শিরোনামঃ-

» “ইসলামী ব্যাংকে যারা আছেন সরে না গেলে দুদকে আসা-যাওয়া করতে হতে পারে”

প্রকাশিত: ২৪. মে. ২০১৭ | বুধবার

Manual3 Ad Code
ডেস্ক সংবাদঃ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ভাইস-প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সদ্য অপসারিত আহসানুল আলম আশঙ্কা করছেন বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় এই বাণিজ্যিক ব্যাংকটির পরিণতি বেসিক ব্যাংকের মতোই হতে পারে।

মঙ্গলবার (২৩ মে) ঢাকায় ইসলামী ব্যাংকের ৩৪তম সাধারণ সভা শেষে আহসানুল আলমকে ভাইস-প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেবার কথা জানানো হয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে তীব্র বিভক্তির জের ধরে এ সিদ্ধান্ত এসেছে।

অপসারিত হবার পর আহসানুল আলম বলেন, তিনি ইসলামী ব্যাংকে সম্ভাব্য ‘বিপদ’ দেখতে পাচ্ছেন।

‘বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনার মুখে আমরা ভাবছিলাম- এ ব্যাংক থেকে সরে না গেলে ভবিষ্যতে যারা এ ব্যাংকে আছেন, তাদেরকে হয়তো দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) আসা-যাওয়া করতে হতে পারে।’ -বলছিলেন আলম।

সদ্য অপসারিত ভাইস-প্রেসিডেন্ট আহসানুল আলম গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংবাদ মাধ্যমে বলছিলেন- ইসলামী ব্যাংক নানা রকম ঝুঁকির মধ্যে আছে। এই বক্তব্যের পর ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খানের সাথে তার দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

আলম এমন অভিযোগও করেছেন যে তাকে পদত্যাগের জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে।

‘আমি যে একটা অ্যাকসিডেন্ট করা ট্রেন থেকে নেমে যেতে পেরেছি, যে প্লেনটি ক্র্যাশ করতে যাচ্ছে -সেখান থেকে আল্লাহ আমাকে নামিয়ে দিয়েছেন। আমি মানসিকভাবে অনেক হালকা বোধ করছি, এটাও সত্য কথা,’ -বলছিলেন আলম।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংক যেভাবে চলছে, তাতে মোটেও খুশি হতে পারছেন না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।

বেসিক ব্যাংককে এক সময় সরকারি মালিকানার সবচেয়ে ভালো ব্যাংক হিসেবে মনে করা হতো। তবে ব্যাংকটিতে খেলাপী ঋণের পরিমাণ এখন অত্যন্ত বেশি। বেসিক ব্যাংক লুটপাটের শিকার হয়েছে এমনকি এমন ধরণের বক্তব্যও শোনা গেছে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

প্রায় ছয় মাস আগে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সরকারের নেপথ্য হস্তক্ষেপে এটা হয় বলে তখন গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল।

অনেকে ধারণা করেন- ইসলামী ব্যাংকে জামায়াতে ইসলামীর যে প্রভাব ছিল, তা থেকে মুক্ত করতেই ব্যাংকে এ পরিবর্তন আনা হয়। কারণ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের আগের অনেক সদস্যরা জামায়াতে ইসলামীর সাথে ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু নতুন পরিচালনা পর্ষদে দ্বন্দ্ব ধীরে-ধীরে প্রকাশ্য হয়ে উঠে।

ইসলামী ব্যাংকে অনিয়মের কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেও আহসানুল আলম উল্লেখ করেন। তবে কী ধরণের অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেননি তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ মে) ঢাকার সেনানিবাস এলাকায় কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে ইসলামী ব্যাংকের ৩৪তম সাধারণ বার্ষিক সভা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আলম। এ সভায় যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদের অনেকেই শেয়ার হোল্ডার নয় বলে তিনি দাবি করেন।

Manual8 Ad Code

সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে- শেয়ারহোল্ডারদের অনেকে তাদের দেয়া বক্তব্যে আহসানুল আলমকে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে যারা ব্যাংকের ভেতরে ‘বিভেদ সৃষ্টি’করছে তাদের অপসারণ করা উচিত।

তবে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান এসব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন- ইসলামী ব্যাংক সঠিক পথেই আছে এবং ভবিষ্যতেও সেটি বজায় থাকবে।

আরাস্তু খান বলেন- আহসানুল আলম ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যমে এমন কিছু বক্তব্য তুলে ধরেছেন, যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই।

‘তিনি বলেছেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জাকাত তহবিলে ৪৫০ কোটি টাকা দিয়ে দিতে হবে। দিজ থিঙস ওয়্যার নেভার ডিসকাসড (এসব বিষয়ে কখনোই আলোচনা হয়নি),’ – বলছিলেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান।

Manual5 Ad Code

তিনি বলেন- ইসলামী ব্যাংকের লাভ হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকার মতো। তাহলে প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ৪৫০ কোটি টাকা কীভাবে যাবে সে প্রশ্ন তোলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন- মঙ্গলবার (২৩ মে) যে বার্ষিক সাধারণ সভা হয়েছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন সুযোগ নেই।

ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ সভায় যোগ দেয়াদের সবাই শেয়ারহোল্ডার বলে দাবি করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকটি সঠিক পথেই আছে বলে দাবি করেন আরাস্তু খান। তিনি বলেন- ইসলামী ব্যাংকের মূল আদর্শ যেখান থেকে তারা কখনোই সরে আসবে না। ইসলামী শরিয়া-ভিত্তিক ব্যাংকিং ইসলামী ব্যাংকের সফলতার মূল কারণ বলে মনে করেন বর্তমান চেয়ারম্যান।

Manual8 Ad Code

‘বাংলাদেশের মানুষ চোখ বন্ধ করে ইসলামী ব্যাংকে টাকা রাখে। অনেক মানুষ আছে ইসলামী শরিয়ার জন্য এখানে আসে’- বলছিলেন আরাস্তু খান।

Manual5 Ad Code

ব্যাংকের মৌলভিত্তি ইসলামী শরিয়া থেকে কোন বিচ্যুতি ঘটলে তিনি সেখানে থাকবেন না বলে উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান।

সদ্য অপসারিত ভাইস-চেয়ারম্যান আহসানুল আলম সম্প্রতি গণমাধ্যমে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন- সেগুলোর প্রসঙ্গ টেনে বিষয়টিকে ‘বিব্রতকর’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

আহসানুল আলম ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে না থাকলেও ইসলামী ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকের পদে থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৯৪ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031