শিরোনামঃ-

» শিশু তাহসিন নৌকা থেকে পড়ার সময় চিৎকার করেছিল ‘চাচ্চু বাঁচাও’

প্রকাশিত: ০৫. এপ্রিল. ২০১৭ | বুধবার


Manual8 Ad Code

ডেস্ক সংবাদঃ ‘চাচ্চু, বাঁচাও বাঁচাও!’ নৌকা উল্টে চাচা হাসানের কোল থেকে সাগরের পানিতে ছিটকে পড়ার মুহূর্তে এভাবেই চিৎকার করেছিল ছোট্ট তাহসিন (৯)। উত্তাল ঢেউয়ে চাচা শুধু শুনতে পেয়েছিলেন এ ৩টি শব্দ। এখন সে কথা বারবার বলে জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। আর নিজের কোল থেকে শিশুকন্যা নিহার (৫) ছিটকে পড়ার দৃশ্য বিভীষিকার মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে মা নুরনাহার বেগমকে। ক্ষণে ক্ষণে শুধু ‘নিহা’, ‘তাহসিন’ বলে ডেকে যাচ্ছেন তিনি।

Manual3 Ad Code

নৌকাডুবির ৩ দিন পর আজ বুধবার (৫ এপ্রিল) সকালে এই ২ ছোট্ট শিশুর মরদেহ পাওয়া গেল দুর্ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে। কাছাকাছি সময়ে মিললো পূর্ব মাইটভাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের মরদেহ। এ নিয়ে দুর্ঘটনার পর গত তিন দিনে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

গত রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপেজলার গুপ্তছড়া ঘাটে নৌকাডুবির এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত নৌকার যাত্রীরা সি ট্রাকের যাত্রী ছিলেন।

Manual6 Ad Code

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ঘাট থেকে যাত্রীরা প্রথমে সি ট্রাকে ওঠেন। ঘাট থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটের অদূরে সি ট্রাকটি পৌঁছে। ওই সব সি ট্রাক তীরে ভিড়তে না পারায় তীরে যাত্রী পারাপার করা হয় ইঞ্জিনচালিত লাল নৌকা (জাহাজের লাইট বোট) দিয়ে। ওই সন্ধ্যায় সি ট্রাক থেকে নেমে যাত্রীরা নৌকায় রওনা দেওয়ার কিছু পরেই প্রবল বাতাসে তা উল্টে যায়। নৌকাটিতে সি ট্রাকের আনুমানিক ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী ছিল নৌকায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ৩০ জনকে উদ্ধার করে।

আজ বুধবার (৫ এপ্রিল) সকালে উদ্ধার করা ৩ জনের মরদেহ নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে মরদেহগুলো উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া মুঠোফোনে সাংবাদিককে বলেন, ৩ টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তারা নিহত ব্যক্তিদের বাড়িতে যাচ্ছেন।

২ শিশু তাহসিন ও নিহা চাচার বিয়েতে সন্দ্বীপ যাচ্ছিল। তাহসিন পড়ত চট্টগ্রামের হালিশহরের মাস্টারমাইন্ড আইডিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে। নিহা একই স্কুলে প্লে শ্রেণিতে পড়ত। তাদের কাতারপ্রবাসী চাচা হাসানের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল আগামী শুক্রবার। দুর্ঘটনার খবর শোনার পর দুই শিশুর বাবা মুসলিম উদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার কাতার থেকে চট্টগ্রামে ফিরেছেন।

মুসলিম উদ্দিনের ফুপাতো ভাই ইব্রাহিম রায়হান সাংবাদিককে বলেন, ২ শিশুর বাবা সন্দ্বীপে রওনা হয়েছেন। পরিবারের কেউ কথা বলতে পারছে না। বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

Manual8 Ad Code

স্বজনেরা জানান, দুর্ঘটনার সময় নিজেদের হাত থেকে দুই শিশুর ছিটকে পড়ার দৃশ্য ভুলতে পারছেন না চাচা ও মা। তাঁরা স্বাভাবিক হতে পারছেন না। চিকিৎসা নেওয়ার পর তাহসিনের চাচা মো. হাসান ও মা নুরনাহারকে বাড়িতে বিশ্রামে রাখা হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫১১ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031