শিরোনামঃ-

» সিলেটে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’-এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১৭. অক্টোবর. ২০২৬ | শনিবার

Manual3 Ad Code

‘আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

নিউজ ডেস্কঃ

‘আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে অরাজনৈতিক ও অসাম্প্রদায়িক সামাজিক সংগঠন ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে সিলেটে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বারুতখানাস্থ একটি হোটেলের হলরুমে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ধর্মীয় প্রতিনিধি, বাউল শিল্পী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

Manual1 Ad Code

সভায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সামসুল হুদা, যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আয়শা খাতুন ও শফিকুল ইসলাম বিক্রমপুরীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Manual6 Ad Code

এ ছাড়া বক্তব্য দেন, নজরুল একাডেমির অধ্যক্ষ ও সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস, বাউল ঐক্য পরিষদ সিলেট বিভাগের সভাপতি বিরহী কালা মিয়া, বাউল শিল্পী শাহারুল রেজা ও জয়নাল আবেদীন, সিলেট বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ দীপংকর বংশ ভিক্ষু, সাংবাদিক মামুন হোসেন ও ছালেহ আহমদ হোসাইন, ব্যবসায়ী রেজাউল করিম, ইমাম রফিকুল ইসলাম, এবি পার্টির সিলেট জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট অরূপ সেন বাপ্পী, সিডিসি সভাপতি মেলা বেগম, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সিলেটের সংগীত সম্পাদক সন্দীপ দেব, হোমিও চিকিৎসক সুমন আহমেদ, শাহজালাল (রহ.) মাজার শরিফের খাদেম দেলোয়ার হোসেন এবং বেতারশিল্পী আব্দুল খালিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ কোন একক ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠীর নয়; এ দেশ সবার।

ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ সংগঠনের মূল লক্ষ্য।

Manual3 Ad Code

সমাজ থেকে উগ্রতা, বৈষম্য, বিভেদ ও বিদ্বেষ দূর করে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

Manual2 Ad Code

বক্তারা আরও বলেন, অলি-আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেটের রয়েছে দীর্ঘ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সমৃদ্ধ ইতিহাস।

কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, উগ্রতা এবং মাজার ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁরা বলেন, অন্যায় ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নীরবতা উগ্রবাদী শক্তিকে উৎসাহিত করতে পারে। তাই সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।

দেশের যেকোন প্রান্তে কোন ব্যক্তি কিংবা সংখ্যালঘু পরিবার বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার হলে দল-মত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অরাজনৈতিকভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

বিভাজন নয়, ঐক্য; বিদ্বেষ নয়, ভালোবাসা-এই চেতনাকে ধারণ করে একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ জানান, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, নাগরিক অধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে জেলা পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক মতবিনিময় কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত রাখা হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৬ বার

Share Button

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031