শিরোনামঃ-

» প্রধান বিচারপতি সমীপে ২০১৭ সালের অনুষ্ঠিতব্য এডভোকেটশীপ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী রিভিউ প্রার্থীদের খোলাচিঠি

প্রকাশিত: ২১. আগস্ট. ২০১৮ | মঙ্গলবার

সিলেট বাংলা নিউজ ডেস্কঃ 

মাননীয় প্রধান বিচারপতি সমীপে খোলাচিঠি

বরাবর,

চেয়ারম্যান, এনরোলমেন্ট কমিটি, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও প্রধান বিচারপতি, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট, ঢাকা।

বিষয়: ২০১৭ সালের অনুষ্ঠিতব্য এডভোকেটশীপ লিখিত পরীক্ষার খাতা রিভিউ করার আবেদন প্রসংগে।

মহোদয়,

আপনি বিজ্ঞ জন। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাকারী এবং আইনের প্রধান রক্ষক। রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় আপনি সর্বোচ্চ ব্যাক্তি। ন্যায় বিচারের ধারক ও বাহক।

আমরা ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য এডভোকেটশীপ লিখিত পরিক্ষায় অংশগ্রহণকারী। ৭টি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর লেখা সত্বেও দুর্ভাগ্যবশত পরীক্ষার ফলাফলে নাম না থাকার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত অভাবনীয় ও দুর্ভাগ্যজনক।

আমরা মনে করি কোথাও ভুল কিংবা অনিয়ম হয়েছে; তাই আমরা আমাদের খাতা রিভিউ করার আবেদন গ্রহণ করার জন্য সবিনয় আবেদন করছি। রিভিউ’র স্বপক্ষে আমাদের যুক্তিসমুহ আপনার সদয় বিবেচনার জন্যে উপস্থাপন করছি-

রিভিউ আবেদন করার কারন সমুহ:

  • আমরা ৭টি প্রশ্নের উত্তর যথাযথ ও পুংখানুপুংখ বিশ্লেষণ সাপেক্ষে উত্তরপত্রে লিখেছি; তাই পাশের ব্যাপারে শতভাগ আত্ববিশ্বাসী।
  • আমরা নিশ্চিত যে ফলাফল প্রকাশে কোন প্রকার ভুল-ভ্রান্তি হয়েছে কিংবা কতিপয় অসাধু কর্মচারী কর্তৃক দুর্নীতির শিকার হয়েছি।
  • দেশে প্রচলিত প্রায় সব পাবলিক পরীক্ষায় রিভিউ’র ব্যবস্থা রয়েছে। অনাকাংখিত ভুলে অনিয়ম এর কারনে যোগ্য পরীক্ষার্থী যাতে ভাগ্য বিড়াম্বনার শিকার না হয়।রিভিউ ব্যবস্থা পরীক্ষা পদ্ধতি স্বচ্ছতার ও অন্যতম বৈশিষ্ঠ। এডভোকেটশীপ লিখিত পরীক্ষা- ২০১৪ সালেও রিভিউ’র আবেদন করে অনেকেই কৃতকার্য হয়েছে।
  • MCQ পরীক্ষায় OMR পদ্ধতি আছে কিন্তু লিখিত পরীক্ষার পদ্ধতিটি বেশ ত্রুটিপূর্ণ এবং বিতর্কিত । এখানে ভুল কিংবা অসাধুভাবে সুযোগ গ্রহনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। একটা টুকরা কাগজে নাম লিখতে হয়। এই ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে অসাধু কর্মচারীরা উত্তর পত্র বদলানোর সুযোগ নিতে পারে; যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ মেধাবী ছাত্রের খাতাটি মেধাহীন ছাত্রের নামে অন্তর্ভুক্ত করে মেধাহীন ছাত্রকে অর্থের লালসায় পাশ করিয়ে দিতে পারে।
  • ফলাফল টাইপ করার সময়ও অনেকবার সার্ভার ফল্ট করেছে ফলে একজনের রেজাল্ট অন্যের নামে লিপিবদ্ধ হওটাও স্বাভাবিক।
  • রেজাল্টশীট টাইপ করার সময়ও পাশ করা ছাত্রের জায়গায় ফেল করা ছাত্রের নাম অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব।
  • এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরীক্ষা কোন চাকুরীর পরীক্ষা না। রিভিউ ‘র ফলে অনাকাংখিতভাবে অকৃতকার্য ছাত্ররা যদি কৃতকার্য হয় তাহলে অন্য কাহারো ক্ষতির কারন হইবেনা।
  • মহোদয় আপনি অবগত আছেন যে, ৩ বছর অপেক্ষা করার পর বহু প্রতিক্ষিত এডভোকেটশীপ পরীক্ষার সুযোগ পেয়ে MCQ’র মতো কঠিন পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা করে উর্ত্তীর্ন হওয়ার পর এবং অনেকে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
  • নিশ্চিত পাশ করার মতো পরীক্ষা দেওয়ার ১০ মাস পর যদি জানতে পারে ছাত্রটি অকৃতকার্য। এজন্যে ছাত্রটিকে পুনঃরায় MCQ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ এর জন্যে অনির্দিষ্টকালের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে যা পরীক্ষার্থীদের উপর এক ধরনের অবিচার ও নির্মম উপহাস।
  • মহোদয় আপনি ন্যায় বিচারের প্রতীক। আপনি রাষ্ট্রর সর্বোচ্চ আইনী কর্মকর্তা। অসহায় ও বিচার প্রার্থী মানুষের শেষ আশ্রয় স্থল। আপনার নিকট ন্যায় বিচার পাব এটাই আমাদের চূড়ান্ত প্রত্যাশা।

অতএব, উপরোক্ত সকল দিক বিবচনা করে মানবিক এবং ন্যায় সংগত কারনে হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে রিভিউ কমিটি গঠন করে আমাদের নিকট হইতে প্রয়োজনীয় ফি গ্রহণ করে স্বহস্তে লিখিত দরখাস্তের সাথে আমাদের পরীক্ষার উত্তরপত্র মিলিয়ে দেখে রিভিউ প্রসংগে বহুল আকাংখিত ও প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে মহোদয়ের সদয় মর্জি হয়।

আপনার একান্ত অনুগত

এডভোকেটশীপ লিখিত পরীক্ষায় রিভিউ প্রত্যাশীদের পক্ষে-

উত্তম কুমার তারণ

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৫২৩ বার

Share Button

Callender

October 2019
M T W T F S S
« Sep    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031