সময়ে আরামের ঘুম ছেড়ে ঝাঁড়ু, ঝুড়ি, জীবাণুনাশক স্প্রে ও মাস্ক নিয়ে রাস্তায় একদল যুবক। মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লাভস পরে মিরাবাজার থেকে পায়ে হেঁটে সারিবদ্ধ ভাবে জিন্দাবাজার পয়েন্টে এসে দাঁড়ালো। সবাই সবার নিজ নিজ কাজ বুঝে নিয়ে রাস্তার দুই পাশে পরিষ্কার করতে নেমে পড়েন। তারা হলো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ইউনিটি (ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট)।’

Manual5 Ad Code

রবিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টায় জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে শুরু করে চৌহাট্টা পয়েন্ট হয়ে দরগাহ গেইট পর্যন্ত সড়ক, ফুটপাত পরিস্কার করে জীবানুমুক্ত করেন স্টুডেন্ট ইউনিটির সদস্যরা।

জানা যায়, লকডাউনে যখন মানুষ গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছে ঠিক সেই সময়ে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিলে গঠন করেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্টুডেন্ট ইউনিটি (ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট)’। তাদের লক্ষ্য একটাই সবাই মিলে একটা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা। আর তাই করোনায় চারদিক স্তব্ধ। তখন তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম জীবানুনাশক ওষুধ কিনে স্প্রে করতে নিজেদের অর্থ ব্যয় করছেন তারা।

Manual5 Ad Code

স্টুডেন্ট ইউনিটি মিডিয়া সহযোগী হিসেবে পাশে পেয়েছে নতুন শতাব্দীর দৈনিক শ্যামল সিলেটকে। কঠোর লকডাউনের সময় স্বেচ্ছাশ্রমে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রত্যেহ ৩ ঘন্টা কাজ করেন নগর পরিচ্ছন্ন ও জীবানুমুক্ত করতে। তাদের এমন কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ হয়েছেন পথচারীসহ সিলেটের সচেতন মহল।

রবিবার (৪ জুলাই) সকালে স্টুডেন্ট ইউনিটির কার্যক্রমে যোগ দিতে আসেন দক্ষিণ সুরমার নবারুন হাই স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারী শিক্ষক মো. মুনতাজ আলী মাসুদ।

তিনি বলেন, দেশে যখন মানুষ গৃহবন্দী তখন নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে এই ‍যুবকরা কাজ করে যাচ্ছে এটা প্রংশসার দাবিদার। আমার কোনো কিছু খেয়ে তার প্যাকেট বা হাতের বোতল রাস্তার পাশে ফেলে দেই। কিন্তু যদি নিজের দায়বোধ থাকতো তাহলে তার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতাম।

Manual3 Ad Code

প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের শহরটাকে দূষিত করছি। তাদের সাথে সবাই এগিয়ে আসা উচিত। তাদের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

বনফুল এন্ড কোম্পানির চৌহাট্টা শাখার গ্রুপ লিডার মো. খোকন তালুকদার বলেন, আমরা কতটা অসচেতন তা আমাদের আশপাশ দেখলেই বোঝা যায়। ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন রাখা থাকে। কিন্তু তার ব্যবহার করা হয় না। অবাক লাগছে যখন মানুষ ঘুমের মধ্যে তখন যুবকরা মিলে শহরটাকে পরিষ্কার করছে। কতটা বড় মনের মানুষ হলে এমন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব তাদের দেখলে বুঝা যায়।

Manual3 Ad Code

সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা বদরুল আজাদ রানা বলেন, নগরী পরিস্কার থাকলে মানুষও সুস্থ থাকবে। তাই করোনার এই কঠিন সময়ে নিজের ব্যবহার্য জিনিসপত্র রাস্তাঘাটে না ফেলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। তাতে অন্যের স্বাস্থ্যেরও সুরক্ষা হবে। নগর পরিচ্ছন্ন থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমরে অংশ হিসেবে জিন্দাবাজর থেকে দরগাহ গেইট পর্যন্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রাস্তা ও ফুটপাতে জীবানুনাশক স্পে করেছি।

পর্যায়ক্রমে পুরো নগরী পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে স্যানিটাইজ করার লক্ষ্যে স্টুডেন্ট ইউনিটির ৫১ সদস্য স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৮২ বার

Share Button

Callender

April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930